চট্টগ্রামের মিরসরাইসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম ঐতিহ্যবাহী ধর্মীয় উৎসব শীতলা মায়ের পূজা পালিত হচ্ছে। মিরসরাই উপজেলার জোরারগঞ্জ থানাধীন গোপীনাথপুর, বারৈয়ারহাট, মিঠাছড়া, শুভপুর, মুরারীপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় শনিবার ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে এই পূজা অনুষ্ঠিত হয়।
স্থানীয়ভাবে প্রচলিত রীতিনীতি অনুসারে পূজার পূর্বদিন রাতে "মালশি" অনুষ্ঠিত হয় এবং পূজার দিন ভক্তরা শীতলা মায়ের আরাধনায় অংশ নেন। বিভিন্ন স্থানে ভক্তদের উপস্থিতিতে পূজা, অর্চনা, প্রসাদ বিতরণ ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
শাস্ত্রীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, শীতলা দেবীকে রোগ-ব্যাধি নাশিনী এবং জনকল্যাণের অধিষ্ঠাত্রী শক্তি হিসেবে পূজা করা হয়। পুরাণ ও লোকাচারভিত্তিক ধর্মীয় চর্চায় শীতলা মাতার আরাধনার মাধ্যমে গুটি বসন্তসহ বিভিন্ন সংক্রামক রোগ থেকে সুরক্ষা, পরিবারের মঙ্গল এবং সমাজের শান্তি কামনা করা হয়। "শীতলাষ্টক" ও অন্যান্য স্তোত্রে দেবীকে মানবজাতির দুঃখ-কষ্ট দূরকারী এবং রোগমুক্তির আশীর্বাদদাত্রী হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে।
ভক্তরা জানান, যুগ যুগ ধরে বাংলার গ্রামাঞ্চলে শীতলা পূজার একটি বিশেষ ঐতিহ্য রয়েছে। ধর্মীয় বিশ্বাস ও পারিবারিক প্রথা অনুসরণ করে প্রতিবছর এই পূজার আয়োজন করা হয়। এ বছরও ভক্তদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে মিরসরাইয়ের বিভিন্ন এলাকায় পূজার পরিবেশ ছিল উৎসবমুখর।
পূজা উপলক্ষে ভক্তরা দেশ, সমাজ ও পরিবারের সুখ-শান্তি, সুস্বাস্থ্য এবং সর্বজনের মঙ্গল কামনায় বিশেষ প্রার্থনা করেন। ধর্মীয় সম্প্রীতি ও ঐতিহ্যের ধারক হিসেবে শীতলা মায়ের এই পূজা স্থানীয় সনাতনী সমাজে গভীর গুরুত্ব বহন করে।
মতামত