রাজধানীর কেন্দ্রস্থল গুলিস্তান থেকে রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হয়েছেন দৈনিক নবচেতনা পত্রিকার ফটোসাংবাদিক বাদল দাস (৫০)। গত সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকে তার কোনো সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে না। মঙ্গলবার বিকেল পর্যন্ত সম্ভাব্য সমস্ত জায়গায় পরিবারের সদস্য ও সহকর্মীরা সন্ধান চালিয়েও তার কোনো খোঁজ মেলেনি। দেশের সংখ্যালঘু সনাতনী সম্প্রদায়ের একজন পেশাদার গণমাধ্যমকর্মীর এভাবে আচমকা হাওয়া হয়ে যাওয়ার ঘটনায় চরম উদ্বেগ ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে তার পরিবার, সহকর্মী এবং নাগরিক সমাজের মধ্যে। মানবাধিকার সংগঠনগুলো এ ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে অবিলম্বে তার নিরাপদ প্রত্যাবর্তনের দাবি জানিয়েছে।
নিখোঁজ বাদল দাস পটুয়াখালী জেলা সদর থানার নতুন বাজার এলাকার বাসিন্দা বাসুদেব দাসের সন্তান। পেশাগত তাগিদে তিনি রাজধানীর গুলিস্তানের শিশু কল্যাণ পরিষদ ভবনে একটি কক্ষে বসবাস করছিলেন। ঘটনার পর সহকর্মীরা তার কক্ষে গিয়ে দেখতে পান, বাদল দাসের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি রুমেই পড়ে রয়েছে। (News copied from- 'হিন্দুস নিউজ') পরবর্তীতে একটি অজানা নম্বর থেকে ফোন করে দাবি করা হয়, বাদল দাস আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর (ডিবি) হেফাজতে রয়েছেন। তবে বাদল দাসের রুমমেট ফটোসাংবাদিক ফোজিত শেখ বাবু মতিঝিল থানা ও ডিবি কার্যালয়ে বারবার যোগাযোগ করা সত্ত্বেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাকে আটকের বিষয়টি স্বীকার করা হয়নি এবং সেখান থেকেও তার কোনো হদিস মেলেনি। পরবর্তীতে ওই অজ্ঞাত ফোন নম্বরটিতে পুনরায় যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে সেটিও বন্ধ পাওয়া যায়। একজন সংখ্যালঘু সাংবাদিকের এভাবে রহস্যজনকভাবে উধাও হয়ে যাওয়া এবং প্রশাসনের কোনো স্পষ্ট বার্তা না থাকা সার্বিক মানবাধিকার ও সাংবাদিকদের নিরাপত্তার ক্ষেত্রে এক বড় প্রশ্নচিহ্ন দাঁড় করিয়ে দিয়েছে।
সহকর্মী জাকির হোসেন গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে জানান, কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত বাদল দাসের সন্ধান সংক্রান্ত তথ্য মেলেনি। চরম উৎকণ্ঠার মধ্য দিয়ে দিন কাটাচ্ছে তার পরিবার। নিখোঁজ ফটোসাংবাদিক বাদল দাসের দ্রুত সন্ধান পেতে পরিবার ও মানবাধিকারকর্মীরা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তার সম্পর্কে কোনো তথ্য জানা থাকলে রুমমেট ফোজিত শেখ বাবু অথবা নিকটস্থ থানায় যোগাযোগ করার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ জানানো হচ্ছে।
মতামত