বগুড়ার আদমদীঘিতে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের পবিত্র ধর্মীয় উৎসব হরিবাসর অনুষ্ঠান চলাকালীন শাঁখা, সিঁদুর ও হিন্দু পোশাক পরে মন্দিরে ছদ্মবেশে প্রবেশ করার সময় দুই মুসলিম নারীকে আটক করেছে স্থানীয় জনতা। গত বুধবার (৮ এপ্রিল) সন্ধ্যায় উপজেলার নসরতপুর ইউনিয়নের বরবড়িয়া গ্রামস্থ সার্বজনীন পূজা মন্দিরে এই চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটে। পবিত্র ধর্মীয় অনুষ্ঠানের মাঝে ভিন্ন ধর্মাবলম্বী নারীদের এমন রহস্যজনক অনুপ্রবেশে এলাকায় চরম উত্তেজনা ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।
ঘটনা সূত্রে জানা যায়, বরবড়িয়া গ্রামের মন্দিরে তখন ভক্তিভরে হরিবাসর উদযাপিত হচ্ছিল। ঠিক সেই মুহূর্তে হাতে শাঁখা-বালা এবং কপালে সিঁদুর লাগিয়ে হিন্দু রমণীর বেশে দুই নারী মন্দিরের ভেতর প্রবেশ করেন। তাদের চলাফেরা ও গতিবিধি সন্দেহজনক মনে হলে উপস্থিত পুণ্যার্থীরা তাদের পরিচয় জানতে চান। জিজ্ঞাসাবাদে তারা অসংলগ্ন কথাবার্তা বলতে শুরু করেন এবং এক পর্যায়ে স্বীকার করেন যে তারা মূলত মুসলিম। কোনো বিশেষ উদ্দেশ্য নিয়ে তারা হিন্দু সেজে মন্দিরে ঢুকেছিলেন কি না, তা নিয়ে উপস্থিত হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষের মাঝে সন্দেহের সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে স্থানীয়রা তাদের আটক করে তাৎক্ষণিক পুলিশে খবর দেন।
আটককৃত নারীরা হলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নাসিরনগর উপজেলার ডরমন্ডল চকবাজার গ্রামের সাইফুল ইসলামের স্ত্রী শেরফুল আক্তার সুপ্ততা (২৫) এবং হবিগঞ্জ জেলার মাধবপুর উপজেলার পুরাইখলা গ্রামের বাহার উদ্দিন মিয়ার স্ত্রী মাহন বেগম (৩৬)।
খবর পেয়ে আদমদীঘি থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং ওই দুই নারীকে নিজেদের হেফাজতে নেয়। পবিত্র উপাসনালয়ে ছদ্মবেশে প্রবেশের এই ঘটনায় গভীর ষড়যন্ত্র বা বড় কোনো অঘটনের পরিকল্পনা ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখতে পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। সনাতন ধর্মাবলম্বীরা এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে মন্দির ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানের নিরাপত্তা জোরদার করার দাবি জানিয়েছেন। বর্তমানে ওই দুই নারীকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে এবং তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
মতামত