বাংলার লোকসংগীত ও ঐতিহ্যবাহী সংস্কৃতির ওপর ক্রমাগত সাংস্কৃতিক আগ্রাসন ও বিকৃতি রোধে এবার কঠোর অবস্থান নিয়েছেন পদ্মশ্রীপ্রাপ্ত প্রবীণ লোকশিল্পী রতন কাহার। বহুশ্রুত ও কালজয়ী লোকসংগীত ‘বড়লোকের বেটি লো’ গানটি বিকৃত করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার এবং মূল স্রষ্টার নাম বাদ দিয়ে কৃতিত্ব চুরির অভিযোগে তিনি আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করেছেন। বীরভূমের সিউড়ির এই গুণী শিল্পী তাঁর সৃষ্টিশীল কর্মের সুরক্ষা ও নিজের অধিকার রক্ষায় সাইবার ক্রাইম সেলের দ্বারে উপস্থিত হয়েছেন। দীর্ঘ সংগীতজীবনে ভাদু গানের মধ্য দিয়ে পথচলা শুরু করা এই শিল্পী ১৯৭২ সালে গানটি রচনা ও সুরারোপ করেন, যা পরবর্তীতে স্বপ্না চৌধুরীর কণ্ঠে প্রথম আত্মপ্রকাশ করে ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করে।
তবে সাম্প্রতিক সময়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের একটি বিশেষ পেজ থেকে গানটির সুর ও কথা বিকৃত করে প্রচার করা হচ্ছে, যেখানে মূল রচয়িতা হিসেবে রতন কাহারের নামটি সম্পূর্ণ গায়েব করে দেওয়া হয়েছে। (News copied from- 'হিন্দুস নিউজ') এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে শিল্পীর ছেলে দেবাশিস কাহার জানান যে, লোকশিল্পীদের বছরের পর বছর ধরে সৃষ্টিশীল কাজের সঠিক মর্যাদা না দেওয়া এবং তাঁদের অবমূল্যায়ন করার সংস্কৃতি বন্ধ হওয়া জরুরি।
ইতিপূর্বেও ২০২০ সালে বলিউডের এক র্যাপারের মাধ্যমে গানটির অপব্যবহার নিয়ে বিশ্বজুড়ে বিতর্ক তৈরি হলে তীব্র প্রতিবাদ উঠেছিল, যা পরবর্তীকালে সেই র্যাপারের প্রকাশ্য ক্ষমা প্রার্থনা ও আর্থিক সহায়তার মাধ্যমে নিষ্পত্তি পায়। তবে বারবার ঐতিহ্যবাহী লোকশিল্প ও প্রান্তিক শিল্পীদের অধিকার হরণের এই অপচেষ্টা কেবল একজন শিল্পীর ওপর আঘাত নয়, বরং সমগ্র বাংলা ও সনাতনী লোকসংস্কৃতির ওপর অন্যায্য হস্তক্ষেপ। সম্মান ও পদ্মশ্রী স্বীকৃতি পাওয়ার পরও আর্থিক অনটনের সঙ্গে লড়াই করা এই প্রবীণ শিল্পীর আইনি লড়াই এখন দেশের সর্বস্তরের অধিকার সচেতন মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।
মতামত