কামারখন্দ উপজেলার ঐতিহাসিক ভদ্রঘাট পালপাড়ায় সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, প্রতিমার কাঁচা কাঠামো নির্মাণের কাজ শেষে এখন মৃৎশিল্পীরা নিপুণ হাতে মাটির রূপদান শেষ করছেন। কোনো কোনো মণ্ডপ ও কারখানায় ইতোমধ্যে মাটি শুকিয়ে রং-তুলির আঁচড় দেওয়া শুরু হয়েছে। সনাতনী সমাজ ও পরিবারগুলোর এই শিল্পে নারী ও শিশুদের অবদানও অনন্য। সংসারের আনুষঙ্গিক কাজের পাশাপাশি পুরুষদের হাত ধরে নারীরাও ভক্তি ও নিবেদনের সঙ্গে প্রতিমা অলঙ্করণের কাজ করছেন। এ বছর শুধু ভদ্রঘাট পালপাড়াতেই প্রায় দুই শতাধিক প্রতিমা তৈরি হচ্ছে, যা সিরাজগঞ্জের স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে পাবনা, বগুড়া, নাটোর ও টাঙ্গাইলসহ সমগ্র উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় পৌঁছে যাচ্ছে। ১২ হাজার টাকা থেকে শুরু করে লক্ষাধিক টাকার বাজেট ও রূপের প্রতিমা সেখানে তৈরি হচ্ছে।
তবে সনাতনী ধর্মীয় চেতনা ও ঐতিহ্য ধরে রাখা এই কারিগরদের পথচলা অতটা সুগম নয়। প্রযুক্তি ও আধুনিকতার ছোঁয়ায় সারা বছর মৃৎশিল্পের চাহিদা কমে যাওয়ায় এসব কারিগরদের দীর্ঘ সময় কাটাতে হয় কষ্টে। শারদীয় দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করেই তারা সারাবছরের জীবনসংগ্রামের রসদ যোগান। কারিগরদের অভিযোগ, এ বছর বাঁশ, কাঠ, রং ও খড়সহ প্রতিমা তৈরির প্রতিটি উপকরণের মূল্য অস্বাভাবিক বৃদ্ধি পেলেও সেই অনুপাতে প্রতিমার সঠিক বাজারমূল্য তারা পাচ্ছেন না। (News copied from- 'হিন্দুস নিউজ') ফলে কঠোর পরিশ্রম ও শিল্পকর্মের সঠিক মূল্যায়ন না পাওয়ায় স্বস্তি মিলছে না তাদের সংসারে। তা সত্ত্বেও দেবীর আরাধনা ও সনাতনী ঐতিহ্যকে বাঁচিয়ে রাখার তাগিদে তারা এই পবিত্র কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।
আসন্ন উৎসবকে কেন্দ্র করে সিরাজগঞ্জ জেলা ব্রাহ্মণ সংসদের সভাপতি অশোক ব্যানার্জী জানান, আগামী ১৬ অক্টোবর মহাষষ্ঠী পূজার মাধ্যমে সনাতনীদের সর্ববৃহৎ এই উৎসবের শুভ সূচনা ঘটবে এবং ২০ অক্টোবর বিজয়া দশমীতে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে উৎসবের সাঙ্গ হবে। অন্যদিকে সনাতনী সম্প্রদায়ের অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিতকল্পে জেলা হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতি অ্যাডভোকেট সুকুমার চন্দ্র দাস জানান, মা দুর্গা যুগে যুগে বিপদনাশিনী হিসেবে আবির্ভূত হয়ে বিশ্বকে রক্ষা করেছেন। পূজাপর্ব যেন নির্বিঘ্ন, শান্তিপূর্ণ ও শঙ্কা মুক্ত পরিবেশে সম্পন্ন হতে পারে, সেজন্য সংগঠন ও স্থানীয় প্রশাসন একযোগে কাজ করছে। অন্যায়ের বিনাশ ও শুভ শক্তির বিজয়ের প্রার্থনায় এখন উদগ্রীব সিরাজগঞ্জের সনাতনী জনপদ।
মতামত