SATP উল্লেখ করে, আইনগত প্রক্রিয়া উপেক্ষা করে জনতার হাতে বিচার তুলে নেওয়ার এই প্রবণতা রাষ্ট্রীয় দুর্বলতা ও কার্যকর জবাবদিহিতার অভাবকে স্পষ্টভাবে তুলে ধরে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ২০২৫ সালে রাজনৈতিক সহিংসতাও ব্যাপক আকার ধারণ করে। আসক নথিভুক্ত করে রাজনৈতিক সহিংসতার অন্তত ৪০১টি ঘটনা, যাতে ১০২ জন নিহত এবং ৪,৭৪৪ জন আহত হন। অন্যদিকে মানবাধিকার সংস্কৃতি ফাউন্ডেশন ৫৯৯টি রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনা নথিভুক্ত করে, যেখানে মোট ৫,৬০৪ জন ক্ষতিগ্রস্ত হন; এর মধ্যে ৮৬ জন নিহত এবং ৫,৫১৮ জন আহত হন, আহতদের মধ্যে অন্তত ৯৭ জন গুলিবিদ্ধ ছিলেন।
SATP-এর বিশ্লেষণে বলা হয়, এই পরিসংখ্যান রাজনৈতিক সহিংসতার তীব্রতা ও বিস্তৃতি স্পষ্টভাবে নির্দেশ করে। প্রতিবেদনে সাংবাদিকদের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়েও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। MSF-এর তথ্যমতে, ২০২৫ সালে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে সংঘটিত ২৮৯টি ঘটনায় মোট ৬৪১ জন সাংবাদিক ক্ষতিগ্রস্ত হন, যার মধ্যে একজন নিহত হন এবং বাকিরা হামলা, হুমকি ও আইনি হয়রানির শিকার হন। একই সময়ে আসক নথিভুক্ত করে যে অন্তত ৩৮১ জন সাংবাদিক বিভিন্ন ধরনের হয়রানি ও নির্যাতনের মুখোমুখি হয়েছেন। SATP মন্তব্য করে যে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও সংবাদমাধ্যমের ওপর এই ধারাবাহিক চাপ গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার জন্য একটি গুরুতর হুমকি। সামগ্রিকভাবে SATP-এর প্রতিবেদনে বলা হয়, রাষ্ট্রীয় ও অরাষ্ট্রীয় উভয় পক্ষের সহিংসতা ও নির্যাতনের ঘটনায় কার্যকর তদন্ত এবং জবাবদিহিতা প্রায় অনুপস্থিত ছিল, যার ফলে দণ্ডহীনতার সংস্কৃতি আরও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পেয়েছে। এই বাস্তবতায় ২০২৫ সালকে বাংলাদেশে মানবাধিকার পরিস্থিতির ক্ষেত্রে একটি অত্যন্ত নাজুক ও সংকটাপন্ন বছর হিসেবে চিহ্নিত করেছে South Asia Terrorism Portal।
মতামত