আধুনিক করপোরেট বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ ব্যক্তিত্ব হয়েও সনাতনী ঐতিহ্য ও আধ্যাত্মিক চেতনার প্রতি গভীর অনুরাগ প্রদর্শন করে এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজের এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর অনন্ত আম্বানি। অন্ধ্রপ্রদেশের তিরুমালায় অবস্থিত ঐতিহাসিক শ্রী ভেঙ্কটেশ্বর স্বামী (তিরুপতি বালাজি) মন্দিরে সম্প্রতি এক বিশেষ ধর্মীয় সফরে আসেন তিনি। সেখানে শুধু সাধারণ দর্শনই নয়, বরং সনাতন ধর্মের বহু প্রাচীন ও পবিত্র রীতি মেনে তিনি সম্পূর্ণ মস্তক মুণ্ডন (কেশদান) সংস্কার সম্পন্ন করেন। সনাতন শাস্ত্রে ভগবানের চরণে কেশ উৎসর্গ করাকে অহংকার ও পার্থিব মোহ ত্যাগ করে পরমেশ্বরের প্রতি পূর্ণ আত্মসমর্পণের প্রতীক হিসেবে বিবেচনা করা হয়। বিশ্বখ্যাত এক ব্যবসায়ী পরিবারের উত্তরসূরির এমন বিনম্র ও ভক্তিপূর্ণ আচরণ বিশ্বজুড়ে সনাতনীদের মাঝে এক গভীর আধ্যাত্মিক প্রেরণা ও ইতিবাচক বার্তা সঞ্চার করেছে।
(News copied from- 'হিন্দুস নিউজ') পবিত্র দর্শন ও ধর্মীয় আচার সম্পন্ন করার পর সনাতনী সেবা এবং জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে এক বিশাল অবদান রাখেন অনন্ত আম্বানি। রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজের পক্ষ থেকে তিরুমালা তিরুপতি দেবস্থানমকে (টিটিডি) প্রায় ২৭ কোটি ৫০ লক্ষ টাকা মূল্যের ২৫টি অত্যাধুনিক ইলেকট্রিক বাস উপহার দেওয়ার ঘোষণা দেন তিনি। পাহাড়ি তীর্থক্ষেত্রে আসা লক্ষ লক্ষ সনাতনী পুণ্যার্থীদের পরিবেশবান্ধব ও নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতেই এই বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মহতী এই সেবাকর্ম কেবল বাহন দেওয়ার মাঝেই সীমাবদ্ধ থাকেনি; এই বাসগুলো পরিচালনার জন্য ৫০ জন চালকের বেতন, ভাতা ও স্বাস্থ্য সুরক্ষার যাবতীয় ব্যয়ভার সম্পূর্ণ বহন করবে রিলায়েন্স কোম্পানি। এর পাশাপাশি তীর্থস্থানে চার্জিং স্টেশন স্থাপন ও প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত অবকাঠামো তৈরির ক্ষেত্রেও পূর্ণ সহায়তার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে, যা সনাতনী তীর্থযাত্রীদের সুবিধার্থে এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ।
একই সাথে মন্দির চত্বরে তাঁর স্বভাবসুলভ জীবপ্রেমের এক চমৎকার দৃশ্য পরিলক্ষিত হয়, যেখানে তিনি নিজ হাতে মন্দিরস্থ হাতিদের খাবার খাওয়ান। উল্লেখ্য, গুজরাটের জামনগরে বিশ্বখ্যাত পশু সংরক্ষণ কেন্দ্র 'বনতারা' গড়ে তোলার পেছনেও তাঁর সনাতনী অহিংসা ও জীবসেবার মূলনীতি কাজ করেছে। ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান শেষে মন্দিরের শীর্ষস্থ বেদজ্ঞ পণ্ডিত ও বিদ্বানেরা তাঁকে পবিত্র বেদ মন্ত্র উচ্চারণের মাধ্যমে আশীর্বচন প্রদান করেন। পরবর্তীতে মন্দির কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে ঐতিহ্যবাহী রেশমি শাল ও শ্রী ভেঙ্কটেশ্বর স্বামীর পবিত্র মহাপ্রসাদ দিয়ে তাঁকে বিশেষ সম্মানে ভূষিত করা হয়। অনন্ত আম্বানির এই তিরুপতি যাত্রা আবারও প্রমাণ করল যে, বিপুল ঐশ্বর্য ও ব্যবসায়িক ব্যস্ততার মাঝেও সনাতনী মূল্যবোধ, ভক্তি এবং মানবসেবাকে সর্বোচ্চ স্থান দেওয়া সম্ভব।
মতামত