উদ্যোক্তা ডা. শ্রীকান্ত বণিক এই মহান উদ্যোগ সম্পর্কে বলেন, “দেওয়ানপুর সার্বজনীন মহাশ্মশান শুধু একটি সৎকারস্থল নয়, এটি মূলত একটি মানবিক সেবাকেন্দ্র। আমাদের সনাতন ধর্মীয় ঐতিহ্য ও আধুনিক প্রযুক্তির মেলবন্ধনে এমন একটি ব্যবস্থা আমরা গড়ে তোলার চেষ্টা করেছি, যেখানে প্রতিটি মানুষ যেন তার শেষ বিদায়ের ক্ষণে সর্বোচ্চ মর্যাদা পান। বিশেষ করে সমাজের অসহায় ও অসচ্ছল পরিবারের পাশে দাঁড়ানো এবং সম্পূর্ণ পরিবেশবান্ধব ও ধোঁয়াযুক্ত দূষণমুক্ত ব্যবস্থাপনায় সৎকার কার্যক্রম পরিচালনাই আমাদের মূল লক্ষ্য।”
তিনি আরও জানান, প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের সুবিধার্থে মাত্র একটি ফোন কলের মাধ্যমেই শ্মশানের সমস্ত প্রয়োজনীয় জরুরি সেবা নিশ্চিত করার সুব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এর অধীনে মৃতদেহ যথাযথ মর্যাদায় পরিবহন, সৎকারের প্রয়োজনীয় যাবতীয় ধর্মীয় উপকরণ সরবরাহ, পারলৌকিক ক্রিয়াকর্মের আচার-অনুষ্ঠানে সর্বাত্মক সহযোগিতা এবং অভিজ্ঞ সেবাকর্মীদের সার্বক্ষণিক তত্ত্বাবধানে সম্পূর্ণ সৎকার প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত সুচারুভাবে সম্পন্ন করা হবে।
মহাশ্মশান কর্তৃপক্ষের সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা অনুযায়ী, সমাজের দরিদ্র, দুস্থ ও অসহায় পরিবারের স্বজনদের জন্য সম্পূর্ণ বিনামূল্যে অথবা নামমাত্র ব্যয়ে এই সৎকার সেবা প্রদান করা হবে। পরিচ্ছন্ন, নিরাপদ, আধুনিক ও পরিবেশবান্ধব ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত এই মহাশ্মশান ও শিব মন্দিরটি পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হলে মীরসরাইয়ের সনাতনী মানুষের দীর্ঘদিনের একটি মৌলিক ও ধর্মীয় অধিকার পূরণ হবে এবং মানবিকতার এক নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্ট সনাতনী নেতৃবৃন্দ।
মতামত