ফেনী সদর উপজেলার সহদেবপুর এলাকায় রাতের আঁধারে একটি গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রয় প্রতিষ্ঠান থেকে ১০৪টি গ্যাস সিলিন্ডার চুরির ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় দীর্ঘদিনের পরিশ্রমে গড়ে তোলা ব্যবসা হারিয়ে সর্বস্বান্ত হয়ে পড়েছেন হিন্দু ব্যবসায়ী অপু রায় ও তার পরিবার। চুরির এ ঘটনায় স্থানীয় ব্যবসায়ী ও এলাকাবাসীর মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ফেনী সদর উপজেলার সহদেবপুর সিএনজি স্টেশনের পাশে অবস্থিত ‘রয় গ্যাস সিলিন্ডার-ফেনী’ নামের প্রতিষ্ঠানটি দীর্ঘদিন ধরে গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রির ব্যবসা পরিচালনা করে আসছিল। ব্যবসার শুরুতে দুই ভাই মাত্র ১০টি সিলিন্ডার নিয়ে যাত্রা শুরু করেছিলেন। কঠোর পরিশ্রম, সততা ও ধৈর্যের মাধ্যমে ধীরে ধীরে সেই সংখ্যা বাড়িয়ে ১০৪টি সিলিন্ডারে উন্নীত করেন। কিন্তু এক রাতের ব্যবধানে তাদের সেই পরিশ্রমের সবকিছুই হারিয়ে যায়।
জানা গেছে, ঘটনার আগের রাত প্রায় ১২টা পর্যন্ত দোকান খোলা ছিল এবং স্বাভাবিকভাবেই ব্যবসা পরিচালিত হয়। পরদিন সকালে দোকান খুলতে এসে মালিক দেখতে পান, দোকানের ভেতরে একটি সিলিন্ডারও নেই। দুর্বৃত্তরা শুধু ১০৪টি গ্যাস সিলিন্ডারই নিয়ে যায়নি, দোকানে থাকা বিভিন্ন প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও ভিজিটিং কার্ড পর্যন্ত সরিয়ে নিয়ে গেছে। এতে ধারণা করা হচ্ছে, পরিকল্পিতভাবেই সংঘবদ্ধ চক্র এ চুরির ঘটনা ঘটিয়েছে।
ব্যবসায়ী অপু রায় ও তার পরিবারের দাবি, বহু বছরের কষ্টার্জিত পুঁজি দিয়ে গড়ে তোলা এই ব্যবসাই ছিল তাদের জীবিকার একমাত্র অবলম্বন। এক রাতের মধ্যে সবকিছু হারিয়ে তারা চরম আর্থিক সংকটে পড়েছেন। তারা দ্রুত ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, জড়িতদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তার এবং চুরি হওয়া মালামাল উদ্ধারের দাবি জানিয়েছেন।
এ ঘটনায় স্থানীয় ব্যবসায়ী মহলও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তাদের মতে, একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে এত বিপুল সংখ্যক গ্যাস সিলিন্ডার চুরি হওয়া অত্যন্ত গুরুতর ঘটনা এবং এটি সংঘবদ্ধ অপরাধচক্রের সম্পৃক্ততার ইঙ্গিত দেয়। তারা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে দ্রুত তদন্ত করে অপরাধীদের আইনের আওতায় আনার আহ্বান জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট থানায় অভিযোগ দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলে জানা গেছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তদন্ত শেষে চুরির প্রকৃত কারণ এবং জড়িতদের পরিচয় সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জানা যাবে।
মতামত