বিশ্বের সবচেয়ে বড় মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ ইন্দোনেশিয়া। অথচ এই দেশেরই সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় ঐতিহ্যের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ জুড়ে রয়েছে প্রাচীন সনাতন ধর্মের গৌরবময় ইতিহাস। তার সবচেয়ে বড় এবং জীবন্ত প্রমাণ হয়ে দাঁড়িয়ে আছে দেশটির বালি দ্বীপের বিখ্যাত ‘গারুদা বিষ্ণু কেঞ্চনা কালচারাল পার্ক’। এই পার্কেই অবস্থিত বিশ্বের অন্যতম সর্বোচ্চ ও দৃষ্টিনন্দন সনাতন ভাস্কর্য ‘গারুদা বিষ্ণু কঙ্কনা’ (GWK)। যা কেবল একটি শিল্পকর্ম নয়, বরং বৈশ্বিক মানবাধিকার, ধর্মীয় সহনশীলতা এবং সনাতন সংস্কৃতির এক কালজয়ী প্রতীক হিসেবে বিশ্বমঞ্চে সমাদৃত।
পৌরাণিক আখ্যান ও সনাতন দর্শনের এক অপূর্ব মেলবন্ধন ঘটেছে এই ভাস্কর্যে। এটি মূলত হিন্দু পুরাণের অন্যতম প্রধান দেবতা ভগবান শ্রীবিষ্ণু এবং তাঁর পরম বিশ্বস্ত বাহন পক্ষীরাজ গরুড়কে উৎসর্গ করে নির্মাণ করা হয়েছে। আধুনিক বিশ্বে যখন সনাতনীদের অধিকার ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য অনেক ক্ষেত্রেই উপেক্ষিত, তখন মুসলিম প্রধান একটি দেশে সনাতন ধর্মের এমন রাজকীয় রূপ বিশ্ববাসীকে সম্প্রীতির এক নতুন বার্তা দেয়। প্রায় ১২১ মিটার বা ৩৯৭ ফুট উঁচু এই বিশালাকার ভাস্কর্যটি দূর থেকেও দর্শনার্থীদের মনে এক পরম আধ্যাত্মিক ও অপার্থিব অনুভূতির সৃষ্টি করে, যা সনাতন ধর্মের চিরন্তন মহিমাকে স্মরণ করিয়ে দেয়। News copied from- 'হিন্দুস নিউজ'
এই মহিমান্বিত কীর্তির পেছনে রয়েছে ইন্দোনেশিয়ার খ্যাতিমান ভাস্কর নিউম্যান নুআর্তা (Nyoman Nuarta)-এর অক্লান্ত পরিশ্রম ও অনন্য নির্মাণশৈলী। তাঁর নিখুঁত নকশা ও দীর্ঘদিনের সাধনার পর ২০১৮ সালে জমকালো আয়োজনের মধ্য দিয়ে এই ভাস্কর্যটি আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয়। তামা এবং পিতলের মিশ্রণে তৈরি এই ভাস্কর্যটি আজ শুধু ইন্দোনেশিয়ার অহংকার নয়, বরং গোটা বিশ্বের সনাতন স্বাধিকার ও সনাতনী জাতিসত্তার এক পরম গৌরবের স্থান। বিশ্বের আনাচ-কানাচ থেকে ছুটে আসা কোটি কোটি দর্শনার্থী ও পর্যটকদের কাছে এটি প্রমাণ করে যে, প্রকৃত শিল্প ও ধর্মীয় চেতনা সব সময় জাতি, ধর্ম ও বর্ণের ঊর্ধ্বে উঠে মানবতার জয়গান গায়। বৈশ্বিক মানবাধিকার এবং ধর্মীয় স্বাধীনতার এক উজ্জ্বল বাতিঘর হিসেবে এই ভাস্কর্য যুগ যুগ ধরে সনাতন সংস্কৃতির শ্রেষ্ঠত্ব বহন করে চলবে।
মতামত