সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হলো, এবার তৃণমূলের নিশ্চিত ‘ভোট ব্যাংক’ হিসেবে পরিচিত মুসলিম ভোটেও ধস নেমেছে। এসআইআরের ইঙ্গিত ছিল যে মুসলিম ভোট ঢালাওভাবে ঘাসফুল শিবিরে যাবে, কিন্তু গণনার ট্রেন্ড বলছে অন্য কথা। মুর্শিদাবাদ, মালদহ এবং উত্তর ২৪ পরগনার মতো মুসলিম অধ্যুষিত এলাকাগুলোতে ভোট ভাগ হয়ে গেছে কংগ্রেস, সিপিএম ও এসএফআইয়ের মধ্যে। তথাকথিত সংখ্যালঘু তোষণের রাজনীতি যে এবার আর পার পায়নি, তা ফলাফলের প্রবণতা থেকেই স্পষ্ট। এমনকি কল্যাণীর মতো জায়গায় মেশিন কারচুপির অবাস্তব অভিযোগ তুলেও মমতা পরিস্থিতি সামাল দিতে পারছেন না।
ভিডিও বার্তায় মমতা অনেকটা মিনতি করার সুরে তার কাউন্টিং এজেন্ট ও প্রার্থীদের ভোট গণনা কেন্দ্র ছেড়ে না আসার অনুরোধ জানান। ‘বাঘের বাচ্চার মতো লড়াই’ করার কথা বললেও তার চোখেমুখে ফুটে ওঠা দুশ্চিন্তা এড়ানো যায়নি। ওদিকে ভারতীয় গণমাধ্যমের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বিজেপি ইতিমধ্যে ম্যাজিক ফিগার অতিক্রম করে গেছে। পশ্চিমবঙ্গে প্রথমবারের মতো হিন্দুত্ববাদী ও জাতীয়তাবাদী শক্তির সরকার গঠন এখন শুধু সময়ের অপেক্ষা। সব মিলিয়ে মমতার এই ভিডিও বার্তাকে পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক পরিবর্তনের অন্তিম মুহূর্তের একটি ব্যর্থ আর্তনাদ হিসেবেই দেখা হচ্ছে।
মতামত