চট্টগ্রামের বোয়ালখালীতে ট্রেনের ধাক্কায় এক তরুণীর মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। দুপুরের ব্যস্ত সময়ে পূর্ব কালুরঘাট ১৩ নম্বর পুল এলাকায় ঘটে যাওয়া এই হৃদয়বিদারক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ২৪ বছর বয়সী পম্পী বড়ুয়া। প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, রবিবার দুপুর আনুমানিক আড়াইটার দিকে চট্টগ্রামগামী 'প্রবাল এক্সপ্রেস' ট্রেনটি উক্ত এলাকা অতিক্রম করার সময় পম্পী বড়ুয়া দুর্ঘটনার শিকার হন। ট্রেনের নিচে কাটা পড়ে ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়।
এক লহমায় একটি উদীয়মান প্রাণের এভাবে ঝরে যাওয়া উপস্থিত সবাইকে স্তব্ধ করে দেয়। দুর্ঘটনার পর ঘটনাস্থলে কেবল পড়ে ছিল তরুণীর একটি ভ্যানেটি ব্যাগ। সেই ব্যাগের ভেতর তল্লাশি চালিয়ে পাওয়া একটি কাগজই শেষ পর্যন্ত তাঁর পরিচয় নিশ্চিত করতে সাহায্য করে। পুলিশ সূত্রে জানানো হয়েছে, ব্যাগের ভেতর চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের কিডনি রোগ বিভাগের একটি চিকিৎসাপত্র (ডিসচার্জ সার্টিফিকেট) পাওয়া যায়। (News copied from- 'হিন্দুস নিউজ') সেই ছাড়পত্রে স্পষ্টভাবে নাম লেখা ছিল পম্পী বড়ুয়া। কার্ডটিতে তাঁর গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের রাউজান এলাকায় বলে উল্লেখ রয়েছে এবং এটি চলতি বছরের ২০ জানুয়ারি ইস্যু করা হয়েছিল।
একটি তরুণ প্রাণ এভাবে অকালে থেমে যাওয়ায় অনেক প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। এটি কি কেবলই একটি দুর্ঘটনা, নাকি এর পেছনে অন্য কোনো কারণ রয়েছে, তা নিয়ে জনমনে গুঞ্জন সৃষ্টি হয়েছে। সনাতনী সংস্কৃতির অংশ হিসেবে আমরা প্রতিটি জীবের জীবনের মূল্যকে পরম পবিত্র মনে করি। এভাবে একজন নারীর অকাল মৃত্যু পুরো সমাজের জন্যই একটি বড় ক্ষতি। তাঁর এই চলে যাওয়া স্বজনদের হৃদয়ে এমন এক শূন্যতা তৈরি করেছে যা কখনোই পূরণ হওয়ার নয়।
আমরা মহান সৃষ্টিকর্তার কাছে প্রয়াত পম্পী বড়ুয়ার আত্মার চির শান্তি ও সদগতি কামনা করছি। তাঁর শোকসন্তপ্ত পরিবার এবং আত্মীয়-স্বজনদের এই অপূরণীয় ক্ষতি ও গভীর শোক সহ্য করার শক্তি দান করুন। স্থানীয় প্রশাসন ও রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের প্রতি আমাদের আকুল আবেদন, রেললাইন ও এর আশেপাশের নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হোক, যাতে ভবিষ্যতে আর কোনো নিরীহ প্রাণ এভাবে অকালে ঝরে না পড়ে।
মতামত