সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার ৮নং তাড়ল ইউনিয়নের বাউসী গ্রামে হত্যা মামলার আসামি চান মিয়ার বিরুদ্ধে পুনরায় জমি দখল, হুমকি-ধমকি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের অভিযোগে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। পরিস্থিতির প্রতিবাদে এবং দোষীদের দ্রুত সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে শনিবার (৪ এপ্রিল ২০২৬) মানববন্ধন করেছেন স্থানীয় গ্রামবাসী ও আশপাশ এলাকার মানুষজন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৭ সালের দিকে চান মিয়া বাউসী গ্রামের বাসিন্দা কামিনী দাসের পুকুরে পাহারাদার হিসেবে কাজ নেন। পরবর্তীতে তিনি সেই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে ধীরে ধীরে কামিনী দাসের মালিকানাধীন জমি দখল করে সেখানে বসবাস শুরু করেন। বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার কারণে চান মিয়াকে একাধিক এলাকা থেকে বিতাড়িত করা হয়েছিল বলেও অভিযোগ রয়েছে।
গত বছরের ২৬ এপ্রিল তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বাউসী গ্রামে প্রান্ত দাস হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়। এ ঘটনায় চান মিয়া, তার ছেলে শাকিলসহ মোট পাঁচজনকে আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়। পরবর্তীতে তারা কারাবাস শেষে সম্প্রতি জামিনে মুক্তি পান।
অভিযোগ উঠেছে, জামিনে মুক্তি পাওয়ার পর চান মিয়া আবারও কামিনী দাসের জমি দখলের চেষ্টা করছেন। এ বিষয়ে আদালত ফৌজদারি কার্যবিধির ১৪৪ ধারা জারি করলেও তা অমান্য করে গভীর রাতে টিনের ঘর নির্মাণের মাধ্যমে জমিতে অবৈধভাবে বসতি স্থাপনের চেষ্টা করা হয়।
ভুক্তভোগী কামিনী দাস জানান, “রাতে আমার জমিতে ঘর নির্মাণের খবর পেয়ে সেখানে গেলে চান মিয়া রামদা হাতে আমাকে প্রাণনাশের হুমকি দেয়। সে বলে, একটি খুন করেছি, প্রয়োজনে আরও করব। জায়গা নিয়ে বাড়াবাড়ি না করতে বলে।” তিনি আ*শঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, তার পরিবারের ক্ষতি করে অন্যের ওপর দায় চাপানোর চেষ্টাও করা হতে পারে।
এছাড়াও স্থানীয়দের অভিযোগ, চান মিয়া দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় গরু-ছাগল চুরি, নিরীহ মানুষকে মারধর এবং নারীদের উত্ত্যক্ত করার মতো নানা অপরা*ধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত। তার ভয়ভীতি ও হুমকির কারণে গ্রামবাসী চরম নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাচ্ছেন।
মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা বলেন, “একটি হত্যাকাণ্ডের আসামি হয়েও সে প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে এবং আবারও অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে। আমরা প্রশাসনের কাছে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ ও সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।”
গ্রামবাসীর দাবি, বাউসী গ্রামে শান্তি ও নিরাপত্তা ফিরিয়ে আনতে দ্রুত প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ প্রয়োজন। অন্যথায় যে কোনো সময় বড় ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটতে পারে বলে তারা আশঙ্কা করছেন।
মতামত