সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদে চূড়ান্তভাবে উত্তীর্ণ হয়েও কেবল নিজস্ব স্থায়ী বসতভিটা না থাকার অমানবিক অজুহাতে এতদিন নিয়োগপত্র পাননি ঝিনাইদহের প্রান্তিক ও অনাথ পরিবারের সন্তান মিশন আচার্য। মেধা তালিকায় ১৭তম স্থান অর্জন করা সত্ত্বেও ১৮২ জনের মধ্যে যে দুজনকে নিয়োগ বঞ্চিত রাখা হয়েছিল, তার মধ্যে অন্যতম ছিলেন তিনি। ছোটবেলায় পিতৃহীন হয়ে চরম দারিদ্র্য ও অভাবের সাথে সংগ্রাম করে মায়েরা অশেষ কষ্টে বড় করা এই যুবক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগ থেকে সাফল্যের সাথে উচ্চশিক্ষা সম্পন্ন করেছিলেন। জীবনের বহু ঘাত-প্রতিঘাত পেরিয়ে প্রাথমিকে শিক্ষকতার মতো মহতী পেশায় যুক্ত হওয়ার স্বপ্ন যখন অর্থাভাব কিংবা স্থায়ী ভিটেমাটির অনুপস্থিতির মতো আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় ভেস্তে যেতে বসেছিল, তখন বিষয়টি বিভিন্ন মাধ্যমে তুলে ধরা হয়। ঝিনাইদহ সদর উপজেলার কলাবাগান এলাকায় জন্মলগ্ন থেকে মায়ের সাথে ভাড়া বাসায় বসবাস করে আসা একজন ভূমিহীন নাগরিকের মৌলিক এবং মানবিক অধিকার এভাবে লঙ্ঘিত হওয়ায় সনাতনী সমাজসহ সুশীল সমাজে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
অবশেষে গণমাধ্যমে খবর প্রকাশের পর এই বৈষম্য ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নজরে আসে। উদ্ভূত পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে এবং মানবিক দিক গুরুত্বের সাথে দেখে প্রধানমন্ত্রীর সহকারী (রাজনৈতিক) মো. রাশেদ খাঁনের বিশেষ উদ্যোগ ও সুপারিশে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনের সাথে সরাসরি সাক্ষাতের আয়োজন করা হয়। (News copied from- 'হিন্দুস নিউজ') অত্যন্ত আন্তরিক ও মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে পুরো বিষয়টি পর্যালোচনা শেষে শিক্ষামন্ত্রী সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দিয়ে মিশন আচার্যের নিয়োগ প্রক্রিয়া দ্রুত চূড়ান্ত করার নির্দেশ প্রদান করেছেন। এর মাধ্যমে শুধু একজন ভূমিহীন ও অধিকারবঞ্চিত মেধা সম্পন্ন সনাতনী যুবকের দীর্ঘদিনের অন্যায় বৈষম্যের অবসান ঘটেনি, বরং রাষ্ট্র যে সকল নাগরিকের মৌলিক ও মানবিক অধিকার সুনিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ—সেই বিশ্বাসের প্রতিফলন ঘটেছে। দীর্ঘ অনিশ্চয়তা ও বিড়ম্বনার মেঘ কেটে অবশেষে নিজের অর্জিত যোগ্যতার ভিত্তিতে শিক্ষকতার নিয়োগপত্র হাতে পাওয়ার আনন্দময় প্রতীক্ষায় প্রহর গুনছেন প্রান্তিক সমাজ থেকে উঠে আসা এই তরুণ।
মতামত