হিন্দুস নিউজ

সুরের ভুবনে এক নক্ষত্রের পতন: চিরতরে হারিয়ে গেলেন সুরসম্রাজ্ঞী সুমন কল্যাণপুর


| প্রিন্ট সংস্করণ

সুরের ভুবনে এক নক্ষত্রের পতন: চিরতরে হারিয়ে গেলেন সুরসম্রাজ্ঞী সুমন কল্যাণপুর
Hindus News Voice of Hinduism
আপনার পণ্য ও প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিন Hindus News এ।
ভারতীয় উপমহাদেশের সংগীত জগতের এক সোনালী অধ্যায়ের অবসান ঘটল। ‘আজকাল তেরে মেরে প্যায়ার কে চার্চে’ কিংবা কালজয়ী বাংলা গান ‘মনে করো আমি নেই, বসন্ত এসে গেছে’ খ্যাত কিংবদন্তি সনাতনী প্লেব্যাক গায়িকা সুমন কল্যাণপুর আর নেই। গত রবিবার (৩১ মে) রাতে মুম্বাইয়ের লোখান্ডওয়ালার নিজ বাসভবনে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। মৃত্যুকালে এই মহান শিল্পীর বয়স হয়েছিল ৮৯ বছর। তাঁর প্রয়াণে সনাতন সমাজসহ সমগ্র উপমহাদেশ এবং বিশ্ব সংগীত পরিমণ্ডলে এক গভীর ও অপূরণীয় শূন্যতার সৃষ্টি হয়েছে, যা শুধু একটি যুগের অবসানই নয়, বরং সুরের আকাশের এক উজ্জ্বল নক্ষত্রের চিরতরে নিভে যাওয়া।


​পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, প্রায় এক মাসেরও বেশি সময় ধরে বার্ধক্যজনিত নানাবিধ শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন তিনি। গত রবিবার স্থানীয় সময় রাত ৮টার দিকে তাঁর নিজ বাসভবনে অত্যন্ত শান্তিপূর্ণভাবে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। ১৯৩৫ সালে এক সম্ভ্রান্ত সনাতনী পরিবারে জন্ম নেওয়া এই সুর সম্রাজ্ঞী শৈশব থেকেই ভারতীয় শাস্ত্রীয় সংগীতের সনাতন ঐতিহ্যে দীক্ষা নেন। ষাট ও সত্তরের দশকে তিনি সমগ্র উপমহাদেশজুড়ে আকাশচুম্বী জনপ্রিয়তা লাভ করেন। ‘ব্রহ্মচারী’ চলচ্চিত্রের ‘আজকাল তেরে মেরে প্যায়ার কে চার্চে’, ‘জব জব ফুল খিলে’ সিনেমার ‘না না কারতে প্যায়ার’ এবং ‘রাজকুমার’ ছবির ‘তুমনে পুকারা অর হাম চলে আয়’ গানগুলো তাঁকে বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি শ্রোতার হৃদয়ে স্থায়ী ও অমর জায়গা করে দেয়।

​সুমন কল্যাণপুর তাঁর সুদীর্ঘ কর্মজীবনে ১১টি ভিন্ন ভাষায় প্রায় ৭৪০টি গান গেয়েছেন। এর মধ্যে কিংবদন্তি গায়ক মোহাম্মদ রফির সঙ্গেই গেয়েছেন ১৪০টি কালজয়ী দ্বৈত গান। চলচ্চিত্র সংগীতের আকাশছোঁয়া সফলতার পাশাপাশি সনাতন ধর্মের আধ্যাত্মিক ধারা ও ঐতিহ্যবাহী ভজন এবং গজলেও তিনি ছিলেন সমান পারদর্শী। তাঁর গাওয়া ভজনগুলো আজও সনাতন ধর্মাবলম্বীদের হৃদয়ে আধ্যাত্মিক চেতনার খোরাক জোগায়। তাঁর কণ্ঠের অসাধারণ মাধুর্য ও কোমলতার কারণে অনেক সময় তৎকালীন বোদ্ধারা তাঁকে লতা মঙ্গেশকরের সঙ্গে তুলনা করতেন। তবে মহানুভব ও বিনয়ী এই শিল্পী সবসময়ই সেই তুলনাকে বিনম্র চিত্তে অস্বীকার করে এসেছেন। ২০২২ সালের এক সাক্ষাৎকারে তিনি লতা মঙ্গেশকরকে তাঁর ঘনিষ্ঠতম বন্ধু হিসেবে উল্লেখ করে বলেছিলেন যে, প্রতিবার দেখা হলে তাঁদের সম্পর্ক বন্ধুর মতোই নিবিড় মনে হতো।

​এই কিংবদন্তির আকস্মিক মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর সমগ্র ভারতসহ বাংলাদেশেও গভীর শোকের ছায়া নেমে আসে। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি তাঁর প্রয়াণে গভীর শোক প্রকাশ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লিখেছেন, সুমন কল্যাণপুরের সুরেলা কণ্ঠ এবং সংগীতের প্রতি অবদান ভারতীয় সংস্কৃতি ও চলচ্চিত্র জগতে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। হিদুস নিউজের পক্ষ থেকেও এই মহান সুরসাধিকার প্রয়াণে গভীর শ্রদ্ধাঞ্জলি ও ওম শান্তি জ্ঞাপন করা হচ্ছে। মৃত্যুকালে তিনি তাঁর একমাত্র কন্যা চারুকে রেখে গেছেন। আজ সোমবার মুম্বাইয়ে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় এবং সনাতন ধর্মীয় রীতিনীতি মেনে তাঁর শেষকৃত্য সম্পন্ন হওয়ার কথা রয়েছে।

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

হিন্দুস নিউজ

রোববার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬


সুরের ভুবনে এক নক্ষত্রের পতন: চিরতরে হারিয়ে গেলেন সুরসম্রাজ্ঞী সুমন কল্যাণপুর

প্রকাশের তারিখ : ০১ জুন ২০২৬

featured Image
ভারতীয় উপমহাদেশের সংগীত জগতের এক সোনালী অধ্যায়ের অবসান ঘটল। ‘আজকাল তেরে মেরে প্যায়ার কে চার্চে’ কিংবা কালজয়ী বাংলা গান ‘মনে করো আমি নেই, বসন্ত এসে গেছে’ খ্যাত কিংবদন্তি সনাতনী প্লেব্যাক গায়িকা সুমন কল্যাণপুর আর নেই। গত রবিবার (৩১ মে) রাতে মুম্বাইয়ের লোখান্ডওয়ালার নিজ বাসভবনে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। মৃত্যুকালে এই মহান শিল্পীর বয়স হয়েছিল ৮৯ বছর। তাঁর প্রয়াণে সনাতন সমাজসহ সমগ্র উপমহাদেশ এবং বিশ্ব সংগীত পরিমণ্ডলে এক গভীর ও অপূরণীয় শূন্যতার সৃষ্টি হয়েছে, যা শুধু একটি যুগের অবসানই নয়, বরং সুরের আকাশের এক উজ্জ্বল নক্ষত্রের চিরতরে নিভে যাওয়া।


​পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, প্রায় এক মাসেরও বেশি সময় ধরে বার্ধক্যজনিত নানাবিধ শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন তিনি। গত রবিবার স্থানীয় সময় রাত ৮টার দিকে তাঁর নিজ বাসভবনে অত্যন্ত শান্তিপূর্ণভাবে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। ১৯৩৫ সালে এক সম্ভ্রান্ত সনাতনী পরিবারে জন্ম নেওয়া এই সুর সম্রাজ্ঞী শৈশব থেকেই ভারতীয় শাস্ত্রীয় সংগীতের সনাতন ঐতিহ্যে দীক্ষা নেন। ষাট ও সত্তরের দশকে তিনি সমগ্র উপমহাদেশজুড়ে আকাশচুম্বী জনপ্রিয়তা লাভ করেন। ‘ব্রহ্মচারী’ চলচ্চিত্রের ‘আজকাল তেরে মেরে প্যায়ার কে চার্চে’, ‘জব জব ফুল খিলে’ সিনেমার ‘না না কারতে প্যায়ার’ এবং ‘রাজকুমার’ ছবির ‘তুমনে পুকারা অর হাম চলে আয়’ গানগুলো তাঁকে বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি শ্রোতার হৃদয়ে স্থায়ী ও অমর জায়গা করে দেয়।

​সুমন কল্যাণপুর তাঁর সুদীর্ঘ কর্মজীবনে ১১টি ভিন্ন ভাষায় প্রায় ৭৪০টি গান গেয়েছেন। এর মধ্যে কিংবদন্তি গায়ক মোহাম্মদ রফির সঙ্গেই গেয়েছেন ১৪০টি কালজয়ী দ্বৈত গান। চলচ্চিত্র সংগীতের আকাশছোঁয়া সফলতার পাশাপাশি সনাতন ধর্মের আধ্যাত্মিক ধারা ও ঐতিহ্যবাহী ভজন এবং গজলেও তিনি ছিলেন সমান পারদর্শী। তাঁর গাওয়া ভজনগুলো আজও সনাতন ধর্মাবলম্বীদের হৃদয়ে আধ্যাত্মিক চেতনার খোরাক জোগায়। তাঁর কণ্ঠের অসাধারণ মাধুর্য ও কোমলতার কারণে অনেক সময় তৎকালীন বোদ্ধারা তাঁকে লতা মঙ্গেশকরের সঙ্গে তুলনা করতেন। তবে মহানুভব ও বিনয়ী এই শিল্পী সবসময়ই সেই তুলনাকে বিনম্র চিত্তে অস্বীকার করে এসেছেন। ২০২২ সালের এক সাক্ষাৎকারে তিনি লতা মঙ্গেশকরকে তাঁর ঘনিষ্ঠতম বন্ধু হিসেবে উল্লেখ করে বলেছিলেন যে, প্রতিবার দেখা হলে তাঁদের সম্পর্ক বন্ধুর মতোই নিবিড় মনে হতো।

​এই কিংবদন্তির আকস্মিক মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর সমগ্র ভারতসহ বাংলাদেশেও গভীর শোকের ছায়া নেমে আসে। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি তাঁর প্রয়াণে গভীর শোক প্রকাশ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লিখেছেন, সুমন কল্যাণপুরের সুরেলা কণ্ঠ এবং সংগীতের প্রতি অবদান ভারতীয় সংস্কৃতি ও চলচ্চিত্র জগতে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। হিদুস নিউজের পক্ষ থেকেও এই মহান সুরসাধিকার প্রয়াণে গভীর শ্রদ্ধাঞ্জলি ও ওম শান্তি জ্ঞাপন করা হচ্ছে। মৃত্যুকালে তিনি তাঁর একমাত্র কন্যা চারুকে রেখে গেছেন। আজ সোমবার মুম্বাইয়ে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় এবং সনাতন ধর্মীয় রীতিনীতি মেনে তাঁর শেষকৃত্য সম্পন্ন হওয়ার কথা রয়েছে।


হিন্দুস নিউজ

প্রকাশক & সম্পাদক: শুভ চন্দ্র দে
HINDUS NEWS মিডিয়া লিমিটেডের পক্ষে প্রকাশক কর্তৃক ঢাকা থেকে প্রকাশিত

প্রকাশক & সম্পাদক: শুভ চন্দ্র দে,🔴HINDUS NEWS মিডিয়া লিমিটেডের পক্ষে প্রকাশক কর্তৃক ঢাকা থেকে প্রকাশিত।🔴যোগাযোগ: +88 01890890920🔴 ই-মেইল: news@hindus.news 🔴 বিজ্ঞাপন: ads@hindus.news
সুরের ভুবনে এক নক্ষত্রের পতন: চিরতরে হারিয়ে গেলেন সুরসম্রাজ্ঞী সুমন কল্যাণপুর
0:00 0:00
1.0x