সমসাময়িক সময়ে বিভিন্ন পূজামণ্ডপ ও সামাজিক অনুষ্ঠানে অপসংস্কৃতির ক্রমবর্ধমান প্রভাব নিয়ে উদ্বেগের প্রেক্ষাপটে আত্মপ্রকাশ করেছে নতুন ধর্মীয় সঙ্গীত দল ‘বৈদিক’। সনাতন ধর্মীয় সংগীতকে আধুনিক আঙ্গিকে উপস্থাপন করে সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনার লক্ষ্যেই যাত্রা শুরু করেছে এই ব্যান্ডটি।
‘বৈদিক’ শব্দটির অর্থ বেদ সম্পর্কীয়, বেদবিহিত বা বেদসম্মত। প্রাচীন ভারতীয় জ্ঞানভাণ্ডার বেদ থেকে উদ্ভূত এই শব্দের মধ্যেই নিহিত রয়েছে আধ্যাত্মিকতা, শুদ্ধতা এবং ঐতিহ্যের গভীর তাৎপর্য। সেই ভাবধারাকেই ধারণ করে সংগীতচর্চার মাধ্যমে মানুষের হৃদয়ে পৌঁছাতে চায় ব্যান্ডটি।
ব্যান্ডের প্রতিষ্ঠাতা রবিন দত্ত জানান, তাঁদের মূল উদ্দেশ্য শুধু গান পরিবেশন নয়, বরং ধর্মীয় সংগীতের মাধ্যমে মানুষের অন্তরে আনন্দ ও আধ্যাত্মিক চেতনা জাগ্রত করা। তিনি বলেন, “আমরা চাই মানুষ ধর্মীয় সংগীতের মাধ্যমে আনন্দ লাভ করুক এবং একই সঙ্গে নিজেদের শিকড়ের সঙ্গে সংযুক্ত থাকুক। এতে তরুণ প্রজন্ম অপসংস্কৃতির দিকে ঝুঁকে পড়া থেকে অনেকটাই বিরত থাকবে।”
ব্যান্ডের সদস্যদের বিশ্বাস, ভক্তিমূলক সংগীত মানুষের মনে ধর্মের প্রতি ভালোবাসা, শ্রদ্ধা ও অনুরাগ বৃদ্ধি করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বর্তমান সময়ে যখন আধুনিকতার নামে অনেক ক্ষেত্রে সাংস্কৃতিক বিচ্যুতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে, তখন ধর্মীয় সংগীতের মাধ্যমে নিজস্ব সংস্কৃতির প্রতি মানুষের আগ্রহ বাড়ানো অত্যন্ত প্রয়োজনীয় বলে মনে করছেন তাঁরা।
‘বৈদিক’ ব্যান্ডের এই উদ্যোগ ইতোমধ্যেই সনাতনী সমাজে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে। অনেকেই এটিকে সময়োপযোগী এবং ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন। সংগীতের মাধ্যমে আধ্যাত্মিকতা ও সংস্কৃতির পুনর্জাগরণ ঘটাতে পারলে সমাজে একটি সুস্থ ও মূল্যবোধনির্ভর পরিবেশ গড়ে উঠবে—এমন প্রত্যাশাই ব্যক্ত করেছেন সংশ্লিষ্টরা।
মতামত