কর্ম, পুষ্টি ও পর্যাপ্ত ঘুমের সুষম সমন্বয়ে একটি ভারসাম্যপূর্ণ জীবনযাপনই মানুষের সব দুঃখ-কষ্ট দূর করার একমাত্র চাবিকাঠি। সনাতন ধর্মের পবিত্র গ্রন্থ শ্রীমদ্ভগবদ্গীতার এই শাশ্বত বাণী উদ্ধৃত করে আন্তর্জাতিক যোগ দিবসে বিশ্ববাসীকে বিশেষ বার্তা দিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, প্রাচীন এই যোগব্যায়ামই আধুনিক মানুষকে সেই পরম ভারসাম্যের পথ দেখাতে পারে। প্রধানমন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন, এই ভারসাম্যই যোগব্যায়ামের মূল ভিত্তি, ঠিক যেমন এটি আমাদের সনাতন জীবনদর্শনেরও প্রধান ভিত্তি। আধুনিক গতিশীল জীবনযাত্রায় বেশিরভাগ মানুষ এই মানসিক ও শারীরিক ভারসাম্য বজায় রাখতে গিয়ে প্রতিনিয়ত হিমশিম খাচ্ছেন। আর যোগব্যায়াম আমাদের সেই সুষমভাবে জীবনযাপনের অনন্য শিল্প শেখায় এবং জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে কী করা উচিত আর কী করা উচিত নয় তা সুনির্দিষ্টভাবে বাতলে দেয়। যখন আমরা আমাদের শরীর ও মনকে সঠিক উপায়ে পরিচালনা করতে শিখি, তখন সুস্বাস্থ্য কোনো সাময়িক বিষয় নয়, বরং আমাদের দৈনন্দিন অভ্যাসে পরিণত হয়।
প্রধানমন্ত্রী মোদি তাঁর বক্তব্যে আরও উল্লেখ করেন যে, যোগব্যায়াম কেবল বাহ্যিক বা শারীরিক স্বাস্থ্যের ওপরই আলোকপাত করে না, বরং এটি গভীর মানসিক প্রশান্তির মাধ্যমে সামগ্রিক শারীরিক সুস্থতা অর্জনের পথ খুঁজে পেতে সাহায্য করে। সেজন্য যোগব্যায়াম শুধু আমাদের ব্যক্তিগত সনাতন জীবনযাত্রার জন্যই প্রয়োজনীয় নয়, বরং সমগ্র বিশ্বের শান্তি ও একটি সুন্দর ভবিষ্যতের জন্য অপরিহার্য। News copied from- 'হিন্দুস নিউজ'
সুস্থ শরীর, প্রশান্ত মন ও দীর্ঘায়ুর শাশ্বত বার্তা দেওয়া এই যোগব্যায়ামকে কেবল একটি নির্দিষ্ট দিন বা কোনও আনুষ্ঠানিকতার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রাখার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। বরং একে নিজের, পরিবারের এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ করে তোলার জন্য তিনি সর্বস্তরের মানুষের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানান। প্রতিটি মানুষের মানবাধিকার ও সুস্বাস্থ্যের অধিকার নিশ্চিত করতে যোগচর্চা এক মহৌষধ। এদিকে আন্তর্জাতিক যোগ দিবস উপলক্ষে ভারতের মধ্যপ্রদেশে আয়োজিত এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানে যোগব্যায়ামে অংশ নেন ভারতের রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু। জবলপুরে আয়োজিত রাজ্য পর্যায়ের ওই বিশেষ ও ভাবগম্ভীর অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে আরও একাত্ম হয়ে যোগচর্চায় অংশ নেন রাজ্যের রাজ্যপাল মঙ্গুভাই প্যাটেল এবং মুখ্যমন্ত্রী মোহন যাদব। বিশ্বমানবতার কল্যাণ ও সনাতনী ঐতিহ্যের এই গৌরবময় দিনটি সারা বিশ্বে গভীর শ্রদ্ধার সাথে উদযাপিত হয়েছে।
মতামত