পৌরাণিক বর্ণনায় জানা যায়, এই অলৌকিক রূপ দর্শনের জন্য ব্রহ্মা তাঁর চারটি মুখ ব্যবহার করেন, যাতে তিনি বিভিন্ন দিক থেকে সেই সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারেন। অন্যদিকে দেবরাজ ইন্দ্র তাঁর সহস্র চোখ দিয়ে বিষ্ণুর রূপের অপরূপ লাবণ্য দর্শন করতে থাকেন।
তবে এই দৃশ্যের মধ্যে সবচেয়ে গভীর ও আধ্যাত্মিক প্রতিক্রিয়া দেখা যায় মহাদেব শিব-এর মধ্যে। তিনি অনুভব করেন, তাঁর এক মুখ ও দুই চোখ দিয়ে এই অসীম সৌন্দর্য সম্পূর্ণভাবে উপলব্ধি করা সম্ভব নয়। তাঁর অন্তরে জাগে এক তীব্র আকাঙ্ক্ষা—তিনি তাঁর আরাধ্যকে সব দিক, সব কোণ এবং সর্বাঙ্গে একসাথে দর্শন করতে চান।
এই নির্মল ভক্তি, প্রেম ও আত্মসমর্পণের মুহূর্তেই ঘটে এক অলৌকিক ঘটনা। পৌরাণিক বিশ্বাস অনুযায়ী, শিবের এক মুখ থেকে প্রকাশিত হতে থাকে আরও চারটি দিব্য মুখ। এভাবে তিনি ধারণ করেন পাঁচমুখী রূপ, যা ‘পঞ্চানন’ নামে পরিচিত।
এই পাঁচটি মুখ হলো—
সদ্যোজাত
বামদেব
অঘোর
তৎপুরুষ
ঈশান
প্রতিটি মুখে তিনটি করে চোখ শোভা পায়, যা তাঁর সর্বজ্ঞতা ও সর্বদর্শিতার প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হয়। এই রূপ শুধু বাহ্যিক পরিবর্তন নয়, বরং গভীর আধ্যাত্মিক তাৎপর্য বহন করে।
মতামত