হিন্দুস নিউজ
Topic Ads 1
পদুয়া বসাক পাড়া মহাশ্মশানের রাস্তা নির্মাণে সহযোগিতা

পদুয়া বসাক পাড়া মহাশ্মশানের রাস্তা নির্মাণে সহযোগিতা

চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার পদুয়া ইউনিয়নের বসাক পাড়া মহাশ্মশানের রাস্তা নির্মাণকাজে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির সদস্য এস. এম. ছলিম উদ্দিন খোকন। দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয়দের প্রয়োজন ও প্রত্যাশার সঙ্গে জড়িয়ে থাকা এ রাস্তা নির্মাণকাজ বাস্তবায়নে তাঁর সহযোগিতায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন পদুয়া বসাক পাড়ার বাসিন্দারা।সোমবার (৫ অক্টোবর) ১৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দে পদুয়া বসাক পাড়া মহাশ্মশানের রাস্তা নির্মাণকাজ পরিদর্শন করেন এস. এম. ছলিম উদ্দিন খোকন। এ সময় তিনি নির্মাণকাজের অগ্রগতি সরেজমিনে দেখেন এবং কাজটি বাস্তবায়নে মানবিক ও সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করেন।স্থানীয়রা জানান, পদুয়া বসাক পাড়া মহাশ্মশানে যাতায়াতের জন্য একটি ভালো রাস্তার প্রয়োজন ছিল দীর্ঘদিনের। বিশেষ করে শেষকৃত্যসহ বিভিন্ন প্রয়োজনে শ্মশানে যাতায়াতের সময় স্থানীয়দের নানা ধরনের দুর্ভোগ পোহাতে হতো। বর্ষা মৌসুমে কাঁচা ও অনুন্নত সড়কের কারণে এ দুর্ভোগ আরও বেড়ে যেত। দীর্ঘদিনের এই প্রয়োজনকে সামনে রেখে মহাশ্মশানের রাস্তা নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়।রাস্তা নির্মাণকাজে এস. এম. ছলিম উদ্দিন খোকনের সহযোগিতাকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন স্থানীয়রা। তাঁদের মতে, মহাশ্মশানের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক ও ধর্মীয় স্থানে যাতায়াতের রাস্তা নির্মাণ শুধু অবকাঠামোগত উন্নয়ন নয়; এটি এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের একটি প্রয়োজন পূরণের উদ্যোগ।এলাকাবাসী তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, মানবিক ও জনকল্যাণমূলক কাজে সহযোগিতা সমাজের জন্য ইতিবাচক দৃষ্টান্ত তৈরি করে। ভবিষ্যতেও এলাকার মানুষের প্রয়োজন ও জনকল্যাণে এ ধরনের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলে তারা প্রত্যাশা করেন।রাস্তা নির্মাণকাজ পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন বসাক পাড়া সমাজ কল্যাণ সমিতির উপদেষ্টা শ্রী শ্যামল বসাক, গৌরাঙ্গ বসাক, বরুণ বসাক, চন্দন বসাক, প্রবীর বসাক ও বাবুল বসাক।এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন বসাক পাড়া সমাজ কল্যাণ সমিতির সভাপতি শ্রী অরুণ বসাক এবং বসাক পাড়া শ্মশান কমিটির সভাপতি শ্রী তপন বসাক।আরও উপস্থিত ছিলেন সুজন বসাক, রাজীব বসাক, সুমন বসাক, মেখল বসাক, বিকাশ বসাক, নিপন বসাক, লিটন বসাক, আশিষ বসাক, নান্টু বসাক, শিবু বসাক, সাগর বসাক, অর্জুন বসাক, দিপস বসাক, সুবল বসাক, অজয় বসাক, স্বজন, রবিন, জিশান ও একান্ত বসাকসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।এ সময় স্থানীয়রা বলেন, পদুয়া বসাক পাড়া মহাশ্মশানের রাস্তা নির্মাণকাজ এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের একটি প্রয়োজনের সঙ্গে সম্পৃক্ত। এ কাজ বাস্তবায়নে যারা প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে সহযোগিতা করেছেন, তাদের প্রতি এলাকাবাসী আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছেন।তারা আরও বলেন, একটি মহাশ্মশানে যাতায়াতের জন্য নিরাপদ ও ব্যবহারযোগ্য রাস্তা থাকা অত্যন্ত জরুরি। রাস্তা নির্মাণ সম্পন্ন হলে স্থানীয়দের পাশাপাশি আশপাশের এলাকার মানুষও উপকৃত হবেন। বিশেষ করে শেষকৃত্যের সময় স্বজনদের যাতায়াতের দুর্ভোগ অনেকটাই কমে আসবে।মহাশ্মশানের রাস্তা নির্মাণকাজে সহযোগিতার জন্য এস. এম. ছলিম উদ্দিন খোকনের প্রতি পদুয়া বসাক পাড়ার সর্বস্তরের মানুষের পক্ষ থেকে আন্তরিক কৃতজ্ঞতা ও শুভেচ্ছা জানানো হয়। একই সঙ্গে কাজটির সফল বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি, সংগঠন ও সহযোগীদের প্রতিও ধন্যবাদ জানানো হয়।স্থানীয়দের প্রত্যাশা, রাস্তা নির্মাণকাজটি যথাযথভাবে সম্পন্ন হলে এটি শুধু বসাক পাড়ার নয়, পদুয়া এলাকার মানুষের জন্যও একটি গুরুত্বপূর্ণ জনকল্যাণমূলক অবকাঠামো হিসেবে ভূমিকা রাখবে।

মন্দিরের জমি দখলে দুই সাধুকে হত্যা করে মরদেহে আগুন

ভারতের উত্তরপ্রদেশের শাহজাহানপুরে মন্দিরের জমি ও কর্তৃত্ব দখলের লোভে দুই প্রবীণ সনাতনী সাধুকে নৃশংসভাবে হত্যা করে তাঁদের মরদেহে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার এক বর্বরোচিত ঘটনা ঘটেছে। গত ১ অক্টোবর ২০২৬, বৃহস্পতিবার সকালে জেলার খুদাগঞ্জ থানার সুথা গ্রামে এই মর্মান্তিক ও ঘৃণ্য অপরাধের চিত্র সামনে আসে। নিহত প্রবীণ সাধুদ্বয় হলেন মন্দিরের প্রধান পুরোহিত বাবা গোপাল দাস (৭০) এবং বাবা বিহারী দাস (৬০)। দীর্ঘকাল ধরে তাঁরা উক্ত মন্দিরের সেবা ও ধর্মীয় কার্য পরিচালনা করে আসছিলেন। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সুমিথ সিং নামের এক দুষ্কৃতী মন্দিরের পবিত্র সম্পত্তি ও সার্বিক নিয়ন্ত্রণ নিজের কবজায় নেওয়ার জন্য দীর্ঘদিন ধরে এই নিরীহ সাধুদের ওপর নানামুখী মানসিক চাপ ও হুমকি দিয়ে আসছিল। (News copied from- 'হিন্দুস নিউজ') প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ নিশ্চিত করেছে যে, গত ১ অক্টোবর অভিযুক্ত ব্যক্তি সুপরিকল্পিতভাবে ভারী কোনো বস্তু দিয়ে আঘাত করে সাধু দুজনকে অত্যন্ত নির্মমভাবে হত্যা করে। পরবর্তীতে অপরাধের আলামত ও প্রমাণ সম্পূর্ণ ধামাচাপা দেওয়ার উদ্দেশ্যে নিহত সাধুদের দেহাবশেষে আগুন ধরিয়ে দেয় অভিযুক্ত দুষ্কৃতী। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযুক্ত সুমিথ সিংকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয় এবং সাধুদের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়। এই অনাকাঙ্ক্ষিত ও নৃশংস ঘটনায় বিশ্বজুড়ে সনাতন ধর্মাবলম্বী ও মানবাধিকার কর্মীদের মনে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। সার্বিক সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের পবিত্রতা রক্ষায় অভিযুক্তের দৃষ্টান্তমূলক ও কঠোর শাস্তির জোরালো দাবি উঠেছে।

মন্দিরের জমি দখলে দুই সাধুকে হত্যা করে মরদেহে আগুন

রসিক রায় জিউ মন্দিরে জমি ঘিরে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সর্ববৃহৎ উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা ঘিরে যখন চারদিকে আনন্দের আবহ তৈরি হওয়ার কথা, ঠিক তখনই ঠাকুরগাঁওয়ের ভূল্লী উপজেলার আউলিয়াপুর ইউনিয়নের শিকদার হাট এলাকার ঐতিহাসিক শ্রী শ্রী রসিক রায় জিউ মন্দিরের জমি দখলকে কেন্দ্র করে এক অপ্রীতিকর সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে মন্দিরের মালিকানা ও কর্তৃত্ব বিস্তার নিয়ে স্থানীয় সনাতনী ধর্মাবলম্বী ও ইসকন অনুসারীদের মধ্যে রক্তক্ষয়ী এই সংঘর্ষে কমপক্ষে ৬ জন গুরুতর আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে নিতেন্দ্র নাথ বর্মন, জীতেন্দ্র নাথ বর্মন, চাম্পা রানী, দৈত্য নাথ বাবু, পায়েল প্রভূ ও নূপুরসহ আরও কয়েকজন রয়েছেন। খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে ভূল্লী থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং স্থানীয়দের সহায়তায় আহতদের উদ্ধার করে ঠাকুরগাঁও ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করায়। বর্তমানে এলাকাটিতে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করলেও পুলিশের কঠোর পদক্ষেপে আপাতত শান্ত রয়েছে।​আউলিয়াপুরের এই শ্রী শ্রী রসিক রায় জিউ মন্দিরের জমি এবং দুর্গাপূজা আয়োজনকে ঘিরে স্থানীয় সনাতন ধর্মাবলম্বী ও ইসকন সমর্থকদের মধ্যকার বিরোধ ও উত্তেজনার ইতিহাস নতুন নয়। (News copied from- 'হিন্দুস নিউজ') এর আগেও ২০০৯ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর এই দুই পক্ষের রক্তক্ষয়ী সংঘাতের চরম পরিণতিতে স্থানীয় প্রশাসন আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার্থে মন্দির প্রাঙ্গণে টানা ১৬ বছর ১৪৪ ধারা জারি রাখতে বাধ্য হয় এবং উক্ত দীর্ঘ সময় সেখানে সমস্ত প্রকার পূজা অর্চনা পুরোপুরি বন্ধ ছিল। দীর্ঘ ১৬ বছরের বিবাদ কাটিয়ে গত বছর জেলা প্রশাসন, স্থানীয় প্রতিনিধি ও উভয় পক্ষের সমঝোতায় ঐতিহাসিক এই মন্দিরে পুনরায় সাড়ম্বরে দুর্গাপূজা আয়োজনের অনুমতি দেওয়া হয়, যা স্থানীয় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মাঝে এক পরম স্বস্তি ও উৎসবের মেজাজ ফিরিয়ে এনেছিল। কিন্তু রক্তক্ষয়ী অতীত পার করে এক বছর যেতে না যেতেই ফের একই জমি দখলকে কেন্দ্র করে পুনরায় এই ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষ সনাতনী ভক্তবৃন্দের মনে চরম আতঙ্ক ও গভীর অনিশ্চয়তার মেঘ সৃষ্টি করেছে। সনাতনীদের মৌলিক অধিকার ও শান্তিপূর্ণভাবে ধর্মীয় উৎসব পালনের নিরাপত্তা রক্ষায় প্রশাসন ইতোমধ্যে তৎপর হয়েছে এবং ভূল্লী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নুরে আলম সিদ্দিকী জানিয়েছেন যে পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণে রয়েছে ও উভয় পক্ষের মধ্যকার এই নতুন বিরোধ নিরসনে জেলা প্রশাসকের সভাকক্ষে জরুরি সমঝোতা বৈঠকের আয়োজন করা হয়েছে।

রসিক রায় জিউ মন্দিরে জমি ঘিরে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ

কেন্দুয়ায় দুর্গা মন্দির ভাঙচুর

শারদীয় দুর্গোৎসবের ঠিক প্রাক্কালে নেত্রকোনা-৩ আসনের কেন্দুয়া উপজেলার চিরাং ইউনিয়নের কাশিপুর শীলবাড়ি দুর্গা মন্দিরে এক বর্বর ও ন্যাক্কারজনক ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। রাতের আঁধারে করা এই তাণ্ডবে স্থানীয় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মাঝে গভীর উদ্বেগ, আতঙ্ক ও তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। বছরের পর বছর ধরে নিজ ভূমিতে নিজস্ব ধর্মীয় উৎসব উদযাপনে সনাতনীদের যে নিরাপত্তাহীনতার মধ্য দিয়ে যেতে হচ্ছে, এই ঘটনা তারই এক করুণ ও বাস্তব প্রতিফলন। উৎসবের মুখে সার্বজনীন মণ্ডপে এ ধরনের হীন হামলা কেবল একটি সম্প্রদায়ের ওপর আঘাত নয়, বরং মৌলিক মানবাধিকারে জোরপূর্বক হস্তক্ষেপরই নামান্তর। যেকোনো স্বাধীন ও সার্বভৌম সমাজে প্রতিটি নাগরিকের নিজ নিজ ধর্মীয় অনুষ্ঠান শান্তিতে ও নিরাপদে পালন করার মৌলিক অধিকার রয়েছে, যা কোনোভাবেই ছিনিয়ে নেওয়া যায় না।​(News copied from- 'হিন্দুস নিউজ')​এই ন্যক্কারজনক ঘটনার নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্ত নিশ্চিত করে অপরাধীদের অবিলম্বে শনাক্ত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনার জোর দাবি উঠেছে। এলাকার সাংসদ জনাব রফিকুল ইসলাম হিলালী এবং স্থানীয় প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানানো হচ্ছে, কেবল আশ্বাস নয়—প্রকৃত দোষীদের আইনের আওতায় এনে তাদের কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। আগামী দুর্গোৎসবকে কেন্দ্র করে সকল মন্দির ও প্রতিমার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এখন থেকেই সর্বোচ্চ কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা জরুরি। যদি সনাতনীদের নিরাপত্তা প্রদানে ও হামলাকারীদের বিচারে কোনো ধরনের শিথিলতা প্রদর্শন করা হয়, তবে এর জবাবদিহিতা স্থানীয় প্রশাসন ও নেতৃবৃন্দের কেউই এড়াতে পারবেন না। ধর্মীয় সংখ্যালঘু ও সকল জাতির অধিকার রক্ষায় স্থান, কাল ও রাজনৈতিক পরিচয় ভুলে স্থানীয় সর্বস্তরের জনসাধারণকে এই সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে একজোট হয়ে রুখে দাঁড়ানোর আহ্বান জানানো হচ্ছে।

কেন্দুয়ায় দুর্গা মন্দির ভাঙচুর

লেলাংয়ের ঐতিহ্যবাহী মন্দিরে চুরি, পূজার সামগ্রীসহ আটক ৪ দুর্বৃত্ত

চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার লেলাং ইউনিয়নে একটি ঐতিহ্যবাহী সনাতনী মন্দিরে দুঃসাহসিক চুরির ঘটনায় ৪ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। হিন্দু সম্প্রদায়ের ধর্মীয় উপাসনালয়ে এমন অনাকাঙ্ক্ষিত হানায় স্থানীয় সনাতনী জনগোষ্ঠীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও নিরাপত্তার অভাববোধ তৈরি হয়েছিল। ঘটনার পরেই ফটিকছড়ি থানা পুলিশ তৎপর হয়ে বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাতে উপজেলার বিনাজুরি এলাকায় অভিযান চালিয়ে অভিযুক্তদের আটক করতে সক্ষম হয়।​আটককৃত ব্যক্তিরা হলেন রুহুল, ইউসুফ, শাহাবুদ্দিন ও হাশেম। গ্রেপ্তার পরবর্তী অভিযানে মন্দির থেকে চুরি হওয়া বিভিন্ন পূজার সামগ্রী উদ্ধার করা গেলেও সনাতনীদের ভক্তির প্রতীক ও মাঙ্গলিক স্বর্ণালংকার এখনো উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। (News copied from- 'হিন্দুস নিউজ')​উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) রাতে লেলাং ইউনিয়নের শাহনগর বণিকপাড়ার শ্রী শ্রী মঙ্গলচণ্ডী মন্দিরে এই চুরির ঘটনা ঘটে। ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাত হেনে দুর্বৃত্তরা মন্দির থেকে তিনটি ঘটি, তিনটি স্বর্ণের চেইন ও তিনটি লকেটসহ গুরুত্বপূর্ণ পূজার সামগ্রী লুট করে নিয়ে যায়। সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ধর্মীয় স্বাধীনতা ও উপাসনালয়ের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করার দাবি জানিয়ে ফটিকছড়ি থানার ওসি রবিউল আলম খান নিশ্চিত করেছেন যে, খোয়া যাওয়া স্বর্ণালংকার উদ্ধার এবং জড়িতদের কঠোর শাস্তির আওতায় আনতে পুলিশের বিশেষ অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

লেলাংয়ের ঐতিহ্যবাহী মন্দিরে চুরি, পূজার সামগ্রীসহ আটক ৪ দুর্বৃত্ত

৩০ বছর ধরে কালীমাতা মন্দিরের সেবায় মুসলমান প্রহরী

ধর্মীয় সম্প্রীতি ও আন্তঃধর্মীয় সহাবস্থানের এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন সিরাজগঞ্জের ৭৪ বছর বয়সী প্রবীণ বৃদ্ধ জহির শেখ। গত তিন দশক ধরে তিনি সিরাজগঞ্জ পৌর এলাকার গয়লা মহল্লায় যমুনা নদীর তীরে অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী ঘুড়কা মহাশ্মশান ও শ্রী শ্রী কালীমাতার মন্দিরের নিরাপত্তা প্রহরীর দায়িত্ব পালন করে আসছেন। নিজের ইসলাম ধর্মকে অন্তরে ধারণ করে এবং পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করার পাশাপাশি হিন্দু সনাতন ধর্মাবলম্বীদের এই পবিত্র উপাসনালয় ও মহাশ্মশানের পবিত্রতা এবং ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য রক্ষা করে চলছেন তিনি। প্রায় ৬শ বছরের প্রাচীন এই কেন্দ্রীয় মহাশ্মশানে বছরের বিভিন্ন সময়ে কালিপূজা, শিব চতুর্দশী ও লোকনাথের আবির্ভাব উৎসবসহ নানা ধর্মীয় অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়, যেখানে মরদেহের সৎকারে সাহায্য করা থেকে শুরু করে ভক্তদের নিরাপত্তায় দিনরাত নিয়োজিত থাকেন জহির শেখ।​১৯৯৬ সালে সিরাজগঞ্জ পৌরসভা থেকে আব্দুল মমিন ও জহির শেখ নামে দুই মুসলমান ব্যক্তিকে নৈশপ্রহরী হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। দুই বছর আগে মমিনের মৃত্যুর পর থেকে একাই এই বিপুল দায়িত্ব সামলাচ্ছেন জহির শেখ। (News copied from- 'হিন্দুস নিউজ') প্রতিদিন অত্যন্ত সতর্কতার সাথে নিজস্ব ধর্মীয় বিধান পালনের পাশাপাশি মন্দিরে প্রবেশের সময় শতভাগ পবিত্রতা নিশ্চিত করেন তিনি। স্বল্প বেতনের এই চাকরিতে সংসার চালানো কঠিন হলেও এখানকার সনাতনী বাসিন্দাদের প্রতি ভালোবাসা ও আন্তরিকতায় দীর্ঘ ৩০ বছর ধরে এই সেবাকে তিনি ভালোবেসে আগলে রেখেছেন। মন্দির কমিটির নেতৃবৃন্দ ও পূজারী পুরোহিত সকলেই তার দায়িত্বশীলতা, নিষ্ঠা এবং সকল ধর্মের প্রতি শ্রদ্ধাবোধের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন।

৩০ বছর ধরে কালীমাতা মন্দিরের সেবায় মুসলমান প্রহরী

সেপ্টেম্বর জুড়ে সনাতনীদের অব্যাহত হত্যা, হামলা ও মন্দির ভাঙচুরের পরিসংখ্যান

বাংলাদেশে সনাতনী হিন্দু ও অন্যান্য সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর পরিকল্পিত হয়রানি, নির্যাতন ও নিরাপত্তার চরম সংকট ক্রমেই ঘনীভূত হচ্ছে। অতি সম্প্রতি প্রকাশিত একটি উদ্বেগজনক নথিতে দেখা গেছে, ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর মাসেই দেশের বিভিন্ন প্রান্তে সংখ্যালঘুদের ওপর অন্তত ৫০টি পৃথক নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে। Sanatani Research & IT Ltd.-এর সার্বিক তত্ত্বাবধানে 'SAMIDH' কর্তৃক প্রস্তুতকৃত "Fact Sheet on Minority Persecution"-এ এই শিউরে ওঠার মতো চিত্র উঠে এসেছে। নথিতে প্রদর্শিত তথ্য ও পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, বর্তমানে দেশের হিন্দু ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মৌলিক মানবাধিকার এবং অস্তিত্ব মারাত্মক হুমকির মুখোমুখি।​সেপ্টেম্বর মাসের এই সামগ্রিক নথিতে সবচেয়ে বেদনার বিষয় হলো জীবনহানির ঘটনা। এক মাসের ব্যবধানেই কেবল ধর্মীয় ও জাতিগত পরিচয়ের কারণে ৯ জন নিরীহ মানুষকে হত্যা করা হয়েছে। একই সঙ্গে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রাণকেন্দ্র ও বিশ্বাসের প্রতীক পবিত্র উপাসনালয়গুলোর ওপরও চলেছে নৃশংস তাণ্ডব। এক মাসেই ৮টি মন্দির ভাঙচুর ও অপবিত্র করা হয়েছে, যা সনাতনী আত্মপরিচয়ের ওপর চরম আঘাত। এছাড়া দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সন্ত্রাসী হামলা ঘটেছে ৯টি, চুরি ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে ৯টি এবং শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন ৩ জন। এমনকি প্রকাশ্যে বন্দুক উঁচিয়ে গুলিবর্ষণের ২টি ঘটনা এবং ১টি অপহরণের তথ্য নথিভুক্ত করা হয়েছে।​নিরাপত্তাহীনতা ও অধিকার লঙ্ঘনের এই সার্বিক প্রেক্ষাপটে অর্থনৈতিক ও ধর্মীয় স্বাধীনতার ওপরও চরম আঘাত আনা হচ্ছে। জমি জোরপূর্বক দখলের ২টি এবং চাঁদাবাজির ২টি ঘটনা সরাসরি সংখ্যালঘুদের অর্থনৈতিক ভিত্তি দুর্বল করে দেওয়ার অপচেষ্টাকে নির্দেশ করে। পাশাপাশি ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানার ৩টি এবং ধর্ম অবমাননার ২টি ঘটনা সনাতনীদের মধ্যে সার্বিক আতঙ্ক ও অসন্তোষ সৃষ্টি করেছে। (News copied from- 'হিন্দুস নিউজ') এই সব তথ্য কোনো বিচ্ছিন্ন বা আকস্মিক অপরাধের অংশ নয়, বরং দেশের একাধিক অঞ্চলে ছড়িয়ে থাকা এসব ঘটনার ধরন থেকে স্পষ্ট বোঝা যায় যে, সংখ্যালঘুদের টার্গেট করে ভয়ভীতি প্রদর্শন ও উৎখাতের একটি ধারাবাহিক নকশা ক্রিয়াশীল রয়েছে। দুর্বল আইন প্রয়োগ, রাজনৈতিক ছত্রছায়া, অর্থনৈতিক ভঙ্গুরতা এবং উগ্র সাম্প্রদায়িক মনোভাবই এই সংকটকে দিন দিন আরও গভীর করে তুলছে।​পূর্ববর্তী মাসের তুলনামূলক চিত্র পর্যালোচনা করলেও পরিস্থিতি শিহরণ জাগানিয়া। আগস্ট ও সেপ্টেম্বরের শুরুতে টাঙ্গাইল ও মাদারীপুর সহ বিভিন্ন জেলায় মন্দির ও দেব-দেবী প্রতিমা ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছিল, যা সনাতনী সমাজকে গভীরভাবে ব্যথিত ও আতঙ্কিত করেছে। নথির তথ্যানুযায়ী, কেবল ভৌগোলিক বা বস্তুগত ক্ষতি নয়, বরং এই নিপীড়ন মানবতাবোধ ও সকল জাতির মানবাধিকারের মূল ভিত্তিতে আঘাত হানছে। ফলে অনেকেই নিজেদের ভিটামাটি ছাড়তে বাধ্য হচ্ছেন এবং সামাজিক ও ধর্মীয় স্বাধীনতা মারাত্মকভাবে সংকুচিত হচ্ছে। প্রসেনজিৎ কুমার হালদারের সম্পাদনা, দেবব্রত সরকারের দায়িত্বশীল তদারকি এবং নিরব সরকারের তথ্য বিশ্লেষণে তৈরি এই প্রতিবেদনে স্পষ্ট বলা হয়েছে যে, রাষ্ট্র ও নাগরিক সমাজকে অনতিবিলম্বে এই অরাজকতা প্রতিরোধে এগিয়ে আসতে হবে। সংখ্যালঘুদের সম্পত্তির অধিকার নিশ্চিতকরণ, দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদান এবং জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠার মাধ্যমেই কেবল এই মানবাধিকার সংকট থেকে মুক্তির পথ উন্মোচিত হতে পারে।

সেপ্টেম্বর জুড়ে সনাতনীদের অব্যাহত হত্যা, হামলা ও মন্দির ভাঙচুরের পরিসংখ্যান

শারদীয় দুর্গাপূজায় সরকারের ৫ দিনের 'ছুটি নাটকে' ক্ষুব্ধ সংখ্যালঘু সম্প্রদায়

শারদীয় দুর্গোৎসবে টানা পাঁচ দিনের ছুটি ঘোষণা নিয়ে গণমাধ্যমে ব্যাপকভাবে প্রচারণা চালানো হলেও একে সরকারের এক ধরনের 'কৌশলী মেধা' ও 'প্রচারণামূলক চালাকি' বলে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে সনাতনী সম্প্রদায়। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে দুর্গাপূজা উপলক্ষে টানা পাঁচ দিনের ছুটি মিলছে বলে ফলাও করে প্রচার করা হলেও বাস্তবের সাথে মূল ধর্মীয় উৎসবের ছুটি উদযাপনের কোনো মিল নেই বলে দাবি তুলেছেন দেশের মানবাধিকার ও সংখ্যালঘু অধিকার রক্ষায় সোচ্চার প্রতিনিধিরা।​সম্প্রতি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, আগামী ২২ অক্টোবর বৃহস্পতিবার নির্বাহী আদেশে ছুটি অনুমোদনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর আগে ২০ ও ২১ অক্টোবর পূজার পূর্বনির্ধারিত ছুটি ছিল এবং ২৩ ও ২৪ অক্টোবর যথাক্রমে শুক্রবার ও শনিবারের সাপ্তাহিক ছুটি। (News copied from- 'হিন্দুস নিউজ') সরকারের এই হিসাবকে কেন্দ্র করে দেশের প্রচারমাধ্যমগুলো টানা ৫ দিনের অবকাশের খবর ছড়িয়ে দিলেও এর নেপথ্যের কৌশল নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সনাতন ধর্মাবলম্বীরা।  ​সনাতনী সম্প্রদায়ের ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ও বক্তব্য তুলে ধরে প্রতিনিধিরা বলেন, "বাংলাদেশে যে সূক্ষ্ম বা মেটিকুলাস পদ্ধতিতে সংখ্যালঘুদের নিয়ে রাজনীতি করা হয়, সেই কৌশলী মেধার কাছে আইনস্টাইন, পাণিনি, চরক কিংবা সুশ্রুত—সবাই যেন ফেল। সারাবিশ্বের কাছে এমন ভাব সৃষ্টি করা হলো যেন দুর্গাপূজায় ৫ দিন ছুটি দেওয়া হয়েছে! অথচ বাস্তবে পূজার প্রকৃত ছুটি দেওয়া হয়েছে মাত্র ২ দিন, ৫ দিন নয়।"​উৎসবের এই ছুটির হিসাব বিশ্লেষণ করে তারা আরও বলেন, ২০ ও ২১ অক্টোবর পূজার ছুটি হলেও ২২ অক্টোবরের ছুটিটি আসলে কোনো প্রকৃত ছুটি নয়। কারণ, সরকার শর্ত দিয়েছে যে ওই এক দিনের অতিরিক্ত ছুটির বিনিময়ে পরবর্তী কোনো এক সপ্তাহে সরকারি কর্মচারীদের এক দিন অতিরিক্ত অফিস করে তা সমন্বয় করতে হবে। ফলে এটি আদতে এক প্রকার 'ধার করা ছুটি'। তাছাড়া ২৩ ও ২৪ অক্টোবরের ছুটি সরকারি কর্মচারীদের সাধারণ সাপ্তাহিক ছুটির অংশ, যার সাথে দুর্গাপূজার কোনো সম্পর্কই নেই।  ​মানবাধিকার ও হিন্দু অধিকারকর্মীদের মূল ক্ষোভের জায়গা হলো—সরকারি কর্মচারীদের সাপ্তাহিক বন্ধের সাথে টানা ৫ দিনের ছুটি মেলানোর জন্য এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, সনাতনীদের পূজার সুবিধার জন্য নয়। যদি সত্যিই দুর্গাপূজার প্রতি সম্মান রেখে ছুটি দেওয়া হতো, তবে পূজার মূল আচার-অনুষ্ঠান অর্থাৎ ষষ্ঠী, সপ্তমী ও অষ্টমীতে ছুটি ঘোষণা করা হতো; অথচ ওই গুরুত্বপূর্ণ তিন দিনই সবকিছু খোলা থাকছে! অন্যদিকে দেশের বিশাল অংশের বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত কর্মীদের জন্য বৃহস্পতিবার ও শনিবার একইভাবে অফিস খোলা থাকছে। সনাতনীদের মতে, মাত্র ২ দিন ছুটি দিয়েও কৌশল অবলম্বন করে 'পাঁচ দিন ছুটি' বলে প্রচার করার এই বুদ্ধির কাছে স্বয়ং আইনস্টাইনের বুদ্ধিও হার মানবে। ৫ দিনের পূজায় ভক্তদের প্রকৃত অংশগ্রহণের অধিকার ও মৌলিক চাহিদাকে উপেক্ষিত রেখে কেবল প্রচারণার ফানুস ওড়ানো কতটুকু সঙ্গত, তা নিয়ে এখন সনাতনী সমাজের ভেতরে জোরালো প্রতিবাদ উঠছে।

শারদীয় দুর্গাপূজায় সরকারের ৫ দিনের 'ছুটি নাটকে' ক্ষুব্ধ সংখ্যালঘু সম্প্রদায়

শরীয়তপুরে ৪ পিতলের মূর্তি চুরি

শরীয়তপুরে নিজ গৃহের পারিবারিক মন্দির থেকে ঐতিহ্যবাহী চারটি সনাতনী দেব-দেবীর পিতলের বিগ্রহ চুরির এক উদ্বেগজনক ঘটনা ঘটেছে। সোমবার সকালে শরীয়তপুর পৌরসভার উত্তর বালুচর এলাকায় সনাতন ধর্মাবলম্বী অশোক কুমার দের বাড়ির মন্দিরে এই দুর্ধর্ষ চুরির ঘটনা ঘটে। চুরি যাওয়া মূল্যবান প্রতিমাগুলোর মধ্যে রয়েছে শ্রীশ্রী দুর্গা, গণেশ, লক্ষ্মী ও ভগবানের মূর্তি। একটি অসাম্প্রদায়িক দেশের ধর্মীয় সংখ্যালঘু সনাতনী সম্প্রদায়ের উপাসনালয়ে প্রতিনিয়ত এ ধরনের নিরাপত্তাহীনতা এবং চুরির ঘটনা স্থানীয় ধর্মপ্রাণ ভক্তদের মনে গভীর ক্ষোভ ও আতঙ্কের সৃষ্টি করেছে। মন্দির কমিটির সূত্রে জানা গেছে, সকালে পরিবারের সদস্যরা যার যার কাজে বাইরে গেলে ফাঁকা বাড়ির সুযোগ নিয়ে দুষ্কৃতকারীরা মন্দিরে প্রবেশ করে। (News copied from- 'হিন্দুস নিউজ') বিকেলে ভক্তরা পূজা অর্চনার জন্য মন্দিরে প্রবেশ করলে বিগ্রহগুলো গায়েব দেখতে পান এবং পরবর্তীতে বিষয়টি পালং মডেল থানা পুলিশকে জানানো হয়। সিসিটিভি ফুটেজে লাল গেঞ্জি পরা এক সন্দেহভাজন যুবককে মন্দিরে প্রবেশ করতে দেখা গেলেও এখন পর্যন্ত অপহৃত বিগ্রহগুলো উদ্ধার কিংবা অপরাধীকে আটক করতে পারেনি প্রশাসন। স্থানীয় সনাতনী সমাজ দ্রুততম সময়ে প্রতিমাগুলো উদ্ধার এবং ধর্মীয় উপাসনালয়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জোর দাবি জানিয়েছেন।

শরীয়তপুরে ৪ পিতলের মূর্তি চুরি

ফরিদপুরের ঐতিহ্যবাহী কষ্টিপাথর প্রতিমাসহ গ্রেপ্তার ৪ দুষ্কৃতকারী

ফরিদপুর শহরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত ঐতিহাসিক সদর হাসপাতাল সংলগ্ন ঐতিহ্যবাহী পুরাতন কালীবাড়ী। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের পরম বিশ্বাস ও আবেগের প্রতীক এই জাগ্রত মন্দিরে গত ১৯ সেপ্টেম্বর রাতে নেমে এসেছিল এক অন্ধকার ছায়া। তালা কেটে নিমিষেই গায়েব করে দেওয়া হয়েছিল ভক্তদের বহু বছরের আস্থার প্রতীক, কয়েক কোটি টাকা মূল্যের দুষ্প্রাপ্য কষ্টিপাথরের মা কালীর প্রতিমা ও দেবোত্তর সম্পত্তি। তবে সত্যের জয় ও ভক্তদের আকুল প্রার্থনায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অবশেষে উদ্ধার করতে পেরেছে সেই পবিত্র বিগ্রহ। মাটির গভীর অন্ধকার থেকে আলোর মুখ দেখেছে ২০ কেজি ওজনের অতি দুর্লভ কষ্টিপাথরের মা কালী প্রতিমা, সাথে উদ্ধার করা হয়েছে চুরি যাওয়া পাঁচ ভরি স্বর্ণ, ৩০ ভরি রূপা ও ছয়টি পিত্তলের প্রতিমা। এমনকি চুরি যাওয়া অলংকার গলিয়ে ফেলা আট আনা গলানো স্বর্ণও বাজেয়াপ্ত করেছে পুলিশ।​(News copied from- 'হিন্দুস নিউজ')​বাংলাদেশজুড়ে বারবার আঘাত হানা অশুভ শক্তির কালো হাত যখন সংখ্যালঘুদের ঐতিহ্য ও বিশ্বাসের ওপর ছায়াপাত ঘটায়, তখন এ ধরনের ন্যক্কারজনক ঘটনা গোটা মানবতাকেই লজ্জিত করে। তদন্তের ভিত্তিতে গ্রেপ্তার করা হয়েছে আলফাডাঙ্গা উপজেলার বুরাইচ গ্রামের আসাদুজ্জামান সাদ্দাম, তার মা সাজেদা বেগম, বোয়ালমারীর কান্দাকুল গ্রামের আল আমিন মোল্লা এবং বোয়ালমারীর আতিয়ার রহমানকে। এই ঘৃণ্য অপরাধের শিকার হয়ে সনাতনী সমাজ যে রক্তক্ষরণে ভুগছিল, এই গ্রেপ্তারে সাময়িক স্বস্তি ফিরলেও প্রশ্ন থেকে যায় দেবোত্তর সম্পত্তির সুরক্ষায় মানবাধিকার ও আইনের সঠিক বাস্তবায়ন নিয়ে। সকল জাতির ধর্মীয় অধিকার নিশ্চিত করাই যেখানে সভ্য সমাজের মূল ভিত্তি, সেখানে মন্দিরে মন্দিরে এই ধরনের হীন আক্রমণ প্রতিরোধে প্রয়োজন আরও কঠোর ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি।

ফরিদপুরের ঐতিহ্যবাহী কষ্টিপাথর প্রতিমাসহ গ্রেপ্তার ৪ দুষ্কৃতকারী

কাহারোলে ঐতিহ্যবাহী কান্তজীউ মন্দির পরিদর্শনে মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী

দিনাজপুরের কাহারোল উপজেলার ঐতিহ্যবাহী ও প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন কান্তজিউ মন্দির পরিদর্শন করেছেন সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন এমপি এবং সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম এমপি।শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬) মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী কান্তজিউ মন্দিরে পৌঁছে মন্দিরের বিভিন্ন অংশ ঘুরে দেখেন। এ সময় তারা মন্দিরের প্রাচীন স্থাপত্যশৈলী, টেরাকোটার নান্দনিক কারুকার্য ও ঐতিহাসিক নিদর্শন পর্যবেক্ষণ করেন।পরিদর্শনকালে কান্তজিউ মন্দিরের ঐতিহাসিক গুরুত্ব, প্রত্নতাত্ত্বিক ঐতিহ্য সংরক্ষণ, পর্যটন সম্ভাবনা এবং দর্শনার্থীদের জন্য বিদ্যমান সুযোগ-সুবিধা নিয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলেন মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী।এ সময় উপস্থিত ছিলেন দিনাজপুর-১ (বীরগঞ্জ-কাহারোল) আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য আলহাজ্ব মো. মনজুরুল ইসলাম, দিনাজপুর-৩ আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য জাহাঙ্গীর আলম, দিনাজপুরের জেলা প্রশাসক মো. রফিকুল ইসলাম, জেলা পুলিশ সুপার জেদান আল মুসা, কাহারোল উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোছা. মোকলেদা খাতুন মীম, রাজদেবোত্তর এস্টেটের এজেন্ট রণজিৎ কুমার সিংহ, কাহারোল উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. গোলাম মোস্তফা বাদশা, সাধারণ সম্পাদক শামীম আলীসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতৃবৃন্দ।কান্তজিউ মন্দির বাংলাদেশের অন্যতম ঐতিহাসিক স্থাপনা। মন্দিরের দেয়ালজুড়ে থাকা অনন্য টেরাকোটা কারুকার্য ও প্রাচীন স্থাপত্যশৈলী দেশ-বিদেশের দর্শনার্থীদের আকৃষ্ট করে আসছে।ঐতিহাসিক এই স্থাপনার সংরক্ষণ, পর্যটন সম্ভাবনা এবং দর্শনার্থীদের সুযোগ-সুবিধা উন্নয়নের বিষয়ে পরিদর্শনকালে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী।

কাহারোলে ঐতিহ্যবাহী কান্তজীউ মন্দির পরিদর্শনে মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী

প্রেমানন্দজি মহারাজের শিষ্যের রহস্যজনক মৃত্যু: ঘর থেকে উদ্ধার রক্তমাখা বস্তু

শ্রীধাম বৃন্দাবনে শ্রী রাধা-কৃষ্ণের প্রেমলীলা ও ভক্তি সাধনার পবিত্র তীর্থভূমিতে ঘটে গেল এক পরম মর্মান্তিক ও চাঞ্চল্যকর ঘটনা। প্রখ্যাত সন্ত শ্রী প্রেমানন্দজি মহারাজের শিষ্য ২৫ বছর বয়সী তরুণ সাধু দীপক ওরফে রসিক দুলারী শরণের রহস্যাবৃত মৃত্যু সনাতন ধর্মপ্রাণ সমাজ তথা নিখিল ভক্তমণ্ডলীকে গভীর শঙ্কা ও বেদনায় নিমজ্জিত করেছে। বৃন্দাবনের বরাহঘাট এলাকার ‘গুরু কৃপা কুঞ্জ’ আশ্রমে এই হৃদয়বিদারক ঘটনাটি ঘটে। আশ্রমের চারতলার ভবন থেকে আচমকা পড়ে যাওয়ার পর গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করে দ্রুত সর্বোদয় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি প্রাণ ত্যাগ করেন। শ্রীধামের মতো পরম বৈষ্ণব তীর্থক্ষেত্রে এবং ধর্মপ্রাণ সনাতনীদের নিরাপদ আশ্রয়স্থলে একজন নবীন সাধুর এই নিদারুণ পরিণতি শুধু একটি মৃত্যুর ঘটনা নয়, বরং সমগ্র সনাতনী সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা ও ধর্মীয় পরিবেশের সুরক্ষাকে কেন্দ্র করে বড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।​আশ্রম সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, সদ্যপ্রয়াত রসিক দুলারী শরণ বিগত দুই বছর ধরে পরম শ্রদ্ধেয় প্রেমানন্দজি মহারাজের অনুচরবর্গের অংশ হিসেবে নিষ্ঠার সঙ্গে সেবাব্রতে নিয়োজিত ছিলেন। সন্ত প্রেমানন্দজির থেকে দীক্ষা গ্রহণের পর তিনি রাধা বাটিকার নিকটস্থ উক্ত চারতলা আশ্রমে অবস্থান করছিলেন। শুক্রবার হঠাৎ চারতলা থেকে তাঁর পতনের শব্দে আশ্রমের অন্যান্য সাধু ও অনুগামীরা ছুটে যান এবং রক্তাক্ত অবস্থায় তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করান। তবে ঘটনার পর পুলিশি তদন্তে যেসব চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে, তা পুরো বিষয়টি সাধারণ আত্মহত্যার সম্ভাবনাকে ছাপিয়ে এক গভীর ষড়যন্ত্রের দিকে নির্দেশ করছে। নিহতের ঘর তল্লাশি করে পুলিশ একটি রক্তমাখা শিলনোড়া, রক্তভেজা গ্রাইন্ডিং মেশিন এবং একটি ব্যক্তিগত ডায়েরি উদ্ধার করেছে। ময়নাতদন্তের প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে নিহতের দেহে একাধিক রহস্যজনক আঘাতের চিহ্ন এবং যৌনাংশে মারাত্মক ক্ষত পাওয়া গেছে, যা কোনো স্বাভাবিক পরিস্থিতি বা কেবল উপর থেকে পতনের কারণে সৃষ্ট আঘাতের লক্ষণ হতে পারে না।​সনাতন ধর্মের কেন্দ্রস্থল বৃন্দাবনে বৈষ্ণব সাধুদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করা এবং হিন্দু ধর্মপ্রাণ জনগোষ্ঠীর পবিত্র ভাবাবেগ রক্ষায় প্রশাসনিক তৎপরতা অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে। স্থানীয় বৃন্দাবন কোতোয়ালি থানা পুলিশ ঘটনাটির প্রতিটি দিক খতিয়ে দেখছে এবং এটিকে স্রেফ দুর্ঘটনা বা আত্মহত্যা হিসেবে না দেখে সম্ভাব্য পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ডের দৃষ্টিকোণ থেকেও তদন্ত এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। সনাতনী মূল্যবোধ ও বিশ্বজনীন মানবাধিকারে বিশ্বাসী যেকোনো সচেতন নাগরিকের দাবি, এই মর্মান্তিক ঘটনার পেছনে যদি কোনো অশুভ চক্রান্ত বা অপরাধমূলক চক্রান্ত লুকিয়ে থাকে, তবে নিরপেক্ষ ও পূর্ণাঙ্গ তদন্তের মাধ্যমে দ্রুত তার উন্মোচন ঘটুক। News copied from- 'হিন্দুস নিউজ' এবং পবিত্র তীর্থক্ষেত্রে অবস্থানরত সমস্ত সাধু-সন্ত ও ভক্তদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা হোক, যাতে সনাতন ধর্মের ধারক-বাহকদের পবিত্র সাধনা ক্ষেত্র নিরাপদ থাকে।

প্রেমানন্দজি মহারাজের শিষ্যের রহস্যজনক মৃত্যু: ঘর থেকে উদ্ধার রক্তমাখা বস্তু

কুষ্টিয়ায় মহাশ্মশানে পিকনিক,মীমাংসাপত্রে স্বাক্ষর না করায় সম্পাদককে মারধর

কুষ্টিয়া সদর উপজেলার হরিনারায়ণপুর মহাশ্মশানে মাংস রান্না করে পিকনিক করা এবং চিতা ও সমাধির ওপর জুতা পায়ে দাঁড়িয়ে ছবি তোলার অভিযোগকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া ঘটনা নতুন মোড় নিয়েছে। বিষয়টি স্থানীয়ভাবে মীমাংসার উদ্যোগ নেওয়া হলেও লিখিত মীমাংসাপত্রে স্বাক্ষর করা নিয়ে বিরোধের একপর্যায়ে হরিনারায়ণপুর মহাশ্মশান কমিটির সাধারণ সম্পাদক বিপুল কুমার সাহাকে মারধর করার অভিযোগ উঠেছে। ধর্মীয় স্থানের পবিত্রতা নষ্টের অভিযোগ থেকে শুরু করে সামাজিক মীমাংসা এবং পরবর্তী হামলার অভিযোগ—পুরো ঘটনাকে ঘিরে এলাকায় আলোচনা ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।ঘটনার সূত্রপাত মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর)। স্থানীয়দের অভিযোগ, ওই দিন একদল যুবক হরিনারায়ণপুর বাজার মহাশ্মশান এলাকায় মাংস রান্না করে পিকনিক করেন। শুধু পিকনিকই নয়, তাদের কয়েকজনের বিরুদ্ধে জুতা পায়ে শ্মশানের চিতা ও একটি সমাধির ওপর উঠে ছবি তোলার অভিযোগও ওঠে। পরবর্তী সময়ে ঘটনার কিছু ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি দ্রুত স্থানীয়দের নজরে আসে।ধর্মীয়ভাবে গুরুত্বপূর্ণ ও স্পর্শকাতর একটি স্থানে এমন কর্মকাণ্ডের অভিযোগ সামনে আসায় স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের অনেকের মধ্যে ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দেয়। তাদের বক্তব্য, মহাশ্মশান শুধু মৃতদেহ সৎকারের স্থান নয়; এটি ধর্মীয় আচার ও প্রয়াত ব্যক্তিদের স্মৃতির সঙ্গে সম্পর্কিত একটি পবিত্র স্থান। ফলে সেখানে এমন কর্মকাণ্ডের অভিযোগকে তারা ধর্মীয় অনুভূতি ও শ্মশানের মর্যাদার প্রতি অসম্মান হিসেবে দেখছেন।তবে ঘটনাটি যাতে বড় ধরনের বিরোধ বা সাম্প্রদায়িক উত্তেজনায় রূপ না নেয়, সেজন্য স্থানীয়ভাবে দ্রুত পরিস্থিতি শান্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়। সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার রাতেই কয়েকজন স্থানীয় ব্যক্তি ও দায়িত্বশীল ব্যক্তির উপস্থিতিতে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়। ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি হবে না—এমন আশ্বাসের ভিত্তিতে মৌখিকভাবে একটি সমাধানে পৌঁছানোর চেষ্টা করা হয়।কিন্তু পরদিন বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) মৌখিক সমঝোতাকে লিখিত রূপ দিতে গিয়ে নতুন করে জটিলতা তৈরি হয়। স্থানীয় সূত্রের দাবি, আগের রাতে যারা বিষয়টির দায়িত্ব নিয়েছিলেন এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনা না ঘটার বিষয়ে আশ্বাস দিয়েছিলেন, তাদের কয়েকজনের স্বাক্ষর পরবর্তী লিখিত মীমাংসাপত্রে ছিল না। এ অবস্থায় কেবল একটি লিখিত কাগজের মাধ্যমে পুরো বিষয়টি নিষ্পত্তি করা নিয়ে মহাশ্মশান কমিটির সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মধ্যে আপত্তি দেখা দেয়।সংশ্লিষ্টদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বুধবার সকালে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এস এম মামুনুর রশীদ মহাশ্মশান কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক এবং অভিযুক্ত যুবকদের পরিবারের সদস্যদের থানায় যেতে বলেন। তারা থানায় গেলেও ওই সময় ওসি থানায় উপস্থিত ছিলেন না বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে একটি মীমাংসাপত্র তৈরি করে সংশ্লিষ্টদের স্বাক্ষর নিয়ে সন্ধ্যার মধ্যে থানায় জমা দেওয়ার কথা বলা হয় বলে দাবি করা হয়েছে।এরপর অভিযুক্তদের পক্ষ থেকে একটি লিখিত মীমাংসাপত্র প্রস্তুত করা হয়। সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য অনুযায়ী, দুপুরের দিকে ওই মীমাংসাপত্রে মহাশ্মশান কমিটির সভাপতি সুবাস কর্মকারের স্বাক্ষর নেওয়া হয়। কিন্তু আগের রাতে মৌখিক মীমাংসার সময় যারা দায়িত্ব নিয়েছিলেন বলে দাবি করা হচ্ছে, তাদের সবার স্বাক্ষর সেখানে ছিল না।এ বিষয়টি নিয়েই আপত্তি জানান মহাশ্মশান কমিটির সাধারণ সম্পাদক বিপুল কুমার সাহাসহ সংশ্লিষ্টদের একাংশ। হরিনারায়ণপুর ইউনিয়নের হিন্দু সম্প্রদায়ের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতামত এবং আগের দিনের আলোচনায় দায়িত্ব নেওয়া ব্যক্তিদের স্বাক্ষর ছাড়া ঘটনাটির চূড়ান্ত নিষ্পত্তি কতটা গ্রহণযোগ্য হবে—এ নিয়েও প্রশ্ন ওঠে।প্রকাশিত প্রতিবেদনে স্থানীয় সূত্রের বরাতে আরও বলা হয়েছে, দায়িত্ব নেওয়া রাজনৈতিক ব্যক্তিদের মধ্যে একজন লিখিত মীমাংসাপত্রে স্বাক্ষর করতে সম্মত হননি। তবে সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক ব্যক্তিদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ফলে কেন তিনি স্বাক্ষর করেননি কিংবা এ বিষয়ে তার অবস্থান কী—তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।এই পরিস্থিতির মধ্যেই বুধবার সন্ধ্যায় ঘটনাটি আরও জটিল হয়ে ওঠে। অভিযোগ অনুযায়ী, ঘটনার সঙ্গে জড়িত বলে অভিযোগ ওঠা এক যুবকের বাবা বক্কর মীমাংসাপত্র নিয়ে মহাশ্মশান কমিটির সাধারণ সম্পাদক বিপুল কুমার সাহার কাছে যান। স্থানীয় সূত্রে তাকে হরিনারায়ণপুর ইউনিয়নের আব্দালপুর গ্রামের বাসিন্দা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।বিপুল কুমার সাহার অভিযোগ অনুযায়ী, সন্ধ্যা আনুমানিক ৭টার দিকে হরিনারায়ণপুরের লক্ষণ জুট মিলসংলগ্ন জাহাঙ্গীরের গোডাউনের সামনে তাদের দেখা হয়। সেখানে মীমাংসাপত্রে স্বাক্ষর করা নিয়ে উভয়ের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে তাকে মারধর করা হয়েছে বলে বিপুল কুমার সাহা অভিযোগ করেন।তবে মারধরের অভিযোগে যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে, তাদের বক্তব্য প্রকাশিত তথ্যে পাওয়া যায়নি। একইভাবে হামলার অভিযোগে থানায় পৃথক মামলা বা লিখিত অভিযোগ হয়েছে কি না এবং পুলিশ এ ঘটনায় কোনো আইনগত পদক্ষেপ নিয়েছে কি না—সে বিষয়েও সরবরাহ করা তথ্যে নিশ্চিত তথ্য নেই। ফলে এসব বিষয় স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।স্থানীয়দের ভাষ্য, মঙ্গলবার রাতের মীমাংসার মূল উদ্দেশ্য ছিল পরিস্থিতি শান্ত রাখা এবং ঘটনাকে কেন্দ্র করে কোনো ধরনের সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা সৃষ্টি হতে না দেওয়া। কিন্তু পরদিন লিখিত মীমাংসাপত্রে স্বাক্ষরকে কেন্দ্র করে নতুন বিরোধ এবং পরে মহাশ্মশান কমিটির সাধারণ সম্পাদককে মারধরের অভিযোগ ওঠায় বিষয়টি আবারও আলোচনার কেন্দ্রে চলে আসে।এদিকে মহাশ্মশানের পবিত্রতা নষ্ট এবং কমিটির সাধারণ সম্পাদকের ওপর হামলার অভিযোগকে কেন্দ্র করে স্থানীয় ধর্মীয় সংগঠনগুলোর ব্যানারে কর্মসূচি দেওয়ার প্রস্তুতি চলছে বলে একাধিক সূত্র জানিয়েছে। সূত্রগুলোর দাবি, শান্তিপূর্ণ কর্মসূচির মাধ্যমে ধর্মীয় স্থানের নিরাপত্তা, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং নিজেদের নিরাপত্তার দাবি জানানো হতে পারে। তবে কোনো সংগঠন আনুষ্ঠানিকভাবে কর্মসূচির তারিখ, সময় বা বিস্তারিত ঘোষণা করেছে—এমন তথ্য এখনো পাওয়া যায়নি।স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, ঘটনাটি ধর্মীয় অনুভূতির সঙ্গে সম্পর্কিত হওয়ায় বিষয়টি অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে মোকাবিলা করা প্রয়োজন। কোনো যাচাইবিহীন তথ্য বা উসকানিমূলক বক্তব্য যাতে পরিস্থিতিকে আরও জটিল না করে, সেদিকেও সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হচ্ছে।একই সঙ্গে তাদের দাবি, ধর্মীয় স্থান ও মানুষের ধর্মীয় অনুভূতির প্রতি সম্মান দেখানো প্রত্যেক নাগরিকের দায়িত্ব। আবার কোনো অভিযোগের নিষ্পত্তির ক্ষেত্রেও চাপ প্রয়োগ বা ভয়ভীতির পরিবর্তে আইনগত ও গ্রহণযোগ্য প্রক্রিয়া অনুসরণ করা জরুরি। সামাজিকভাবে মীমাংসার উদ্যোগ নেওয়া হলেও সেখানে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মতামত ও সম্মতি থাকা প্রয়োজন বলেও মনে করছেন তারা।স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের একাংশ এখন মহাশ্মশানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, সেখানে ভবিষ্যতে এ ধরনের কর্মকাণ্ড ঠেকানো এবং সাধারণ সম্পাদকের ওপর হামলার অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানাচ্ছেন। একই সঙ্গে ঘটনাকে কেন্দ্র করে কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী যাতে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা সৃষ্টি করতে না পারে, সে জন্য প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরদারি প্রত্যাশা করছেন তারা।

কুষ্টিয়ায় মহাশ্মশানে পিকনিক,মীমাংসাপত্রে স্বাক্ষর না করায় সম্পাদককে মারধর

রাউজানে আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা উদযাপন উপলক্ষে আলোচনা ও মতবিনিময় সভা

আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা-২০২৬ সুষ্ঠু, সুন্দর, শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপনের লক্ষ্যে চট্টগ্রামের রাউজানে বার্ষিক আলোচনা ও মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) রাউজান উপজেলা অডিটোরিয়াম হলরুমে রাউজান উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের উদ্যোগে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।রাউজান উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি অরুণ পালিত বাসুর সভাপতিত্বে সভায় যৌথভাবে সঞ্চালনা করেন সনাতন বিদ্যার্থী সংসদ রাউজান শাখার সভাপতি রাখাশ সরকার ও বাপ্পা কুমার দাশ।সভায় মহা আশীর্বাদক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আদ্যাপীঠ রামকৃষ্ণ সংঘ ও মন্দিরের প্রধান পূজারি তপন চক্রবর্তী।বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম উত্তর জেলা যুবদলের গণশিক্ষাবিষয়ক সম্পাদক সাঈয়িদ বিন আমান রানা, রাউজান উপজেলা যুবদলের সভাপতি এম শাহজান সাহিল, রাউজান পৌরসভা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক সাহাদাত মির্জা এবং রাউজান উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক সুমন দাশ গুপ্ত।এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন পূজা উদযাপন পরিষদের দক্ষিণ রাউজান উপকমিটির সাধারণ সম্পাদক বিটু কান্তি দে, রাউজান পৌরসভা যুবদলের সভাপতি আরিফুল ইসলাম, চট্টগ্রাম উত্তর জেলা ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক রিদুয়ানুল হক, রাউজান উপজেলা জন্মাষ্টমী উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক ও পূজা উদযাপন পরিষদের সাংগঠনিক সম্পাদক বাপ্পা কুমার দাশ, রাউজান ঐক্যবদ্ধ সনাতনী সমাজ সংগঠনের সভাপতি নরেশ দাশ গুপ্ত, সংগঠনের পৌরসভা সভাপতি ডা. লিটন শর্মা, দক্ষিণ রাউজান গঙ্গা মন্দির পরিচালনা পরিষদের অর্থ সম্পাদক শিক্ষক সমীর চন্দ্র দে, রাউজান পৌরসভা যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক মঈনুল ইসলাম পিংকু, চট্টগ্রাম উত্তর জেলা ছাত্রদলের সহ-যুগ্ম সম্পাদক এম এস নেওয়াজ, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক সোহেল খান, বিএনপি নেতা শহীদ চৌধুরী, রাউজান ঐক্যবদ্ধ সনাতনী সমাজ সংগঠনের পৌরসভা সাধারণ সম্পাদক ভোমর দাশ, শিক্ষক বিজয় বিশ্বাস ও শিক্ষক মাধব নন্দীসহ বিভিন্ন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।এ সময় রাউজান উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের দপ্তর সম্পাদক রূপস দাশ গুপ্ত, সহ-দপ্তর সম্পাদক বাপ্পা দাশ, গণসংযোগ সম্পাদক দূর্জয় দাশ সূর্য, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান সংরক্ষণ সম্পাদক ঈশান ভট্টাচার্য, সহ-পূজা বিষয়ক সম্পাদক সুমন রায়, প্রচার সম্পাদক প্রান্ত পালিত, সহ-সাধারণ সম্পাদক হিমাদ্রি পালসহ কার্যনির্বাহী কমিটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন বাগীশিক রাউজান সংসদের সাংগঠনিক সম্পাদক ও রাউজান ঐক্যবদ্ধ সনাতনী সমাজ সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক অর্পণ মহাজন রিপু, বাগীশিক রাউজান উপজেলা সংসদের সাধারণ সম্পাদক পাভেল চৌধুরী, রামকৃষ্ণ মিশনের সাধারণ সম্পাদক মানু কর্মকার, রাউজান পৌরসভা যুবদলের যুগ্ম সম্পাদক মোহাম্মদ রাজু, যুবদল নেতা শাকিল চৌধুরীসহ বিভিন্ন সামাজিক, ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।সভায় রাউজান উপজেলার উত্তর ও দক্ষিণ রাউজান এবং পৌরসভা এলাকার বিভিন্ন পূজামণ্ডপ কমিটির সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক ও সদস্যরা অংশগ্রহণ করেন।আলোচনা সভায় আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণ, সুশৃঙ্খল ও উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন করতে পারস্পরিক সহযোগিতা, সম্প্রীতি ও সমন্বয়ের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। একই সঙ্গে পূজামণ্ডপগুলোর সার্বিক প্রস্তুতি, নিরাপত্তা, শৃঙ্খলা এবং ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য বজায় রাখার বিষয়ে বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করা হয়।

রাউজানে আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা উদযাপন উপলক্ষে আলোচনা ও মতবিনিময় সভা

সরকারি তিতুমীর কলেজে নবীন সনাতনী শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ত করতে প্রচার বুথ ও ভজন-কীর্তন অনুষ্ঠিত

সরকারি তিতুমীর কলেজে ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের ওরিয়েন্টেশন ক্লাস উপলক্ষে নবীন সনাতনী শিক্ষার্থীদের সঙ্গে যোগাযোগ এবং ধর্মীয়-সাংস্কৃতিক কার্যক্রমে সম্পৃক্ত করতে প্রচার বুথ স্থাপন করা হয়েছে। সরকারি তিতুমীর কলেজ মন্দির সনাতন সোসাইটি ফর কালচার অ্যান্ড এডুকেশনের উদ্যোগে কলেজ প্রাঙ্গণে এ বুথ স্থাপন করা হয়।মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) ওরিয়েন্টেশনে আসা নবীন শিক্ষার্থীদের মধ্যে সনাতনী শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পরিচিত হন আয়োজকেরা। এ সময় তাদের কলেজ মন্দিরের বিভিন্ন ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রম সম্পর্কে জানানো হয়। পাশাপাশি এসব কার্যক্রমে অংশগ্রহণের সুযোগ সম্পর্কেও অবহিত করা হয়।আয়োজকেরা জানান, নবীন শিক্ষার্থীদের সঙ্গে যোগাযোগ তৈরি, কলেজ মন্দিরের কার্যক্রমের সঙ্গে তাদের পরিচিত করা এবং ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করাই এ উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য। প্রচার বুথের মাধ্যমে সংগঠনের বিভিন্ন কার্যক্রম সম্পর্কেও নবীনদের ধারণা দেওয়া হয়।এ সময় সনাতনী শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে ভজন, কীর্তন ও সঙ্গীত পরিবেশন করা হয়। এতে কলেজ প্রাঙ্গণে তৈরি হয় ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক আবহ। ওরিয়েন্টেশনে আসা নবীন সনাতনী শিক্ষার্থীরাও এসব আয়োজনে অংগ্রহণে আগ্রহ প্রকাশ করেন।আয়োজকদের মতে, ওরিয়েন্টেশনের মতো আয়োজনে নবীন শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের ফলে তাদের কলেজ মন্দিরের কার্যক্রম সম্পর্কে জানার সুযোগ তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে অংশ নেওয়ার বিভিন্ন সুযোগ সম্পর্কেও তারা অবহিত হয়েছেন।সনাতন সোসাইটি ফর কালচার অ্যান্ড এডুকেশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, শিক্ষার্থীদের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করতে ভবিষ্যতেও এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত রাখার পরিকল্পনা রয়েছে।

সরকারি তিতুমীর কলেজে নবীন সনাতনী শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ত করতে প্রচার বুথ ও ভজন-কীর্তন অনুষ্ঠিত