চট্টগ্রামে জুলাই-আগস্টের রাজনৈতিক সহিংসতা সংক্রান্ত একটি মামলায় গ্রেফতার হওয়া দেবাশীষ চৌধুরীর (৪৮) জেল হেফাজতে রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। গ্রেফতারের ২১ দিন পর চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে মৃত অবস্থায় তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে আসা হলে এ ঘটনায় পরিবার ও স্বজনদের পক্ষ থেকে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ডের অভিযোগ তোলা হয়েছে।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ২৭ এপ্রিল ২০২৬ রাতে চট্টগ্রাম মহানগরের সদরঘাট থানাধীন ১১০ কবি নজরুল ইসলাম রোডের পি কে সেন কম্পাউন্ড এলাকার নিজ বাসা থেকে দেবাশীষ চৌধুরীকে আটক করে পুলিশ। পরবর্তীতে তাঁকে ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর মাসের ১ তারিখে সদরঘাট থানায় দায়েরকৃত একটি মামলায় (মামলা নম্বর-১৯) গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।
কারাগারে থাকা অবস্থায় ২১ দিন পর গতকাল দেবাশীষ চৌধুরীকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে নিয়ে আসা হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। নিহতের পরিবারের দাবি, দেবাশীষের মরদেহের বিভিন্ন স্থানে, বিশেষ করে পিঠের অংশে স্পষ্ট আঘাতের চিহ্ন দেখা গেছে, যা নির্যাতন ও পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ডের দিকে ইঙ্গিত করে।
স্বজনদের অভিযোগ, দেবাশীষ চৌধুরী কোনো ধরনের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড বা দলের সাথে জড়িত ছিলেন না। তবে পৈত্রিক সম্পত্তি নিয়ে স্থানীয় একটি প্রভাবশালী মহলের সঙ্গে তাঁদের দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। সেই বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষ মহলটি স্থানীয় থানা পুলিশকে প্রভাবিত করে জুলাই-আগস্টের মামলায় মিথ্যাভাবে জড়ায় এবং গ্রেফতার করায়। পরবর্তীতে জেলের ভেতরেই তাঁকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে বলে দাবি স্বজনদের। তাঁরা এই ঘটনার একটি সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ তদন্ত এবং এর সাথে জড়িতদের দ্রুত বিচারের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।
জেল হেফাজতে একজন হাজতির এমন মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় বাসিন্দা ও সচেতন মহলে গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। তবে এ বিষয়ে চট্টগ্রাম কারাগার কর্তৃপক্ষ বা সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য বা ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।
মতামত