রাজ্য রাজনীতির এই আমূল পরিবর্তনের ঢেউয়ে উচ্ছ্বসিত গেরুয়া শিবির। বিধানসভার বিরোধীদলীয় নেতা শুভেন্দু অধিকারীসহ শীর্ষ সারির নেতারা একে ‘ঐতিহাসিক বিজয়’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। শুভেন্দু অধিকারী হুঙ্কার দিয়ে বলেছেন, পশ্চিমবঙ্গে মমতার ‘খেলা শেষ’ এবং মা-মাটি-মানুষের নাম করে চলা অপশাসনের অবসান ঘটেছে। মোদী-শাহের উন্নয়ন আর সাংস্কৃতিক জাতীয়তাবাদের মন্ত্রেই বাংলার মানুষ ভরসা রেখেছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
বিজেপির এই সম্ভাব্য জয়ের পর এখন বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে—কে হচ্ছেন পশ্চিমবঙ্গের পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী? নির্বাচনের আগে ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বারবার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন যে, কোনো বহিরাগত নয়, বরং ভূমিপুত্র কোনো বাঙালিই হবেন রাজ্যের পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী। সেই দৌড়ে এখন বেশ কয়েকজনের নাম জোরালোভাবে আলোচিত হচ্ছে।
মুখ্যমন্ত্রী পদের লড়াইয়ে সবচেয়ে এগিয়ে আছেন বর্তমান বিরোধীদলীয় নেতা শুভেন্দু অধিকারী। নন্দীগ্রামে মমতাকে পরাজিত করার সেই ধারা এবারও তিনি অব্যাহত রেখেছেন। এছাড়াও আলোচনায় আছেন রাজ্য বিজেপির বর্তমান সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য, সাবেক সভাপতি দিলীপ ঘোষ এবং সুকান্ত মজুমদার। বুদ্ধিজীবী ও সজ্জন ব্যক্তিত্ব হিসেবে সাবেক সাংবাদিক ও রাজ্যসভার সাবেক সাংসদ স্বপন দাশগুপ্তের নামও প্রস্তাব করছেন কেউ কেউ।
এদিকে, কলকাতার অলিগলি থেকে শুরু করে জেলা শহরগুলোতেও আবির খেলায় মেতে উঠেছেন বিজেপি কর্মী-সমর্থকরা। দীর্ঘ প্রতীক্ষিত এই জয়কে হিন্দুত্ববাদী চেতনার জয় এবং তোষণনীতির রাজনীতির পরাজয় হিসেবে দেখছেন তারা। ওপার বাংলার এই পটপরিবর্তন দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতিতে, বিশেষ করে বাংলাদেশের প্রতিবেশী রাজ্যে এক নতুন মেরুকরণের জন্ম দেবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
মতামত