আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ঝালকাঠি জেলা গোয়েন্দা পুলিশের একটি চৌকস দল রোববার সন্ধ্যায় শীতলাখোলা এলাকায় অবস্থান নেয়। এ সময় সন্দেহভাজন হিসেবে তল্লাশি চালিয়ে সুমন চক্রবর্তীর কাছ থেকে নিষিদ্ধ মাদক ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। মাদকবিরোধী এই সফল অভিযানের পর আটককৃত পুরোহিতকে সরাসরি ঝালকাঠি সদর থানায় সোপর্দ করা হয়। ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার সাথে সাথেই পুরো ঝালকাঠি শহরে এটি ‘টক অব দ্য টাউন’-এ পরিণত হয় এবং সাধারণ নাগরিকদের মাঝে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করে।
এদিকে, আধ্যাত্মিক ও ধর্মীয় উপাসনালয়ের পবিত্রতা রক্ষায় এবং অপরাধের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা করে তাৎক্ষণিক কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে ঝালকাঠি কালীবাড়ি মন্দির কর্তৃপক্ষ। ঘটনার পরপরই এক জরুরি সভার মাধ্যমে মন্দির কমিটি একটি আনুষ্ঠানিক প্রেস বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে। উক্ত বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, অনৈতিক কর্মকাণ্ডে লিপ্ত থাকার অভিযোগে অভিযুক্ত পুরোহিত সুমন চক্রবর্তীকে মন্দির ও ধর্মীয় দায়িত্ব থেকে সম্পূর্ণভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে। একই সাথে মন্দিরের পবিত্রতা অক্ষুণ্ণ রাখতে সনাতন সমাজ সর্বদা বদ্ধপরিকর বলে নেতৃবৃন্দ পুনর্ব্যক্ত করেন।
এই আইনি লঙ্ঘনের বিষয়ে জানতে চাইলে ঝালকাঠি সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাহমুদ হাসান গণমাধ্যমকে জানান, ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে। এই গ্রেফতারের প্রেক্ষিতে উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. তারিফুল ইসলাম বাদী হয়ে ধৃত আসামি সুমন চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর ৩৬(১) সারণির ১০(ক) ধারায় একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করেছেন।(News copied from- HINDUS NEWS) আসামিকে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আদালতে প্রেরণ করার প্রস্তুতি চলছে এবং মাদকের নেপথ্য উৎস সন্ধানে তদন্ত অব্যাহত থাকবে।
সনাতনী সম্প্রদায় সবসময় মানবাধিকার, সামাজিক ন্যায়বিচার ও সনাতন সমাজের আত্মমর্যাদার কথা বলে। আমরা বিশ্বাস করি, ধর্মীয় লেবাস ধারণ করে যারা সমাজে মাদক বা যেকোনো অপরাধের বিষবাষ্প ছড়িয়ে দেয়, তারা কেবল আইনেরই শত্রু নয়, বরং সমগ্র মানবজাতি ও ধর্মের শত্রু। এই ঘটনায় সুচারু এবং নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দোষীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছে সনাতন সমাজ, যাতে ভবিষ্যতে কেউ এমন পবিত্র পদের অবমাননা করার দুঃসাহস না দেখায়।
মতামত