বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান ভারত সরকারকে ধর্ম, বর্ণ বা গোত্রভিত্তিক তথাকথিত 'টার্গেটিং' বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছেন। শনিবার (৯ মে) আট দিনের জাপান সফর শেষে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণের পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি এই মন্তব্য করেন। বিশেষত পশ্চিমবঙ্গসহ বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে নির্দিষ্ট জনগোষ্ঠীর ওপর নির্যাতনের অভিযোগ তুলে তিনি ভারতের অভ্যন্তরীণ ও সামাজিক স্থিতিশীলতা নিয়ে নিজের অবস্থানের কথা জানান।
বিমানবন্দরে উপস্থিত সাংবাদিকদের ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ভারতের পশ্চিমবঙ্গসহ পৃথিবীর যে কোনো প্রান্তে যদি কোনো নির্দিষ্ট ধর্ম বা বর্ণের মানুষের ওপর জুলুম করা হয়, তবে তার দল সবসময় সেই মজলুমের পক্ষেই থাকবে। তিনি উল্লেখ করেন যে, কোনো বিশেষ পরিচয় বা ধর্মীয় বিশ্বাসের কারণে যেন কারও কোনো ক্ষতি না করা হয়, সেই বার্তা তারা ভারত সরকারের কাছে পৌঁছে দেবেন। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বাংলাদেশের একটি রাজনৈতিক দলের প্রধান হিসেবে প্রতিবেশী রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ সামাজিক বিন্যাস নিয়ে এ ধরনের প্রকাশ্য মন্তব্য কূটনৈতিক শিষ্টাচারের ক্ষেত্রে নতুন আলোচনার জন্ম দিতে পারে।
জাপান সফর সম্পর্কে জামায়াত আমির জানান, আট দিনব্যাপী এই সফরে তিনি জাপানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ভাইস মিনিস্টারসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সংস্থার প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। এসব বৈঠকে মূলত বাংলাদেশ ও জাপানের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক জোরদার করা, দেশের জনশক্তির দক্ষতা উন্নয়ন, নগর অবকাঠামো সংস্কার এবং দুর্যোগপূর্ণ বাংলাদেশে ভূমিকম্প মোকাবিলায় জাপানি প্রযুক্তি ও সহযোগিতা নিয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। তবে উন্নয়নমূলক সফরের শেষে ভারতকে দেওয়া এই আকস্মিক ‘পরামর্শ’ রাজনৈতিক মহলে ভিন্ন মাত্রার জন্ম দিয়েছে।
উল্লেখ্য যে, দীর্ঘদিন ধরে জামায়াতে ইসলামী ও ভারতের সম্পর্কের টানাপোড়েন থাকলেও বর্তমান প্রেক্ষাপটে ডা. শফিকুরের এই নমনীয় অথচ সতর্কবার্তা সম্বলিত অবস্থান বেশ তাৎপর্যপূর্ণ। বিশ্বের যে কোনো স্থানে ধর্মীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে নিপীড়নের বিরোধিতা করবেন বলে তিনি জোর দিয়ে জানান। তবে এই বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে কোনো পরোক্ষ ইঙ্গিত প্রদান করছেন কি না, তা নিয়ে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
মতামত