অভিযোগ অনুযায়ী, অভিযুক্ত ব্যক্তি ছাত্রী হলের ওয়াশরুমে গোপনে ক্যামেরা ব্যবহার করে এক হিন্দু ছাত্রীর ব্যক্তিগত ভিডিও ধারণ করেন। পরে সেই ভিডিও একটি ইসলামিক টেলিগ্রাম গ্রুপে শেয়ার করা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। আরও অভিযোগ করা হয়েছে যে, ওই ধরনের ভিডিও ব্যবহার করে হিন্দু সম্প্রদায়ের কিছু ছাত্রীকে ব্ল্যাকমেইল করা হতো এবং তাদের ধর্ম পরিবর্তনের জন্য চাপ প্রয়োগের চেষ্টা করা হতো। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে এখনো তদন্ত চলছে এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে সব অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করা হয়নি।
ঘটনার পর ভুক্তভোগী ছাত্রী মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন বলে সহপাঠীরা জানিয়েছেন। তারা বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলে এমন ঘটনা শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ তৈরি করেছে। তাদের ভাষ্য, ওয়াশরুমের মতো ব্যক্তিগত স্থানেও যদি নিরাপত্তা নিশ্চিত না হয়, তাহলে শিক্ষার্থীরা কোথাও নিরাপদ বোধ করবেন না।
বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন শিক্ষার্থী নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করার দাবি জানিয়েছেন। তারা আবাসিক হলের নিরাপত্তা বৃদ্ধি, সন্দেহজনক ব্যক্তিদের প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ, অভিযোগ দ্রুত নিষ্পত্তি এবং প্রযুক্তিগত নজরদারি ব্যবস্থা উন্নত করার আহ্বান জানিয়েছেন।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানিয়েছে, ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনায় দ্রুত তদন্ত শুরু হয়েছে। অভিযুক্তের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং তদন্তে যদি আরও কোনো ব্যক্তি বা সংগঠনের সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়, তবে তাদের বিরুদ্ধেও আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এদিকে টেলিগ্রামে ব্যক্তিগত ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগকে গুরুত্ব দিয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বিষয়টি তদন্ত করছে। সংশ্লিষ্ট সাইবার অপরাধ দমন ইউনিট ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়া গ্রুপ এবং এর সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করার চেষ্টা করছে বলে জানা গেছে।
ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিভিন্ন মহল বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে দ্রুত, নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছে।
মতামত