স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, চণ্ডীপুর এলাকার ওই নারীর বাড়িতে গভীর রাতে আব্দুল মান্নানের নিয়মিত যাতায়াত নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই প্রতিবেশীদের মধ্যে সন্দেহ ছিল। সম্প্রতি স্থানীয়রা তাদের একই ঘরে দেখতে পেয়ে বাড়িটি ঘেরাও করেন। পরে ঘরের দরজা ভেঙে আব্দুল মান্নানকে আটক করা হয়। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে তাকে বস্ত্রহীন অবস্থায় দেখা যায় বলে দাবি করা হচ্ছে।
ভুক্তভোগী নারী অভিযোগ করেন, আব্দুল মান্নান দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্নভাবে তাকে ব্ল্যাকমেইল করে আসছিলেন এবং নানা অশোভন প্রস্তাব দিতেন। তার দাবি, ঘটনার দিন বাজারে পৌঁছে দেওয়ার কথা বলে মান্নান তার বাড়িতে প্রবেশ করেন। একপর্যায়ে স্থানীয়রা বিষয়টি টের পেয়ে তাদের আটক করেন।
স্থানীয় বিএনপি নেতা আবুল কাশেম ও আবু হামজাসহ একাধিক ব্যক্তি গণমাধ্যমকে জানান, বৃহস্পতিবার রাতে স্থানীয়রা বাড়িটি ঘেরাও করার পর ভেতর থেকে আটকানো দরজা ভেঙে আব্দুল মান্নানকে বের করে আনে। পরে উত্তেজিত জনতা তাকে একটি খুঁটির সঙ্গে বেঁধে মারধর করে। তারা জানান, দুজনের মধ্যে পূর্বপরিচয় ছিল।
শ্যামনগর পৌর যুবদলের ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক ফরিদুজ্জামান বাবু বলেন, বিষয়টি তাদের নজরে এসেছে এবং অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে আব্দুল মান্নানের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
উল্লেখ্য, এর আগে ২০২৫ সালের ৭ জুলাই অন্যের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ঢুকে চাঁদা দাবির অভিযোগে আব্দুল মান্নানের বিরুদ্ধে পৌর যুবদলের পক্ষ থেকে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল বলে স্থানীয় রাজনৈতিক সূত্রে জানা গেছে।
শ্যামনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানান, ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লেও এ বিষয়ে থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই দুই পরিবারের সদস্যরা বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করে তাদের সরিয়ে নেয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং আইনগত প্রক্রিয়া ও অধিকতর তদন্তের স্বার্থে সংশ্লিষ্টদের থানায় নিয়ে যায়।
এ বিষয়ে আব্দুল মান্নানের বক্তব্য জানতে একাধিকবার তার মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।
মতামত