এলাকায় পশুপাখি মারা গেলে চামড়া ছড়ানো, শ্মশানে সৎকার, কবর রক্ষণাবেক্ষণ, ধনীদের গৃহস্থালি কাজ কিংবা গবাদি পশুর প্রজনন সেবার মতো গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক দায়িত্বগুলো তারাই পালন করত। অত্যন্ত দরিদ্র ও নিম্নশ্রেণির হওয়ায় তাদের সন্তানদের প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা না থাকলেও, স্থানীয় প্রাইমারী স্কুলের মুসলিম ও উচ্চবর্ণের শিশুদের সাথে তারা পরম সুহৃদয়তায় খেলাধুলা করত। সন্ধ্যার চাড়ালপাড়া বাজার থেকে ফেরার পথে বাতাসে ভেসে আসত সনাতনী মা-বোনদের ভক্তিপূর্ণ উলুধ্বনি, যা আজ কেবলই অতীত স্মৃতি। (News copied from- 'HINDUS NEWS')
দাপুনিয়া যোগীপাড়া ও পাঁচ কাহনীয়াসহ বেশ কয়েকটি সনাতন প্রধান এলাকা থেকে আজ হিন্দুরা ধীরে ধীরে প্রায় উধাও হয়ে গেছে। বর্তমানে যে গুটিকয়েক পরিবার কোনোমতে টিকে আছে, তারা চরম নিরাপত্তাহীনতার কারণে নিজেদের ধর্মীয় পূজাপার্বণ পালন করে অতি নীরবে, যা একপ্রকার গোপন বন্দিদশার শামিল। বাইরে থেকে কেউ এলে বোঝার উপায় থাকে না যে সেখানে কোনো পূজামণ্ডপ রয়েছে। চরম উদ্বেগের বিষয় হলো, ধর্মীয় স্বাধীনতার ওপর আঘাত হেনে গত কয়েকদিন আগে সেই মণ্ডপটিও ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। বিএনপি-জামায়াতের ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত এই দাপুনিয়ার ঐতিহ্যবাহী মণ্ডপটি ভাঙার পর লোকদেখানো পরিদর্শনে গিয়েছিলেন পাশের ঘাগড়া ইউনিয়নের এক জামায়াত নেতা। অথচ স্বাধীন দেশে সনাতনীদের এই চরম বিপদে আমরা মন্ত্রী, এমপি ও বহু বড় বড় প্রশাসক পেলেও, ক্ষতিগ্রস্থদের পাশে দাঁড়ানোর মতো কাউকেই পাওয়া যায়নি। দেশের সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর জানমাল ও অধিকার রক্ষায় জনপ্রতিনিধিদের এই চরম উদাসীনতা ও জবাবদিহিতার অভাব প্রমাণ করে যে, শাসকগোষ্ঠীকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে বাংলাদেশে প্রতি এক বছর পর পর জাতীয় নির্বাচন হওয়া উচিত।
মতামত