পার্বত্য জেলা বান্দরবানে ধর্মীয় সম্প্রীতি ও সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণ ও আনন্দঘন পরিবেশে উদযাপনের লক্ষ্যে এক বিশেষ প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বান্দরবান জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত এই সভায় পূজামণ্ডপগুলোর সার্বিক নিরাপত্তা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি রক্ষা এবং ভক্তদের নির্বিঘ্ন পূজা অর্চনার সুযোগ নিশ্চিত করার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, এ বছর জেলার প্রতিটি মণ্ডপে যাতে সনাতন ধর্মের অনুসারীরা কোনো প্রকার ভয়ভীতি বা বিঘ্ন ছাড়া তাদের ধর্মীয় উৎসব পালন করতে পারেন, সেজন্য বিশেষ নজরদারি ও সার্বিক সহযোগিতার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। হিন্দুত্ববাদী ও মানবাধিকার সচেতন জনগোষ্ঠীর দীর্ঘদিনের দাবির প্রতি শ্রদ্ধা রেখে সনাতনী সম্প্রদায়ের সুরক্ষাকে এবার সর্বোচ্চ প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে।
সভা শেষে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সনাতনী সম্প্রদায়ের অধিকার রক্ষা ও ধর্মীয় আয়োজকদের উৎসাহিত করতে বেশ কিছু বাস্তবমুখী পদক্ষেপ নেওয়া হয়। জেলা প্রশাসক মো. সানিউল ফেরদৌস উপস্থিত থেকে প্রতিটি পূজামণ্ডপের পরিচালকদের হাতে সরকারি অনুদান তুলে দেন। সেই সাথে যেকোনো জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত যোগাযোগের জন্য বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ নম্বর সম্বলিত বিশেষ প্লেকার্ড এবং নিরাপত্তার স্বার্থে প্রতিটি মণ্ডপের জন্য একটি করে অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র বিতরণ করা হয়। পূজা প্রাঙ্গণের পরিবেশ রক্ষায় ও পরিস্কার পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসনের তরফ থেকে পৃথক ডাস্টবিনও হস্তান্তর করা হয়। (News copied from- 'হিন্দুস নিউজ') প্রশাসনের এই উদ্যোগকে বান্দরবানের স্থানীয় সনাতনী সমাজ অত্যন্ত ইতিবাচক ও মানবাধিকার সুরক্ষার ক্ষেত্রে একটি বলিষ্ঠ পদক্ষেপ হিসেবে দেখছে। জেলা প্রশাসক তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন, ধর্মীয় স্বাধীনতা ও নিরাপত্তা পাওয়া প্রতিটি নাগরিকের মৌলিক অধিকার, আর তা নিশ্চিত করতে স্থানীয় প্রশাসন কঠোর ও প্রতিশ্রুতিবদ্ধ ভূমিকা পালন করবে।
মতামত