সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, চট্টগ্রামের আকাশ দাস, অঞ্জন মল্লিক, সিরাজগঞ্জের তাপস মাহাতো, চাঁদপুরের অলোক মোহন্ত, কক্সবাজারের কৌশিক বড়ুয়া, মুন্সীগঞ্জের রেখা রাণীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় সাম্প্রতিক সময়ে ঘটে যাওয়া খুন, নির্যাতন, জমি দখল ও চাঁদাবাজির ঘটনার প্রতিবাদে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
মানববন্ধন শেষে বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু মহাজোটের সভাপতি অ্যাডভোকেট দীনবন্ধু রায়-এর সভাপতিত্বে এক পথসভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে বক্তব্য দেন সংগঠনের নির্বাহী সভাপতি অ্যাডভোকেট প্রদীপ কুমার পাল, প্রধান সমন্বয়কারী বিজয় কৃষ্ণ ভট্টাচার্য, মহাসচিব অ্যাডভোকেট গোবিন্দ চন্দ্র প্রামাণিক, যুগ্ম মহাসচিব নকুল কুমার মণ্ডল, অ্যাডভোকেট শুভ মজুমদার, সহ বর্ম বিষয়ক সম্পাদক সঞ্জয় চক্রবর্তী, ঢাকা মহানগরের সভাপতি শ্যামল ঘোষ, হিন্দু যুব মহাজোটের সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার মৃণাল কান্তি মধু, সাধারণ সম্পাদক সুজন গাইন, অর্থ সম্পাদক মধার মিত্র, ছাত্র মহাজোটের সভাপতি সজিব কুন্ডু, সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বাণীব্রত সাহা, দপ্তর সম্পাদক সজিব দাস, গণমাধ্যম বিষয়ক সম্পাদক শুভজিৎ চক্রবর্তী, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সদস্য সচিব নূপুর বসাক, ঢাকা মহানগর উত্তরের নেতা অণু রায়, সবুজ দত্ত, বিষ্ণু বর্মনসহ আরও অনেকে।
সমাবেশে বক্তারা অভিযোগ করে বলেন, বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর হিন্দু সম্প্রদায় আশা করেছিল ফ্যাসিবাদী শাসনের অবসানের মধ্য দিয়ে তারা স্বস্তি পাবে, নির্যাতন কমবে এবং বৈষম্য দূর হবে। কিন্তু বাস্তবে সেই প্রত্যাশা পূরণ হয়নি। তাদের দাবি, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সংবিধান সংস্কার কমিটি, নির্বাচন সংস্কার কমিটিসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে হিন্দু সম্প্রদায়কে উপেক্ষা করা হয়েছে এবং তাদের মতামত গ্রহণ করা হয়নি।
বক্তারা আরও বলেন, দেশের জনসংখ্যার অনুপাতে জাতীয় সংসদে হিন্দু সম্প্রদায়ের কমপক্ষে ৩০ জন প্রতিনিধির থাকা উচিত, কিন্তু বর্তমানে সেখানে হিন্দু সম্প্রদায়ের কার্যকর প্রতিনিধিত্ব নেই বললেই চলে। তারা অভিযোগ করেন, বর্তমানে সংসদে থাকা অল্পসংখ্যক সদস্যও নিজেদের হিন্দু পরিচয় স্পষ্টভাবে তুলে ধরেন না, ফলে জাতীয় সংসদ কার্যত হিন্দু প্রতিনিধিশূন্য হয়ে পড়েছে। একই সঙ্গে মন্ত্রিসভাতেও হিন্দু সম্প্রদায়ের অবস্থান অত্যন্ত দুর্বল বলে দাবি করেন তারা।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, স্বাধীনতার প্রাক্কালে দেশে হিন্দু জনসংখ্যা ছিল প্রায় ২২ শতাংশ, যা বর্তমানে কমে প্রায় ৮ শতাংশে নেমে এসেছে। তাদের মতে, রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্বের অভাব, নিরাপত্তাহীনতা, সামাজিক বৈষম্য এবং ধারাবাহিক নির্যাতনের কারণে হিন্দু সম্প্রদায় ধীরে ধীরে অস্তিত্ব সংকটে পড়ছে। তারা আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, বর্তমান পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে আগামী ১৫ থেকে ২০ বছরের মধ্যে দেশে হিন্দু জনসংখ্যা আরও বিপজ্জনকভাবে হ্রাস পেতে পারে।
বক্তারা দেশের বিভিন্ন স্থানে হামলা, অগ্নিসংযোগ, খুন, খুনের চেষ্টা, হত্যার হুমকি, জমি দখল, প্রতিমা ভাঙচুর, সংখ্যালঘু পরিবারকে দেশত্যাগে বাধ্য করা, কিশোরী অপহরণ, জোরপূর্বক ধর্মান্তর, চুরি-ডাকাতি ও চাঁদাবাজির মতো ঘটনার তীব্র নিন্দা জানান। তারা বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তৎপর থাকলেও বাস্তবে সংখ্যালঘুদের ওপর অপরাধের হার কমছে না, বরং দিন দিন তা বাড়ছে। তাই তারা সকল সংখ্যালঘু নির্যাতন, হামলা ও হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
একই সঙ্গে সংখ্যালঘু নির্যাতন ও দেশত্যাগ বন্ধে, এবং ধর্মীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে জাতীয় সংসদসহ রাষ্ট্রের সর্বস্তরে সংরক্ষিত আসন চালু এবং পৃথক নির্বাচন ব্যবস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠার দাবি পুনর্ব্যক্ত করেন নেতারা।
প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু মহাজোটের মহাসচিব গোবিন্দ চন্দ্র প্রামাণিক স্বাক্ষর করেন।
মতামত