এই হৃদয়বিদারক ঘটনার মাঝে নিহতের হবু স্বামী অদিত করের একটি ফেসবুক বার্তা সকলকে গভীরভাবে বাকরুদ্ধ ও ব্যথিত করেছে। প্রিয়তমাকে হারানোর চরম কষ্টে অদিত লিখেছেন, ‘আমার জীবনের শেষ সম্বলটাও শেষ হয়ে গেল।’ শেষবারের মতো তোলা একটি ছবি স্মরণে এনে অদিত তাঁর হারিয়ে যাওয়া হবু স্ত্রীর উদ্দেশ্যে পরম ভালোবাসায় পুনর্ব্যক্ত করেন, ‘চিন্তা করো না আগামী, আমি তোমার সঙ্গে ছিলাম, আছি, থাকব।’ (News copied from- 'হিন্দুস নিউজ') স্বজনদের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকার পর পুলিশ তালাবদ্ধ বাড়ি থেকে মরদেহগুলো উদ্ধার করে। পরবর্তীতে প্রাথমিক তদন্তে মাদক সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে এ ঘটনা ঘটেছে বলে জানানো হলেও, সনাতনী সমাজ ও মানবাধিকার কর্মীরা নিরপরাধ নাগরিকদের নিরাপত্তা নিয়ে গভীর শঙ্কা প্রকাশ করছেন এবং অনতিবিলম্বে সকল অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক ও কঠোর শাস্তির জোরালো দাবি জানাচ্ছেন।
‘চিন্তা করো না আগামী, আমি তোমার সঙ্গে ছিলাম, আছি, থাকব’: বিয়ের সানাইয়ের আগেই নিভে গেল ৪ প্রাণ
রংপুরের মাছুয়াপাড়ায় এক শিক্ষক পরিবারসহ চারজন সনাতনী সদস্যের নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় গোটা সমাজজুড়ে তৈরি হয়েছে তীব্র শোক, ক্ষোভ ও গভীর উদ্বেগের পরিবেশ। জিলা স্কুলের সাবেক সম্মানিত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তাঁর সহধর্মিণী, পুত্র এবং স্নেহের কন্যা আগামী চক্রবর্তীকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করার খবর ছড়িয়ে পড়তেই নিহতের পরিবার ও স্থানীয় বাসিন্দাদের হৃদয়ে নেমে এসেছে বিষাদের ছায়া। হিন্দুত্ববাদী ও যেকোনো সম্প্রদায়ের মানুষের মৌলিক অধিকার সুনিশ্চিতের দাবিতে সোচ্চার বাংলাদেশ আজ আরেকবার এমন এক মর্মান্তিক ও নির্মমতার সাক্ষী হলো, যেখানে একটি গোটা পরিবারের স্বপ্ন এক নিমেষেই ধূলিসাৎ হয়ে গেছে। মাত্র কিছুদিন পরেই আগামী চক্রবর্তীর বিয়ে হওয়ার কথা ছিল এবং দুই পরিবারজুড়ে চলছিল উৎসবের প্রস্তুতি। কিন্তু আততায়ীদের নিষ্ঠুর থাবায় সেই আনন্দের বাড়িটি পরিণত হয়েছে শ্মশানের শ্মশানভূমিতে।
0.0%
0.0%
0.0%
0.0%
মতামত