কক্সবাজারের খুরুশকুলে আলোচিত নয়ন সাধু হত্যাকাণ্ড নিয়ে ধারাবাহিক অনুসন্ধানী সংবাদ ও ফলোআপ প্রতিবেদন প্রকাশের জেরে কক্সবাজার জাগো নিউজ (CJN)-এর সাংবাদিক অন্তর দে বিশালকে প্রশাসনের পরিচয়ে মামলা ও হামলার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় সাংবাদিকের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় সনাতনী সম্প্রদায়ের মানুষ ও নেটিজেনরা। একই সঙ্গে ঘটনার তদন্ত করে হুমকিদাতাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।


সাংবাদিকের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রথম হুমকিদাতা হিসেবে 01347148708 এবং দ্বিতীয় হুমকিদাতা হিসেবে +9607388408 নম্বর দুটি উল্লেখ করা হয়েছে। তার দাবি, ফোনে হুমকিদাতারা নিজেদের একটি বাহিনী বা প্রশাসনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি হিসেবে পরিচয় দেন এবং তাকে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি দেখান। একপর্যায়ে প্রকাশিত সংবাদ ও প্রতিবেদন মুছে ফেলার জন্য চাপ দেওয়া হয় এবং নয়ন সাধু হত্যাকাণ্ড নিয়ে আর কোনো সংবাদ বা বক্তব্য প্রকাশ না করার জন্যও নিষেধ করা হয় বলে অভিযোগ করেছেন তিনি।

নিজের পোস্টে সাংবাদিক অন্তর দে বিশাল বলেন, হুমকি-ধমকি দিয়ে তাকে কিংবা টিম সিজেএনকে থামানো যাবে না। অপরাধীদের বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশ করাই যদি অপরাধ হয়, তাহলে সেই কাজ তারা বারবার করবেন বলেও তিনি উল্লেখ করেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, সাংবাদিকের দায়িত্ব হলো ভয়ভীতি বা চাপের কাছে মাথা নত না করে সত্য তুলে ধরা এবং জনগণের সামনে প্রকৃত ঘটনা প্রকাশ করা।
তিনি আরও জানান, যেসব নম্বর থেকে তাকে হুমকি দেওয়া হয়েছে, সেসব নম্বরের তথ্য ও সংশ্লিষ্ট প্রমাণ সংরক্ষণ করা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানিয়েছেন তিনি।
অন্যদিকে, পৃথক একটি পোস্টে সাংবাদিক অন্তর দে বিশাল অভিযোগ করেন, নিজের জীবনের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করতে চাইলে সেটি গ্রহণ করা হচ্ছে না। এ বিষয়ে তিনি প্রশ্ন তোলেন, একজন গণমাধ্যমকর্মী হিসেবে নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে থেকেও কি দেশে স্বাধীনভাবে সংবাদ প্রকাশ করা সম্ভব?
নয়ন সাধু হত্যাকাণ্ডের মতো আলোচিত একটি ঘটনায় দীর্ঘ সময় ধরে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশের পর সাংবাদিককে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ সামনে আসায় বিষয়টি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী প্রশাসন কিংবা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পরিচয় ব্যবহার করে থাকলে সেটি সত্য কি না, তা তদন্তের মাধ্যমে পরিষ্কার করার দাবি উঠেছে।
সাংবাদিকের অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন বা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর আনুষ্ঠানিক বক্তব্য এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। ফলে হুমকিদাতারা সত্যিই কোনো সরকারি বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য কি না, নাকি পরিচয় ব্যবহার করে সাংবাদিককে ভয় দেখানোর চেষ্টা করেছে—তা এখনো নিশ্চিত নয়। বিষয়টি তদন্তসাপেক্ষ।
এদিকে সাংবাদিককে হুমকি দেওয়ার অভিযোগের ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সাধারণ সনাতনী ও নেটিজেনরা তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন। তারা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত, সাংবাদিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং হুমকির সঙ্গে জড়িতদের পরিচয় শনাক্ত করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
নেটিজেনদের অনেকে বলছেন, কোনো সংবাদ বা প্রতিবেদন নিয়ে কারও আপত্তি থাকলে আইনসম্মতভাবে প্রতিবাদ, বক্তব্য বা সংশোধনের সুযোগ রয়েছে। কিন্তু মামলা, হামলা কিংবা ভয়ভীতি দেখিয়ে কোনো গণমাধ্যমকর্মীকে সংবাদ প্রত্যাহারে বাধ্য করার চেষ্টা থাকলে তা স্বাধীন সাংবাদিকতার পরিবেশের জন্য উদ্বেগজনক।
সাংবাদিক অন্তর দে বিশাল তার বক্তব্যে স্পষ্ট করেছেন, হুমকি-ধমকি দিয়ে সংবাদ বন্ধ করা যাবে না এবং সত্য চাপা দেওয়ার চেষ্টা করেও সাংবাদিকতার দায়িত্ব থেকে তাকে বা তার সহকর্মীদের সরিয়ে রাখা সম্ভব হবে না। একই সঙ্গে তিনি নির্বিঘ্নে সত্য প্রকাশের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও সর্বস্তরের মানুষের সহযোগিতা কামনা করেছেন।
এখন অভিযোগের বিষয়টি যথাযথভাবে তদন্ত করে হুমকিদাতাদের পরিচয় শনাক্ত করা, সাংবাদিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা ও জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়াই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব বলে মনে করছেন সচেতন মহল।
মতামত