কুমিল্লায় ছিনতাইকারীদের হামলায় নিহত সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা বুলেট বৈরাগীর শোকাহত পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছেন কুমিল্লা-৬ আসনের সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরী। গতকাল নিহত বুলেট বৈরাগীর ভাড়া বাসায় গিয়ে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন তিনি। এসময় বুলেট বৈরাগীর স্ত্রী, মা ও পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের কান্নায় আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
সংসদ সদস্যকে কাছে পেয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন বুলেট বৈরাগীর স্ত্রী ও মা। শোকাহত পরিবারকে সান্ত্বনা দিতে গিয়ে নিজেও আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন এমপি মনিরুল হক চৌধুরী। বুলেট বৈরাগীর স্ত্রীর মাথায় হাত রেখে তিনি বলেন, “কেঁদো না মা, তোমার মতো আমারও চারটি মেয়ে আছে।
তোমাদের কষ্ট আমি উপলব্ধি করতে পারি।”
পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দীর্ঘসময় কথা বলে তাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে আশ্বস্ত করেন তিনি। এসময় তিনি নিহত বুলেট বৈরাগীর স্ত্রীকে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর বরাবর একটি আবেদনপত্র লিখতে বলেন এবং সেটি নিজ দায়িত্বে পৌঁছে দেওয়ার আশ্বাস দেন।
এমপি মনিরুল হক চৌধুরী বলেন, নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত যেন বুলেট বৈরাগীর পরিবারের কাছে তার বেতনের সুবিধা পৌঁছায়, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের চেষ্টা চলছে। একইসঙ্গে বুলেট বৈরাগীর স্ত্রীর কর্মসংস্থানের বিষয়েও সরকার ইতিবাচক রয়েছে বলে জানান তিনি।

এর আগে গত ১ মে কুমিল্লা শহরের পানপট্টি মন্দির পুনর্নির্মাণের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে নিহত বুলেট বৈরাগীর পরিবারের পাশে থাকার ঘোষণা দেন এমপি মনিরুল হক চৌধুরী। ওই অনুষ্ঠানে তিনি মোবাইল ফোনে নিহতের স্ত্রী উর্মি হীরার সঙ্গে কথা বলেন এবং তার পরিবারের দায়িত্ব নেওয়ার আশ্বাস দেন। একইসঙ্গে প্রয়োজনে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের ব্যবস্থাও করবেন বলে জানান তিনি।
উল্লেখ্য, গত ২৫ এপ্রিল ভোরে কুমিল্লায় ভয়াবহ ছিনতাইয়ের ঘটনায় নিহত হন সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা বুলেট বৈরাগী (৩৫)। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কোটবাড়ী এলাকার আইরিশ হিল হোটেলের সামনে থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
জানা যায়, চট্টগ্রামে প্রশিক্ষণ শেষে বাসযোগে কুমিল্লায় ফেরার পথে সংঘবদ্ধ ছিনতাইকারী চক্রের কবলে পড়েন তিনি।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, যাত্রীবেশে থাকা ছিনতাইকারীরা তাকে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় তুলে নেয়।
পরে ধারালো অস্ত্র দিয়ে হামলা চালিয়ে তার মোবাইল ফোন, টাকা ও ব্যাগ ছিনিয়ে নেওয়া হয়। ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে চলন্ত অটোরিকশা থেকে ফেলে দিলে মাথায় গুরুতর আঘাত পেয়ে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় র্যাব-১১ অভিযান চালিয়ে এখন পর্যন্ত পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে কয়েকজন আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দিয়েছেন। নিহতের স্ত্রী উর্মি হীরা বাদী হয়ে কুমিল্লার সদর দক্ষিণ মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। মামলাটি বর্তমানে তদন্তাধীন রয়েছে।
বুলেট বৈরাগী গোপালগঞ্জ জেলার কোটালীপাড়া উপজেলার পিঞ্জুরী গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন। মাত্র আট মাস আগে তিনি কুমিল্লার বিবিরবাজার স্থলবন্দরে সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা হিসেবে যোগদান করেছিলেন। তার আকস্মিক ও মর্মান্তিক মৃত্যুতে পরিবারসহ পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তবে জনপ্রতিনিধির এমন মানবিক উদ্যোগে কিছুটা হলেও আশার আলো দেখছেন নিহতের
মতামত