পবিত্র শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা কেবল সনাতন ধর্মাবলম্বীদের পরম পবিত্র ধর্মগ্রন্থই নয়, বরং এটি সমগ্র মানবজাতির মুক্তির পথপ্রদর্শক এবং শাশ্বত দর্শনের এক অনন্ত উৎস। যুগে যুগে দেশে-দেশে, জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে বিশ্ববিদ্বান ও মনীষীগণ গীতার এই অমিয় বাণীতে মুগ্ধ হয়ে একে জড়িয়ে ধরেছেন পরম মমতায়। বিশ্বের প্রধান প্রধান ভাষায় গীতার প্রথম অনুবাদ করতে গিয়ে অনেক ভিন্নধর্মী অনুবাদকই এর আধ্যাত্মিক গভীরতা উপলব্ধি করেছেন এবং পরবর্তীতে সনাতন ধর্মের সুশীতল ছায়াতলে আশ্রয় নিয়েছেন। ইতিহাসে এটি এক অবিস্মরণীয় এবং গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায়, যা প্রমাণ করে সনাতন ধর্মের সত্যতা ও সর্বজনীনতা কোনো সীমানায় আবন্ধ নয়।
ঐতিহাসিক তথ্য পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, সর্বপ্রথম শ্রীমদ্ভগবদ্গীতাকে উর্দু ভাষায় অনুবাদ করেছিলেন মোহাম্মদ মেহেরউল্লাহ, যিনি পরবর্তীতে গীতার অমিয় দর্শনে উদ্বুদ্ধ হয়ে ধর্মান্তরিত হন এবং হিন্দু ধর্ম গ্রহণ করেন। একইভাবে, পবিত্র গীতাকে সর্বপ্রথম আরবি ভাষায় অনুবাদ করেছিলেন একজন ফিলিস্তিনি, যার নাম এল ফাতে কমান্ডো। এই অনুবাদ কর্মটি সম্পন্ন করার পর তিনি সনাতন ধর্মের প্রতি গভীরভাবে আকৃষ্ট হন এবং পরবর্তীতে জার্মানিতে আন্তর্জাতিক কৃষ্ণভাবনামৃত সংঘের (ইসকন) সাথে যুক্ত হয়ে হিন্দু ধর্মে দীক্ষিত হন। (News copied from- 'হিন্দুস নিউজ') অন্যদিকে, পশ্চিমা বিশ্বে আধ্যাত্মিকতার আলো ছড়াতে গীতাকে সর্বপ্রথম ইংরেজি ভাষায় অনুবাদ করেন চার্লস উইলিকনস্। গীতার জ্ঞানসমুদ্রে নিমজ্জিত হয়ে তিনি একপর্যায়ে দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে ঘোষণা করেছিলেন যে, পৃথিবীর সমস্ত মতবাদ বা ধর্ম একদিন কালের গহ্বরে হারিয়ে যেতে পারে, কিন্তু সনাতন ধর্মই একমাত্র চিরন্তন সত্য হিসেবে টিকে থাকবে।
গীতার এই বিশ্বজয়ের যাত্রা এখানেই থেমে থাকেনি। মধ্যপ্রাচ্য থেকে শুরু করে ইউরোপ পর্যন্ত এর প্রভাব ছড়িয়ে পড়েছে সমানভাবে। ইসরায়েলের হিব্রু ভাষায় সর্বপ্রথম গীতার অনুবাদক বেজাশিটায়ন ল ফহ্ন অনুবাদ সম্পন্ন করার পর অন্তরের টানে সুদূর ভারতে ছুটে আসেন এবং সনাতন ধর্ম গ্রহণ করেন। একইভাবে, রুশ ভাষায় গীতার প্রথম অনুবাদক নভিকভ অনুবাদ করতে গিয়ে শ্রীকৃষ্ণের পরম ভক্তে পরিণত হন। এখন পর্যন্ত বিশ্বের অন্তত ২৯৩ জন মহান মনীষী শ্রীমদ্ভগবদ্গীতাকে বিভিন্ন ভাষায় অনুবাদ করেছেন। যার মধ্যে রয়েছে বাংলায় ৫৮টি, ইংরেজিতে ৮৮টি, জার্মান ভাষায় ১২টি, রুশ ভাষায় ৮টি, ফরাসি ভাষায় ৮টি, স্প্যানিশ ভাষায় ১৩টি, আরবিতে ৫টি এবং উর্দু ভাষায় ৩টি অনুবাদসহ আরও অসংখ্য ভাষার সংস্করণ। তবে ইতিহাসের এক অনন্য ও সুন্দর বৈপরীত্য হলো, মুসলমানদের পবিত্র ধর্মীয় গ্রন্থ আল কোরআনকে সর্বপ্রথম বাংলায় অনুবাদ করেছিলেন একজন সনাতন ধর্মাবলম্বী, যার নাম ভাই গিরিশ চন্দ্র সেন। যিনি অন্য অনুবাদকদের মতো ধর্মান্তরিত না হয়েও সর্বজনীন মানবিক মূল্যবোধ ও ধর্মীয় সম্প্রীতির এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করে গেছেন। সনাতন ধর্মের এই গৌরবময় ইতিহাস ও গীতার মহিমা বিশ্ববাসীর কাছে পৌঁছে দিতে পোস্টটি অবশ্যই Share করে সকলকে জানার ও দেখার সুযোগ করে দিন। হরে কৃষ্ণ, হরিবল।
মতামত