কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার বিএনপি সভাপতি ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান এটিএম মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে প্রায় ২৪ লাখ ৪০ হাজার টাকার বকেয়া পরিশোধ না করার অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগকারী অনয় সাহা অনু দাবি করেছেন, ২০২০ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত তাঁর পরিবারের পরিচালিত “ফাইভ স্টার ব্রিকস” নামীয় ইটভাটা থেকে বিপুল পরিমাণ ইট ও নির্মাণ সামগ্রী ক্রয় করলেও দীর্ঘ সময় পার হলেও এখনো সম্পূর্ণ পাওনা পরিশোধ করেননি বিএনপি নেতা এটিএম মিজানুর রহমান।
ভুক্তভোগী অনয় সাহা অনুর অভিযোগ, বুড়িচং উপজেলার লাটুয়াবাজার ও ভারেল্লা এলাকায় দুটি চারতলা বিশিষ্ট মার্কেট এবং একটি বড় পুকুরের বাউন্ডারি নির্মাণে তাঁর ইটভাটার ইট ব্যবহার করা হয়।
সে সময় ধাপে ধাপে বিপুল পরিমাণ নির্মাণসামগ্রী সরবরাহ করা হলেও পরবর্তীতে টাকা পরিশোধে নানা ধরনের টালবাহানা শুরু করেন অভিযুক্ত নেতা।
তিনি জানান, “আমরা সংখ্যালঘু হওয়ায় আমাদের পাওনা টাকা পরিশোধ করা হচ্ছে না। বিভিন্ন সময় বিভিন্ন স্থানে গিয়ে যোগাযোগ করলেও তিনি বিষয়টি এড়িয়ে যান। আজ দেবো, কাল দেবো বলে শুধু সময়ক্ষেপণ করছেন।”


ভুক্তভোগী আরও বলেন, ২০২৪ সালে কুমিল্লায় বন্যার সময় তিনি পাওনা টাকার বিষয়ে এটিএম মিজানুর রহমানের সাথে দেখা করতে গেলে তাঁকে অপমানজনক ভাষায় কথা বলা হয়।
তাঁর ভাষ্যমতে, সে সময় মিজানুর রহমান বলেন,
“তুই কয় টাকা পাছ আমার থেকে, তোর বাপের লগে তোর জন্মের আগে থেকে আমার সম্পর্ক। আমি বন্যায় দেড় কোটি টাকা খরচা করছি, তুই কয় টাকা পাবি বেটা, তুই হিসাব আনিস দিয়ে দিমু।”

নোটিশ অনুযায়ী, সরবরাহকৃত সামগ্রীর মোট মূল্য ছিল ৬৮ লাখ ৪১ হাজার ১৫০ টাকা। এর মধ্যে বিভিন্ন সময়ে ৪৪ লাখ ১ হাজার টাকা পরিশোধ করা হলেও এখনো বকেয়া রয়েছে ২৪ লাখ ৪০ হাজার ১৫০ টাকা।
লিগ্যাল নোটিশে আগামী ৩০ দিনের মধ্যে পাওনা টাকা পরিশোধের আহ্বান জানানো হয়েছে। অন্যথায় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও সতর্ক করা হয়। নোটিশটি পাঠান কুমিল্লা জজকোর্ট ও বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো. তৌহিদুর রহমান।
ভুক্তভোগী অনয় সাহা অনু বলেন, “হিন্দু হয়ে জন্মানোটা যেন আমাদের অপরাধ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আমরা কিছু বলতে গেলেই আমাদের ইসকন, ভারতীয় গোয়েন্দা বা নানা তকমা দেওয়া হয়। আমরা এখন সম্পূর্ণ নিরুপায়।”

মতামত