নির্মাণকাজের একপর্যায়ে শংকর মাস্টার দাবি করেন যে, ফনিন্দ্র কর্মকারের এক দশক আগে তৈরি ভবনের ভেতরের ৬ ফিট জায়গা নাকি তার নিজের। যেকোনো ভূমি সংক্রান্ত বিরোধ থাকলে তা ঘর নির্মাণের পূর্বেই উত্থাপন করা আইনি নিয়ম হলেও, শংকর কর্মকার কোনো নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে আজ হঠাৎ গায়ের জোরে জায়গা ছাড়ার জন্য চাপ দিতে থাকেন। প্রবীণ ফনিন্দ্র কর্মকার তখন পাড়ার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং জমির বৈধ কাগজপত্র নিয়ে বৈঠকের মাধ্যমে বিষয়টি মীমাংসার প্রস্তাব দিলে শংকর মাস্টার তা চরম ঔদ্ধত্যের সাথে প্রত্যাখ্যান করেন এবং তাৎক্ষণিকভাবে জায়গা ছেড়ে দেওয়ার জন্য হুমকি দেন।


এরই ধারাবাহিকতায়, বিগত কয়েকদিন ধরে ফনিন্দ্র কর্মকারের নিজস্ব বসতঘরের টিনের ছাউনি ঘেঁষে ভেতরে সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে ইটের দেওয়াল তুলতে শুরু করেন শংকর। শুধু তাই নয়, দেওয়াল তোলার পর তিনি ফনিন্দ্র কর্মকার ও তার সন্তানদের নির্দেশ দেন তাদের নিজেদের ঘরের টিনের ছাউনি কেটে ফেলার জন্য, যাতে তিনি সেখানে নির্বিঘ্নে ঘর তুলতে পারেন। নিজের বৈধ জায়গায় এমন বেআইনি আগ্রাসনের বিরুদ্ধে ফনিন্দ্র কর্মকার ও তার সন্তানেরা তীব্র আপত্তি জানান এবং নিজেদের বসতভিটা রক্ষায় অনড় অবস্থান নেন। সনাতনী এই পরিবারের প্রশ্ন, এক দশক আগে যখন এই পাকা বাড়ি নির্মাণ করা হয়েছিল, তখন শংকর কোনো আপত্তি তোলেননি কেন? আজ কোন আইনের বলে তিনি অন্যের বাড়ি ভেঙে নিজের ঘর তোলার পাঁয়তারা করছেন? আজ ঘটনার একপর্যায়ে ফনিন্দ্র কর্মকারের ঘরের চালের টিনের ছাউনি ভেঙে শংকর যখন তার ইটের দেওয়াল আরও উঁচুতে তোলার চেষ্টা করছিলেন, তখন ৮৫ বছর বয়সী বৃদ্ধ ফনিন্দ্র কর্মকার এতে বাধা দেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে শিক্ষক নামধারী শংকর কর্মকার ওই বৃদ্ধকে তার নিজের ঘরের ছাদ থেকে সজোরে ধাক্কা দিয়ে নিচে ফেলে দেন। ছাদ থেকে পড়ে গিয়ে প্রবীণ ফনিন্দ্র কর্মকার পিঠে এবং হাতে গুরুতর জখমসহ মারাত্মকভাবে আহত হন। তাকে প্রথমে রক্তাক্ত অবস্থায় লোহাগাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয় এবং পরবর্তীতে অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। (News copied from- 'হিন্দুস নিউজ')

এই বর্বরোচিত হামলার বিষয়ে ফনিন্দ্র কর্মকারের পুত্র শিমুল কর্মকার তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান যে, শংকর কর্মকার যদি আসলেও জায়গা পেয়ে থাকেন, তবে ঘর তৈরির সময় কেন অভিযোগ করেননি? আমরা বারবার সামাজিক ও পারিবারিকভাবে বিষয়টি সমঝোতার চেষ্টা করলেও শংকর সবসময় তার বাহুবল এবং প্রভাব খাটিয়ে আমাদের ওপর চাপ সৃষ্টি করে আসছিল। গত ১৫-২০ দিন ধরে সে আমাদের ঘরের ছাউনির ভেতর জোরপূর্বক দেয়াল তুলছে। আজ অবশেষে আমার প্রবীণ ও সম্মানিত বাবাকে হত্যা করার উদ্দেশ্যে শংকর কর্মকার গ্রামে কিছু বহিরাগত বিধর্মী লোক প্রবেশ করিয়ে এই হামলা চালায় এবং ওনাকে ছাদ থেকে ফেলে দেয়। আমরা প্রশাসনের কাছে এই জঘন্য অপরাধের সুষ্ঠু তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবি করছি।
সরেজমিন পরিদর্শনে দেখা যায়, ফনিন্দ্র কর্মকারের নিজস্ব দ্বিতল বাড়ির ঠিক সামনেই শংকর কর্মকার তার ভবনের নির্মাণকাজ চালাচ্ছেন। দুজনের বাড়ির উচ্চতা সমান না হওয়ায় এবং ফনিন্দ্র কর্মকারের বাড়িটি কিছুটা নিচু হওয়ায়, তার ছাদের টিনের চালটি শংকরের নির্মাণাধীন দ্বিতীয় তলার ছাদের অংশে প্রবেশ করেছে। ফনিন্দ্র কর্মকারের পরিবারের দাবি ছিল টিনের চালটি অক্ষত রেখে দেয়াল তোলা হোক, কিন্তু শংকর তা মানতে নারাজ। একজন শিক্ষক হয়েও শংকর কর্মকার যেভাবে সম্পূর্ণ সনাতনী অধ্যুষিত এই পাড়ায় বহিরাগত বিধর্মী মাস্তানদের ভাড়া করে এনে প্রবীণ ব্যক্তির ওপর হামলা চালিয়েছেন এবং গ্রামের শান্তি বিনষ্ট করেছেন, তাতে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী তার কঠোর শাস্তি দাবি করেছেন।
সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, আজ সন্ধ্যা ৭টায় ফনিন্দ্র কর্মকারের আরেক পুত্র শিবু কর্মকার জানিয়েছেন, তার বাবাকে নির্মমভাবে আঘাত করে ছাদ থেকে ফেলে হত্যাচেষ্টা এবং বহিরাগতদের এনে পাড়ায় সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা সৃষ্টির দায়ে তারা শংকর কর্মকারের বিরুদ্ধে একটি ফৌজদারি মামলা দায়ের করছেন, যার আইনি প্রক্রিয়া বর্তমানে চলমান রয়েছে।

মতামত