গোবিন্দ চন্দ্র প্রামাণিক অত্যন্ত জোরালোভাবে বলেন, নিপুণ রায় চৌধুরী বিএনপির একজন প্রভাবশালী জাতীয় নেত্রী হলেও তিনি জনসমক্ষে নিজেকে কখনোই হিন্দু হিসেবে পরিচয় দেন না। এমনকি হিন্দুদের ওপর সাম্প্রদায়িক নির্যাতন বা অধিকার আদায়ের কোনো আন্দোলনে তাকে কখনো কথা বলতে দেখা যায়নি। অন্যদিকে, সুবর্ণা শিকদারকে নিয়ে আরও গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন তিনি। সুবর্ণা শিকদার হলেন পদ্মনাভ ঠাকুরের স্ত্রী, যারা নিজেদের হিন্দু পরিচয়ের বদলে ‘মতুয়া’ হিসেবে পরিচয় দিতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। এই মতুয়া গোষ্ঠী বারবার দাবি করে আসছে যে তারা হিন্দু নয়। এমনকি গত নির্বাচনে গোপালগঞ্জ-২ ও গোপালগঞ্জ-৩ আসনে হিন্দু প্রার্থীদের বিরুদ্ধে মুসলিম প্রার্থীদের পক্ষে ভোট প্রচারণা চালানোর ‘পুরস্কার’ হিসেবে সুবর্ণা শিকদার এই আসনটি পেয়েছেন বলে দাবি করেন প্রামাণিক।
হিন্দু মহাজোটের মতে, ৫ই আগস্ট ২০২৪-এর পরবর্তী প্রেক্ষাপটে তারা বারবার যে আশঙ্কা করেছিলেন, বর্তমান সংসদের চিত্র সেটিই প্রমাণ করল। হিন্দু প্রতিনিধিদের অনুপস্থিতিতে সংসদ এখন কার্যত হিন্দু শূন্য হয়ে পড়েছে। এই সংকট নিরসনে অ্যাডভোকেট গোবিন্দ চন্দ্র প্রামাণিক আবারও একটি স্থায়ী সমাধানের দাবি তুলেছেন। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান, জাতীয় সংসদে হিন্দুদের অধিকার রক্ষা এবং নির্যাতন-নিপীড়ন বন্ধে প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার একমাত্র পথ হচ্ছে জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত আসন বরাদ্দ করা এবং ‘পৃথক নির্বাচন পদ্ধতি’ পুনরায় বাস্তবায়ন করা। এই পদ্ধতি ছাড়া বাংলাদেশের হিন্দুদের রাজনৈতিক অস্তিত্ব রক্ষা করা আর সম্ভব নয় বলে তিনি সতর্কবাণী উচ্চারণ করেন।
মতামত