হিন্দুস নিউজ

ধর্মীয় পরিচয়ে অনীহা ও হিন্দুবিদ্বেষী অবস্থানের 'পুরস্কার' পেলেন নিপুণ ও সুবর্ণা


| প্রিন্ট সংস্করণ

ধর্মীয় পরিচয়ে অনীহা ও হিন্দুবিদ্বেষী অবস্থানের 'পুরস্কার' পেলেন নিপুণ ও সুবর্ণা
Hindus News Voice of Hinduism
আপনার পণ্য ও প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিন Hindus News এ।
বর্তমান সরকার দলীয় রাজনৈতিক মঞ্চে হিন্দুদের প্রান্তিকীকরণ নিয়ে আবারও তীব্র অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। আজ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত ৩৬টি নারী আসনের জন্য মনোনীত সদস্যদের তালিকা প্রকাশ করেছে ক্ষমতাসীন দল বিএনপি। তবে এই তালিকায় প্রকৃত হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের কোনো প্রতিনিধিত্ব নেই বলে দাবি করেছে বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু মহাজোট। এই ঘটনাকে বাংলাদেশের হিন্দুদের জন্য একটি অশনিসংকেত হিসেবে দেখছেন জোটের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ।


​সংরক্ষিত নারী আসনের এই তালিকা প্রকাশের পর এক তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু মহাজোটের মহাসচিব অ্যাডভোকেট গোবিন্দ চন্দ্র প্রামাণিক বলেন, সংখ্যানুপাতিক হিসেব অনুযায়ী এই ৩৬টি সংরক্ষিত আসন থেকে অন্তত ৩ জন হিন্দু প্রতিনিধি পাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় এই যে, চূড়ান্ত তালিকায় একজন প্রকৃত হিন্দু প্রতিনিধিরও নাম নেই। যদিও তালিকায় নিপুণ রায় চৌধুরী ও সুবর্ণা শিকদারের নাম রয়েছে, কিন্তু হিন্দু মহাজোট তাদের কাউকেই হিন্দুদের প্রকৃত প্রতিনিধি হিসেবে গ্রহণ করতে নারাজ।

​গোবিন্দ চন্দ্র প্রামাণিক অত্যন্ত জোরালোভাবে বলেন, নিপুণ রায় চৌধুরী বিএনপির একজন প্রভাবশালী জাতীয় নেত্রী হলেও তিনি জনসমক্ষে নিজেকে কখনোই হিন্দু হিসেবে পরিচয় দেন না। এমনকি হিন্দুদের ওপর সাম্প্রদায়িক নির্যাতন বা অধিকার আদায়ের কোনো আন্দোলনে তাকে কখনো কথা বলতে দেখা যায়নি। অন্যদিকে, সুবর্ণা শিকদারকে নিয়ে আরও গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন তিনি। সুবর্ণা শিকদার হলেন পদ্মনাভ ঠাকুরের স্ত্রী, যারা নিজেদের হিন্দু পরিচয়ের বদলে ‘মতুয়া’ হিসেবে পরিচয় দিতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। এই মতুয়া গোষ্ঠী বারবার দাবি করে আসছে যে তারা হিন্দু নয়। এমনকি গত নির্বাচনে গোপালগঞ্জ-২ ও গোপালগঞ্জ-৩ আসনে হিন্দু প্রার্থীদের বিরুদ্ধে মুসলিম প্রার্থীদের পক্ষে ভোট প্রচারণা চালানোর ‘পুরস্কার’ হিসেবে সুবর্ণা শিকদার এই আসনটি পেয়েছেন বলে দাবি করেন প্রামাণিক।

​হিন্দু মহাজোটের মতে, ৫ই আগস্ট ২০২৪-এর পরবর্তী প্রেক্ষাপটে তারা বারবার যে আশঙ্কা করেছিলেন, বর্তমান সংসদের চিত্র সেটিই প্রমাণ করল। হিন্দু প্রতিনিধিদের অনুপস্থিতিতে সংসদ এখন কার্যত হিন্দু শূন্য হয়ে পড়েছে। এই সংকট নিরসনে অ্যাডভোকেট গোবিন্দ চন্দ্র প্রামাণিক আবারও একটি স্থায়ী সমাধানের দাবি তুলেছেন। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান, জাতীয় সংসদে হিন্দুদের অধিকার রক্ষা এবং নির্যাতন-নিপীড়ন বন্ধে প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার একমাত্র পথ হচ্ছে জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত আসন বরাদ্দ করা এবং ‘পৃথক নির্বাচন পদ্ধতি’ পুনরায় বাস্তবায়ন করা। এই পদ্ধতি ছাড়া বাংলাদেশের হিন্দুদের রাজনৈতিক অস্তিত্ব রক্ষা করা আর সম্ভব নয় বলে তিনি সতর্কবাণী উচ্চারণ করেন।

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

হিন্দুস নিউজ

রোববার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬


ধর্মীয় পরিচয়ে অনীহা ও হিন্দুবিদ্বেষী অবস্থানের 'পুরস্কার' পেলেন নিপুণ ও সুবর্ণা

প্রকাশের তারিখ : ২০ এপ্রিল ২০২৬

featured Image
বর্তমান সরকার দলীয় রাজনৈতিক মঞ্চে হিন্দুদের প্রান্তিকীকরণ নিয়ে আবারও তীব্র অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। আজ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত ৩৬টি নারী আসনের জন্য মনোনীত সদস্যদের তালিকা প্রকাশ করেছে ক্ষমতাসীন দল বিএনপি। তবে এই তালিকায় প্রকৃত হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের কোনো প্রতিনিধিত্ব নেই বলে দাবি করেছে বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু মহাজোট। এই ঘটনাকে বাংলাদেশের হিন্দুদের জন্য একটি অশনিসংকেত হিসেবে দেখছেন জোটের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ।


​সংরক্ষিত নারী আসনের এই তালিকা প্রকাশের পর এক তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু মহাজোটের মহাসচিব অ্যাডভোকেট গোবিন্দ চন্দ্র প্রামাণিক বলেন, সংখ্যানুপাতিক হিসেব অনুযায়ী এই ৩৬টি সংরক্ষিত আসন থেকে অন্তত ৩ জন হিন্দু প্রতিনিধি পাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় এই যে, চূড়ান্ত তালিকায় একজন প্রকৃত হিন্দু প্রতিনিধিরও নাম নেই। যদিও তালিকায় নিপুণ রায় চৌধুরী ও সুবর্ণা শিকদারের নাম রয়েছে, কিন্তু হিন্দু মহাজোট তাদের কাউকেই হিন্দুদের প্রকৃত প্রতিনিধি হিসেবে গ্রহণ করতে নারাজ।

​গোবিন্দ চন্দ্র প্রামাণিক অত্যন্ত জোরালোভাবে বলেন, নিপুণ রায় চৌধুরী বিএনপির একজন প্রভাবশালী জাতীয় নেত্রী হলেও তিনি জনসমক্ষে নিজেকে কখনোই হিন্দু হিসেবে পরিচয় দেন না। এমনকি হিন্দুদের ওপর সাম্প্রদায়িক নির্যাতন বা অধিকার আদায়ের কোনো আন্দোলনে তাকে কখনো কথা বলতে দেখা যায়নি। অন্যদিকে, সুবর্ণা শিকদারকে নিয়ে আরও গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন তিনি। সুবর্ণা শিকদার হলেন পদ্মনাভ ঠাকুরের স্ত্রী, যারা নিজেদের হিন্দু পরিচয়ের বদলে ‘মতুয়া’ হিসেবে পরিচয় দিতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। এই মতুয়া গোষ্ঠী বারবার দাবি করে আসছে যে তারা হিন্দু নয়। এমনকি গত নির্বাচনে গোপালগঞ্জ-২ ও গোপালগঞ্জ-৩ আসনে হিন্দু প্রার্থীদের বিরুদ্ধে মুসলিম প্রার্থীদের পক্ষে ভোট প্রচারণা চালানোর ‘পুরস্কার’ হিসেবে সুবর্ণা শিকদার এই আসনটি পেয়েছেন বলে দাবি করেন প্রামাণিক।

​হিন্দু মহাজোটের মতে, ৫ই আগস্ট ২০২৪-এর পরবর্তী প্রেক্ষাপটে তারা বারবার যে আশঙ্কা করেছিলেন, বর্তমান সংসদের চিত্র সেটিই প্রমাণ করল। হিন্দু প্রতিনিধিদের অনুপস্থিতিতে সংসদ এখন কার্যত হিন্দু শূন্য হয়ে পড়েছে। এই সংকট নিরসনে অ্যাডভোকেট গোবিন্দ চন্দ্র প্রামাণিক আবারও একটি স্থায়ী সমাধানের দাবি তুলেছেন। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান, জাতীয় সংসদে হিন্দুদের অধিকার রক্ষা এবং নির্যাতন-নিপীড়ন বন্ধে প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার একমাত্র পথ হচ্ছে জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত আসন বরাদ্দ করা এবং ‘পৃথক নির্বাচন পদ্ধতি’ পুনরায় বাস্তবায়ন করা। এই পদ্ধতি ছাড়া বাংলাদেশের হিন্দুদের রাজনৈতিক অস্তিত্ব রক্ষা করা আর সম্ভব নয় বলে তিনি সতর্কবাণী উচ্চারণ করেন।


হিন্দুস নিউজ

প্রকাশক & সম্পাদক: শুভ চন্দ্র দে
HINDUS NEWS মিডিয়া লিমিটেডের পক্ষে প্রকাশক কর্তৃক ঢাকা থেকে প্রকাশিত

প্রকাশক & সম্পাদক: শুভ চন্দ্র দে,🔴HINDUS NEWS মিডিয়া লিমিটেডের পক্ষে প্রকাশক কর্তৃক ঢাকা থেকে প্রকাশিত।🔴যোগাযোগ: +88 01890890920🔴 ই-মেইল: news@hindus.news 🔴 বিজ্ঞাপন: ads@hindus.news
ধর্মীয় পরিচয়ে অনীহা ও হিন্দুবিদ্বেষী অবস্থানের 'পুরস্কার' পেলেন নিপুণ ও সুবর্ণা
0:00 0:00
1.0x