ভারতীয় গণমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমস-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, অনেকদিন পর কোনো প্রতিবেশী দেশে সরাসরি একজন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বকে হাইকমিশনার হিসেবে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে দিল্লি। সাধারণত এই ধরনের পদে পেশাদার কূটনীতিকদেরই দেখা যায়, তাই এই সিদ্ধান্তটি বিশেষভাবে দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।
জানা গেছে, বর্তমান হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মা-র স্থলাভিষিক্ত হবেন দিনেশ ত্রিবেদী। প্রণয় ভার্মা শিগগিরই ইউরোপীয় ইউনিয়নে ভারতের রাষ্ট্রদূত হিসেবে ব্রাসেলসে নতুন দায়িত্ব নিতে যাচ্ছেন।
৭৫ বছর বয়সী দিনেশ ত্রিবেদী ভারতের রাজনীতিতে দীর্ঘদিনের পরিচিত ও অভিজ্ঞ মুখ। ভারতের ইউপিএ সরকার-এর সময় তিনি রেলমন্ত্রী এবং স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। সে সময় তিনি তৃণমূল কংগ্রেস-এর হয়ে রাজনীতি করতেন। পরে ২০২১ সালে দলটি ছেড়ে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)-তে যোগ দেন।
তবে এখনো তার ঢাকায় দায়িত্ব নেওয়া চূড়ান্ত হয়নি। প্রস্তাবটি বর্তমানে বাংলাদেশ সরকারের অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। অনুমোদন মিললে শিগগিরই তিনি ঢাকায় দায়িত্ব গ্রহণ করতে পারেন।
বিশ্লেষকদের মতে, এই নিয়োগের পেছনে বড় একটি কৌশল রয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশ ও ভারত-এর সম্পর্কে কিছুটা দূরত্ব ও জটিলতা তৈরি হয়েছিল। সেই সম্পর্ক আবারও স্বাভাবিক ও ঘনিষ্ঠ করতে চায় দুই দেশ। আর এই প্রেক্ষাপটে একজন অভিজ্ঞ রাজনৈতিক নেতাকে পাঠানো হতে পারে সম্পর্ক জোরদারের একটি নতুন উদ্যোগ।
অনেকের মতে, কূটনীতির পাশাপাশি রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা থাকলে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা ও সিদ্ধান্তে দ্রুত অগ্রগতি সম্ভব হয়। তাই দিনেশ ত্রিবেদীর মতো অভিজ্ঞ একজন নেতার ঢাকায় আসা দুই দেশের সম্পর্কের জন্য ইতিবাচক পরিবর্তনের বার্তা বহন করতে পারে।
সব মিলিয়ে, এই নিয়োগ এখন শুধু একটি প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নয়—বরং বাংলাদেশ ও ভারতের ভবিষ্যৎ সম্পর্ক কোন পথে এগোবে, তার দিকনির্দেশনাও দিতে পারে।
মতামত