পিরোজপুরের ভাণ্ডারিয়া উপজেলায় হিন্দু মুদি ব্যবসায়ী স্বপন কুমার বল ওরফে কালু বল (৫৫) হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেছে এলাকাবাসী।
শুক্রবার (২৬ ডিসেম্বর) বিকেলে ভাণ্ডারিয়া উপজেলার নদমূলা শিয়ালকাঠী ইউনিয়নের বলবাড়ি নামক স্থান থেকে কলোনি বাজার পর্যন্ত এ মানববন্ধন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। এতে এলাকার শত শত নারী-পুরুষ, স্থানীয় ব্যবসায়ী, নিহতের স্বজন এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন। মানববন্ধন শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়, যা কলোনি বাজারে গিয়ে পথসভায় পরিণত হয়।
এ সময় বক্তারা বলেন, স্বপন কুমার বল ছিলেন একজন শান্তিপ্রিয়, সৎ ও পরিশ্রমী সনাতনী ব্যবসায়ী। তাকে নিজ দোকানের ভেতরে ঢুকে নৃশংসভাবে হত্যা করার ঘটনা পুরো এলাকায় চরম আতঙ্ক ও নিরাপত্তাহীনতা তৈরি করেছে। দ্রুত সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দোষীদের শাস্তি নিশ্চিত না হলে ভবিষ্যতে এ ধরনের অপরাধ আরও বেড়ে যাবে বলে তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ২২ ডিসেম্বর রাত আনুমানিক দেড়টার দিকে ভাণ্ডারিয়া উপজেলার নদমূলা শিয়ালকাঠী ইউনিয়নের দক্ষিণ শিয়ালকাঠী গ্রামের বলবাড়ি এলাকায় নিজ মুদি দোকানে অবস্থান করছিলেন স্বপন কুমার বল। এ সময় অজ্ঞাতনামা দুর্বৃত্তরা চুরির উদ্দেশ্যে দোকানে প্রবেশ করে। দোকান মালিক বাধা দিলে তারা ইট দিয়ে তার মাথায় আঘাত করে গুরুতর আহত করে এবং দোকান থেকে নগদ টাকা ও মূল্যবান মালামাল লুট করে নিয়ে যায়।
পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে ভাণ্ডারিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং পরে কেএমসি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) সকাল ৬টা ৫৫ মিনিটে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা দাবি করেন, এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। শুধুমাত্র একজন কিশোরের পক্ষে এ ধরনের নৃশংস ঘটনা সংঘটন করা সম্ভব নয়। ঘটনার পেছনে আরও কেউ জড়িত রয়েছে কিনা, তা গভীরভাবে তদন্ত করে সবাইকে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান তারা।
ভাণ্ডারিয়া থানা পুলিশ জানায়, ঘটনার পরপরই অভিযান চালিয়ে শুভজিৎ (১৬) নামের এক কিশোরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তার কাছ থেকে চুরি হওয়া মালামাল উদ্ধার এবং হামলায় ব্যবহৃত ইট জব্দ করা হয়েছে। তবে তদন্ত এখনও চলমান এবং ঘটনার সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত আছে কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তা মোজাম্মেল হোসেন খান, বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল আলী বাহাদুর, অধ্যাপক সলিল কুমার বল, ছাত্রনেতা ইদ্রিস হাওলাদার, ভিডিও নির্মাতা মহিউদ্দিন শামীমসহ আরও অনেকে। নিহতের কন্যা শম্পা রানী কান্নাজড়িত কণ্ঠে তার বাবার হত্যাকারীদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানান।
এলাকাবাসী হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, দ্রুত প্রকৃত দোষীদের শাস্তি নিশ্চিত না হলে ভবিষ্যতে আরও কঠোর আন্দোলন কর্মসূচি দেওয়া হবে। মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়।


মতামত