দীর্ঘ তিন মাসের বিরতির পর অবশেষে ইউনিয়ন পরিষদের কার্যক্রমে ফিরেছেন মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলার ৬ নম্বর টেংরা ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল-২ চেয়ারম্যান শ্রীমতি রাম দুলালী নুনিয়া। বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারে বসে দাপ্তরিক কার্যক্রমে যোগ দেন।
জানা গেছে, রাম দুলালী নুনিয়ার বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠার পর তাকে ইউনিয়ন পরিষদের কার্যক্রম থেকে বিরত রাখা হয়। তাঁর অভিযোগ, এলাকার একটি প্রভাবশালী মহল তাঁর বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ তুলে তাকে শারীরিক ও মানসিকভাবে হেনস্তা করে এবং জোরপূর্বক ইউনিয়ন পরিষদের কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি দেওয়ার পরিস্থিতি সৃষ্টি করে।
ঘটনার পর নিজের অধিকার ও আইনি প্রতিকার পেতে আদালতের দ্বারস্থ হন রাম দুলালী নুনিয়া। দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ার পর মহামান্য হাইকোর্ট তাঁর পক্ষে রায় দেন বলে সংশ্লিষ্টরা জানান। আদালতের ওই সিদ্ধান্তের পর বৃহস্পতিবার তিনি পুনরায় ইউনিয়ন পরিষদের কার্যক্রমে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগ দেন।
তিন মাস পর পরিষদের কার্যক্রমে ফিরে আসার ঘটনায় তাঁর সমর্থক ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের মধ্যে স্বস্তি ও আনন্দ দেখা দিয়েছে। অনেকেই এটিকে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার একটি দৃষ্টান্ত হিসেবে উল্লেখ করছেন। দীর্ঘ সময় পর নিজের দায়িত্বে ফিরে রাম দুলালী নুনিয়া ইউনিয়ন পরিষদের জনগণের সেবা কার্যক্রম আরও নিষ্ঠার সঙ্গে চালিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন বলে জানা গেছে।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, আদালতের সিদ্ধান্তের পর সৃষ্ট জটিলতার অবসান ঘটবে এবং টেংরা ইউনিয়ন পরিষদের কার্যক্রম স্বাভাবিক গতিতে এগিয়ে যাবে। একই সঙ্গে জনপ্রতিনিধিদের প্রতি হয়রানি বা অন্যায়ভাবে দায়িত্ব পালনে বাধা দেওয়ার মতো কোনো ঘটনা যেন ভবিষ্যতে না ঘটে, সে বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
দীর্ঘ তিন মাসের অপেক্ষা, আইনি লড়াই এবং আদালতের রায়ের পর আবারও দায়িত্বে ফিরেছেন শ্রীমতি রাম দুলালী নুনিয়া। তাঁর প্রত্যাবর্তনকে ঘিরে তাই সমর্থকদের কণ্ঠে উঠেছে—‘অবশেষে সত্যের জয় হলো।’
মতামত