চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) কাজী নজরুল ইসলাম হলের পুকুরে ডুবে অর্ণব সাহা (২৫) নামে এক শিক্ষার্থীর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে এ দুর্ঘটনা ঘটে। তার আকস্মিক মৃত্যুতে সহপাঠী, বন্ধু ও বিশ্ববিদ্যালয়জুড়ে নেমে এসেছে শোকের ছায়া।
নিহত অর্ণব সাহা চুয়েটের যন্ত্রকৌশল (মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং) বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। তার গ্রামের বাড়ি ফেনী জেলায়।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার সন্ধ্যার দিকে চুয়েট ক্যাম্পাসের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে সহপাঠীদের সঙ্গে ফুটবল খেলেন অর্ণব সাহা। খেলা শেষে কয়েকজন সহপাঠীর সঙ্গে তিনি কাজী নজরুল ইসলাম হলের পুকুরে গোসল করতে নামেন। গোসলের একপর্যায়ে অর্ণব পানিতে তলিয়ে যান।
বিষয়টি বুঝতে পেরে সঙ্গে থাকা সহপাঠীরা দ্রুত তাকে উদ্ধারের চেষ্টা করেন। পরে পুকুরে খোঁজাখুঁজি করে অর্ণব সাহাকে উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার করার পর গুরুতর অবস্থায় তাকে দ্রুত চুয়েট মেডিকেলে নেওয়া হয়।
চুয়েট মেডিকেলে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য অর্ণবকে চট্টগ্রাম নগরের এভারকেয়ার হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসকদের সর্বাত্মক চেষ্টার পরও তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি। মঙ্গলবার রাত ৯টার দিকে কর্তব্যরত চিকিৎসক অর্ণব সাহাকে মৃত ঘোষণা করেন।
অর্ণব সাহার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে চুয়েটের শিক্ষার্থীদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে আসে। সহপাঠী ও বন্ধুদের অনেকেই তার আকস্মিক মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেন।
বিশ্ববিদ্যালয়জীবনে অর্ণব সাহার এমন আকস্মিক ও মর্মান্তিক মৃত্যু সহপাঠীদের জন্য গভীর বেদনার হয়ে দাঁড়িয়েছে। একটি স্বাভাবিক সন্ধ্যা মুহূর্তেই পরিণত হয়েছে শোকাবহ ঘটনায়।
এদিকে, দুর্ঘটনাটি কীভাবে ঘটেছে এবং পুকুরে গোসলের সময় শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা কতটা কার্যকর ছিল—এ বিষয়গুলো নিয়েও ক্যাম্পাসে আলোচনা তৈরি হয়েছে। তবে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
অর্ণব সাহার অকাল মৃত্যুতে তার পরিবার, স্বজন, সহপাঠী ও বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন শুভাকাঙ্ক্ষীরা।
মতামত