কুমিল্লায় নির্মম হত্যাকাণ্ডের শিকার রাজস্ব কর্মকর্তা বুলেট বৈরাগীর পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর আশ্বাস দিয়েছেন কুমিল্লা সদর-৬ আসনের বিএনপির সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরী। তিনি নিহত বুলেট বৈরাগীর স্ত্রী উর্মি হীরাকে চাকরি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন এবং প্রয়োজনে তাকে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের ব্যবস্থাও করবেন বলে জানিয়েছেন।
শুক্রবার (১ মে) সকালে কুমিল্লা শহরের পানপট্টি মন্দির পুনর্নির্মাণের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এই ঘোষণা দেন। অনুষ্ঠানের এক পর্যায়ে তিনি মুঠোফোনে নিহতের স্ত্রী উর্মি হীরার সঙ্গে কথা বলেন এবং তার পরিবারের খোঁজখবর নেন। এসময় তিনি আশ্বস্ত করেন যে, পরিবারের দায়িত্ব নিতে তিনি ব্যক্তিগতভাবে উদ্যোগী হবেন এবং উর্মি হীরার জন্য একটি উপযুক্ত চাকরির ব্যবস্থা করার চেষ্টা করবেন।
এর আগে গত ২৫ এপ্রিল ভোরে কুমিল্লায় ভয়াবহ এক ছিনতাইয়ের ঘটনায় প্রাণ হারান সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা বুলেট বৈরাগী (৩৫)। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কোটবাড়ী এলাকার আইরিশ হিল হোটেলের সামনে থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। জানা যায়, তিনি চট্টগ্রাম থেকে প্রশিক্ষণ শেষে বাসে করে কুমিল্লায় ফিরছিলেন। রাত প্রায় ৩টার দিকে জাগ্রতলী বিশ্বরোড এলাকায় বাস থেকে নামার পর তিনি সংঘবদ্ধ ছিনতাইকারী চক্রের ফাঁদে পড়েন।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, যাত্রীবেশে থাকা ছিনতাইকারীরা তাকে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় তুলে নেয়। এরপর পথিমধ্যে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে তার কাছ থেকে মোবাইল ফোন, টাকা ও ব্যাগ ছিনিয়ে নেয়। ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে চলন্ত অটোরিকশা থেকে তাকে ফেলে দিলে মাথায় গুরুতর আঘাত পেয়ে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
এই ঘটনায় র্যাব-১১ অভিযান চালিয়ে এখন পর্যন্ত পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে কয়েকজন আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দিয়েছেন। নিহতের স্ত্রী উর্মি হীরা বাদী হয়ে কুমিল্লার সদর দক্ষিণ মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন, যা বর্তমানে তদন্তাধীন রয়েছে।
উল্লেখ্য, বুলেট বৈরাগী গোপালগঞ্জ জেলার কোটালীপাড়া উপজেলার পিঞ্জুরী গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন। মাত্র আট মাস আগে তিনি কুমিল্লার বিবিরবাজার স্থলবন্দরে সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা হিসেবে যোগদান করেছিলেন। তার আকস্মিক মৃত্যুতে পরিবারসহ এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
এই ঘটনার পর স্থানীয়ভাবে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। একই সঙ্গে নিহতের পরিবারের ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কা তৈরি হলেও জনপ্রতিনিধির এই প্রতিশ্রুতি কিছুটা হলেও স্বস্তি এনে দিয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
মতামত