বরিশালের গৌরনদী উপজেলায় জোরপূর্বক ধর্মান্তর ও বিয়ের অভিযোগে অপহৃত ১৫ বছর বয়সী হিন্দু কিশোরী দীপান্বিতা সরকারকে অবশেষে উদ্ধার করেছে পুলিশ।
বুধবার ভোরে রাজধানীর কামরাঙ্গীরচর এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে উদ্ধার করা হয় বলে জানা যায়।
জানা গেছে, দীর্ঘ অনুসন্ধান ও একাধিক অভিযানের পর প্রথমে মাদারীপুর থেকে একজন সন্দেহভাজনকে আটক করা হয়। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে কামরাঙ্গীরচরে আরও একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পরবর্তীতে তাদের জবানবন্দি অনুযায়ী অভিযুক্ত এক যুবকের নানির বাড়িতে অভিযান চালিয়ে ভোর প্রায় ৬টার দিকে দীপান্বিতা সরকারকে উদ্ধার করা হয়। এ অভিযানে নেতৃত্ব দেন গৌরনদী থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) সাইফুল ইসলাম।


পরিবারের দাবি, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০০৮ সালে জন্ম নেওয়া দীপান্বিতাকে জোর করে ইসলাম ধর্ম গ্রহণে বাধ্য করা হয় এবং তার নাম পরিবর্তন করে “তাবাসসুম আক্তার নূর” রাখা হয়। একই সঙ্গে মো. রিতাজ নামের এক যুবকের সঙ্গে তার বিয়ের কথাও একটি হলফনামায় উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে পরিবারের অভিযোগ, এসব নথি চাপ প্রয়োগের মাধ্যমে তৈরি করা হয়েছে এবং বাস্তবতা ভিন্ন।
ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর স্থানীয় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
ভুক্তভোগীর পরিবার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে। এলাকাবাসীর একটি অংশও নিরপেক্ষ তদন্তের আহ্বান জানিয়েছে।
আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাংলাদেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী ১৮ বছরের নিচে কোনো মেয়ের বিয়ে অবৈধ। এছাড়া জোরপূর্বক ধর্মান্তর বা বিবাহের অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।
এ ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। অনেকেই এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে প্রশাসনের দ্রুত ও কঠোর পদক্ষেপ কামনা করেছেন। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটির তদন্ত চলমান রয়েছে এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
মতামত