স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, একই ইউনিয়নের বারদা গ্রামের সামাদ গাজী এই অবরুদ্ধতার মূল হোতা। এলাকাবাসীর ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি প্রভাবশালী হওয়ায় আইন-কানুনের তোয়াক্কা না করেই দীর্ঘদিন ধরে নানা অপকর্ম করে আসছেন। তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ থাকলেও ভয়ভীতি ও প্রভাবের কারণে কেউ প্রকাশ্যে মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছেন না।
অবরুদ্ধ করার মধ্যেই বিষয়টি সীমাবদ্ধ নেই। মাধবী মণ্ডলের বাড়ির চারপাশে একাধিক সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। এসব ক্যামেরার মাধ্যমে বাড়ির ভেতরের চলাফেরা, পরিবারের সদস্যদের দৈনন্দিন কার্যক্রম পর্যন্ত নজরদারির আওতায় রাখা হচ্ছে বলে অভিযোগ। ফলে পরিবারটির ব্যক্তিগত গোপনীয়তা চরমভাবে লঙ্ঘিত হচ্ছে। নিজের ঘরের ভেতরেও নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন তাঁরা। প্রতিনিয়ত নজরদারির আশঙ্কায় পরিবারটি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছে।
আজ দুপুরে মাধবী মণ্ডলের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায় এক অসহায় নারীর নীরব আর্তনাদ। কথা বলতে গিয়ে বারবার কণ্ঠ রুদ্ধ হয়ে আসে তাঁর। চোখে জমে থাকা ক্ষোভ আর অসহায়ত্বের জল নিয়ে তিনি জানান, তাঁর নিজের জমি দখল হয়ে গেছে এবং সেই জমি ফিরে পাওয়ার জন্য দীর্ঘদিন ধরে চেষ্টা করেও কোনো প্রতিকার পাননি। এর পাশাপাশি এই অমানবিক অবরুদ্ধতা ও নজরদারি থেকে মুক্তি চান তিনি।
মাধবী মণ্ডল বলেন,
“আমি কারও ক্ষতি চাই না। শুধু আমার নিজের জমিটুকু ফেরত চাই, চাই ব্যক্তিগত নিরাপত্তা আর শান্তিতে বেঁচে থাকার অধিকার। একটি স্বাধীন দেশের নাগরিক হিসেবে স্বাধীনভাবে বাঁচার সুযোগ তো আমারও থাকার কথা।”
তিনি সংশ্লিষ্ট প্রশাসন, জেলা কর্তৃপক্ষ ও উপদেষ্টা পরিষদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে দ্রুত হস্তক্ষেপের আহ্বান জানান। তাঁর দাবি, অবিলম্বে অবৈধ তারকাঁটা ও সিসি ক্যামেরা অপসারণ করে পরিবারটির নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হোক এবং জমি দখলের ঘটনায় নিরপেক্ষ তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হোক।
একটি স্বাধীন দেশের বুকে দাঁড়িয়ে একজন সংখ্যালঘু নারীর এই আকুতি আজ রাষ্ট্র ও সমাজের সামনে এক গভীর প্রশ্ন তুলে ধরছে—আইনের সুরক্ষা কি কেবল প্রভাবশালী ও শক্তিশালীদের জন্যই, নাকি সাধারণ নাগরিকের অধিকার রক্ষায়ও রাষ্ট্র সমানভাবে দায়বদ্ধ?
মতামত