কুড়িগ্রামের রাজারহাটে আবুল খায়ের টোব্যাকো কোম্পানির নৈশপ্রহরী তপন সরকারের নির্মম হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় অভিযুক্ত প্রতিষ্ঠানটির ম্যানেজার ও এক কর্মচারীকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। এই গ্রেপ্তারকে তদন্তে বড় অগ্রগতি হিসেবে দেখছেন তদন্তকারীরা।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন প্রতিষ্ঠানটির ম্যানেজার লিটন (আব্দুর রহমান ডাক্তারের ছেলে) এবং কর্মচারী আজম। গত বুধবার সন্ধ্যায় রাজারহাট উপজেলার বিদ্যানন্দ ইউনিয়নের চতুরা গ্রাম থেকে ম্যানেজার লিটনকে তার নিজ বাসা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। বৃহস্পতিবার কর্মচারী আজমকে তার কর্মস্থল থেকেই আটক করা হয়।
এ বিষয়ে কুড়িগ্রাম জেলা ডিবি পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বজলুর রহমান সাংবাদিকদের নিশ্চিত করে জানান, "গ্রেপ্তারকৃতদের তীব্র জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। আমরা আশা করছি, তাদের কাছ থেকে হত্যাকাণ্ড ও অর্থ লুণ্ঠনের ঘটনার সঙ্গে জড়িত অপরাধীদের সম্পর্কে এবং পুরো পরিকল্পনা সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাব। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের পর আইনানুগ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে তাদের আদালতে হাজির করা হয়েছে।"
উল্লেখ্য, গত ১৩ ডিসেম্বর দিবাগত রাত রাজারহাটের আবুল খায়ের টোব্যাকো কোম্পানির অফিস কক্ষের ভেতরে নিরস্ত্র নৈশপ্রহরী তপন সরকারকে গলা কেটে হত্যা করা হয়। ওই একই রাতে অফিস থেকে আনুমানিক ৩৫ লাখ টাকারও বেশি নগদ অর্থ লুট হয়ে যায় বলে অভিযোগ রয়েছে।
ঘটনার পর থেকেই জটিল এই হত্যা ও ডাকাতির রহস্য উন্মোচনে পুলিশ ও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা যৌথভাবে ব্যাপক তদন্ত চালাচ্ছে। এবারের গ্রেপ্তারকে তদন্তের গতি ও দিকনির্দেশনার জন্য একটি তাৎপর্যপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে ডিবি সূত্র বলছে, আরও কয়েকজন সন্দেহভাজনকে নজরদারিতে রাখা হয়েছে এবং শিগগিরই নতুন গ্রেপ্তারের সম্ভাবনা রয়েছে।
স্থানীয় এলাকায় এই হত্যাকাণ্ড নিয়ে তৈরি হওয়া ভয় ও উত্তেজনার মধ্যে এই গ্রেপ্তার কিছুটা হলেও ন্যায়বিচারের আশা জাগিয়েছে। তপন সরকারের পরিবার ও স্থানীয়রা দ্রুততম সময়ের মধ্যে প্রকৃত অপরাধীদের চূড়ান্ত শাস্তির দাবি জানিয়ে আসছেন।
পুলিশের উচ্চপদস্থ সূত্র জানিয়েছে, অফিসের ভেতরের লোকজন বা পরিচিত জনের সংশ্লিষ্টতার দিকটি তদন্তের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। অর্থ লুটের উদ্দেশ্য নাকি অন্য কোনো দ্বন্দ্ব থেকে এই হত্যা—তা নিশ্চিত করতে আরও গভীর অনুসন্ধান চালানো হচ্ছে।
মতামত