ফরিদপুর শহরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত ঐতিহাসিক সদর হাসপাতাল সংলগ্ন ঐতিহ্যবাহী পুরাতন কালীবাড়ী। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের পরম বিশ্বাস ও আবেগের প্রতীক এই জাগ্রত মন্দিরে গত ১৯ সেপ্টেম্বর রাতে নেমে এসেছিল এক অন্ধকার ছায়া। তালা কেটে নিমিষেই গায়েব করে দেওয়া হয়েছিল ভক্তদের বহু বছরের আস্থার প্রতীক, কয়েক কোটি টাকা মূল্যের দুষ্প্রাপ্য কষ্টিপাথরের মা কালীর প্রতিমা ও দেবোত্তর সম্পত্তি। তবে সত্যের জয় ও ভক্তদের আকুল প্রার্থনায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অবশেষে উদ্ধার করতে পেরেছে সেই পবিত্র বিগ্রহ। মাটির গভীর অন্ধকার থেকে আলোর মুখ দেখেছে ২০ কেজি ওজনের অতি দুর্লভ কষ্টিপাথরের মা কালী প্রতিমা, সাথে উদ্ধার করা হয়েছে চুরি যাওয়া পাঁচ ভরি স্বর্ণ, ৩০ ভরি রূপা ও ছয়টি পিত্তলের প্রতিমা। এমনকি চুরি যাওয়া অলংকার গলিয়ে ফেলা আট আনা গলানো স্বর্ণও বাজেয়াপ্ত করেছে পুলিশ।
(News copied from- 'হিন্দুস নিউজ')
বাংলাদেশজুড়ে বারবার আঘাত হানা অশুভ শক্তির কালো হাত যখন সংখ্যালঘুদের ঐতিহ্য ও বিশ্বাসের ওপর ছায়াপাত ঘটায়, তখন এ ধরনের ন্যক্কারজনক ঘটনা গোটা মানবতাকেই লজ্জিত করে। তদন্তের ভিত্তিতে গ্রেপ্তার করা হয়েছে আলফাডাঙ্গা উপজেলার বুরাইচ গ্রামের আসাদুজ্জামান সাদ্দাম, তার মা সাজেদা বেগম, বোয়ালমারীর কান্দাকুল গ্রামের আল আমিন মোল্লা এবং বোয়ালমারীর আতিয়ার রহমানকে। এই ঘৃণ্য অপরাধের শিকার হয়ে সনাতনী সমাজ যে রক্তক্ষরণে ভুগছিল, এই গ্রেপ্তারে সাময়িক স্বস্তি ফিরলেও প্রশ্ন থেকে যায় দেবোত্তর সম্পত্তির সুরক্ষায় মানবাধিকার ও আইনের সঠিক বাস্তবায়ন নিয়ে। সকল জাতির ধর্মীয় অধিকার নিশ্চিত করাই যেখানে সভ্য সমাজের মূল ভিত্তি, সেখানে মন্দিরে মন্দিরে এই ধরনের হীন আক্রমণ প্রতিরোধে প্রয়োজন আরও কঠোর ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি।
মতামত