পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, বুধবার ভোরে কাজের উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হন কৃষ্ণ। মাছ চুরির ভিত্তিহীন অভিযোগে তাঁকে ও আরও একজনকে আটক করে তরা বাজার কমিটির লোকজন। পরে অন্যজনকে ছেড়ে দিলেও কৃষ্ণকে কমিটির কার্যালয়ে আটকে রেখে অমানুষিক নির্যাতন চালানো হয়। সকাল সাড়ে নয়টার দিকে মোটরসাইকেলে করে দুই ব্যক্তি কৃষ্ণের বাড়িতে গিয়ে তাঁকে ছাড়িয়ে নিতে ৪০ হাজার টাকা দাবি করেন। দরিদ্র পরিবারের পক্ষে তাৎক্ষণিক এই বিশাল অংকের টাকা জোগাড় করা অসম্ভব ছিল। যমুনা রানী জানান, তিনি নিজে বাজার কমিটির কার্যালয়ে গিয়ে কমিটির লোকজনের হাতে-পায়ে ধরে কান্নাকাটি করেছেন এবং বারবার অনুরোধ করেছেন যেন তাঁর স্বামীকে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়, কিন্তু প্রভাবশালী ওই চক্রটি তাঁর কোনো কথা শোনেনি।
স্থানীয়দের অভিযোগ, কৃষ্ণকে পিটিয়ে মেরে ফেলার পর ঘটনা ধামাচাপা দিতে লাশ ফ্যানের সঙ্গে ঝুলিয়ে রেখে আত্মহত্যার নাটক সাজানোর চেষ্টা করে বাজার কমিটি। মরদেহ সরিয়ে নেওয়ারও চেষ্টা চালায় অভিযুক্তরা, তবে স্থানীয়দের বাধার মুখে তারা পালিয়ে যায়। বর্তমানে বাজার ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি মো. ইব্রাহিমসহ অভিযুক্ত সদস্যরা গা ঢাকা দিয়েছেন। এ বিষয়ে তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কাউকে পাওয়া যায়নি।
সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইকরাম হোসেন জানিয়েছেন, ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এই ঘটনায় একটি মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে। তবে অভিযুক্তদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন মাঝিপাড়ার বাসিন্দারা। তারা মনে করছেন, সংখ্যালঘু হওয়ার কারণেই কৃষ্ণকে এমন বিচারহীনভাবে পিটিয়ে মেরে ফেলার সাহস পেয়েছে প্রভাবশালীরা।
মতামত