হিন্দুস নিউজ

গণপতি চক্রবর্তী হত্যা মামলায় দুই আসামির ডিএনএ মিলল


নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
| প্রিন্ট সংস্করণ

গণপতি চক্রবর্তী হত্যা মামলায় দুই আসামির ডিএনএ মিলল
Hindus News Voice of Hinduism
আপনার পণ্য ও প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিন Hindus News এ।

রংপুর মহানগরীর মাছুয়া পাড়ায় অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীসহ একই পরিবারের চারজনকে হত্যার ঘটনায় তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ ফরেনসিক অগ্রগতি হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে জব্দ করা কামড় দেওয়া খেজুর, শসা, সিগারেট ও খেজুরের বিচির নমুনায় গ্রেপ্তার দুই আসামি সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাসের ডিএনএর সঙ্গে মিল পাওয়া গেছে। বৃহস্পতিবার ৮ অক্টোবর সন্ধ্যায় বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রংপুর সিআইডির পুলিশ সুপার সুমিত চৌধুরী।

রংপুর মহানগরীর ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের মাছুয়া পাড়ায় গণপতি চক্রবর্তীর বাড়ি থেকে গত ২২ আগস্ট রাতে তাঁর পরিবারের চার সদস্যের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহতরা হলেন রংপুর জিলা স্কুলের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তাঁর স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী, মেয়ে আগামী চক্রবর্তী ও ছেলে প্রিয়ম চক্রবর্তী। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দুই দিন যোগাযোগ না হওয়া এবং বাড়ি থেকে দুর্গন্ধ বের হওয়ার পর স্বজনেরা বিষয়টি জানতে পারেন। পরে পুলিশ গিয়ে চারজনের মরদেহ উদ্ধার করে।

ঘটনার পর পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে বিপুলসংখ্যক আলামত সংগ্রহ করে। এর মধ্যে ছিল সিগারেটের অংশ, খেজুর, শসা, ফল কাটার চাকু, ইয়াবা সেবনের সরঞ্জাম, বেসিনের দাগসহ অন্তত ৩৫ ধরনের আলামত। এসব আলামতের একটি অংশ ঢাকার সিআইডির ফরেনসিক পরীক্ষাগারে পাঠানো হয়।

তদন্তে উঠে আসে, হত্যাকাণ্ডের পরও মুগ্ধ দাস ও সিদ্ধার্থ দাস কিছু সময় গণপতি চক্রবর্তীর বাড়িতে অবস্থান করেছিলেন। তারা সেখানে গোসল করেন এবং ঘরের ফ্রিজ থেকে খেজুর ও শসা বের করে খান। পরে বাড়ির বিভিন্ন কক্ষ তছনছ করে স্বর্ণালংকার ও টাকা নিয়ে যাওয়ার অভিযোগও তদন্তে সামনে আসে।

ঘটনাস্থলে পাওয়া কামড় দেওয়া শসা, খেজুর ও খেজুরের বিচি শুরু থেকেই তদন্তকারীদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ আলামত ছিল। পাশাপাশি সেখানে পাওয়া সিগারেটের অংশসহ বিভিন্ন জৈব ও বস্তুগত নমুনাও ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়। পরে গ্রেপ্তার দুই আসামির ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করে এসব আলামতের সঙ্গে তুলনা করা হয়।

সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে ডিএনএ পরীক্ষার নমুনা সংগ্রহের জন্য সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাসকে ঢাকায় নেওয়া হয়। তদন্তকারীরা জানিয়েছিলেন, ফরেনসিক পরীক্ষার মাধ্যমে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে তাদের সংশ্লিষ্টতা বৈজ্ঞানিকভাবে যাচাই করা হবে। পরীক্ষার ফলাফলে এখন ঘটনাস্থলের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ আলামতের সঙ্গে তাদের ডিএনএর মিল পাওয়ার তথ্য সামনে এসেছে।

এই মামলায় গ্রেপ্তারের পর মুগ্ধ দাস ও সিদ্ধার্থ দাস আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন। পুলিশ জানিয়েছে, তাদের জবানবন্দিতে হত্যাকাণ্ড সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। পরে তদন্তকারীরা আসামিদের বক্তব্যের সঙ্গে ঘটনাস্থলের আলামত, ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন এবং অন্যান্য ফরেনসিক তথ্য মিলিয়ে দেখার কাজ শুরু করেন।

তদন্তের প্রাথমিক পর্যায়ে পুলিশ জানিয়েছিল, হত্যাকাণ্ডের আগে গণপতি চক্রবর্তীর বাড়ির ছাদে মুগ্ধ ও সিদ্ধার্থের অবস্থান এবং সেখানে ইয়াবা সেবন নিয়ে বিরোধের সূত্র ধরে হত্যাকাণ্ড ঘটে থাকতে পারে। পরে হত্যার পর বাড়ির ভেতরে তাদের অবস্থান, বিভিন্ন কক্ষ তছনছ এবং স্বর্ণালংকার ও টাকা নিয়ে যাওয়ার তথ্যও তদন্তে যুক্ত হয়।

নতুন এই ডিএনএ মিল তদন্তকে আরও শক্তিশালী করেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। বিশেষ করে ঘটনাস্থলে পাওয়া ও ব্যবহৃত খাদ্যদ্রব্য এবং ধূমপানের আলামতে দুই আসামির ডিএনএ পাওয়া যাওয়ায় হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে তাদের সম্ভাব্য যোগাযোগের একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈজ্ঞানিক সূত্র পাওয়া গেছে।

তবে তদন্তসংশ্লিষ্টরা বলছেন, শুধু ডিএনএ পরীক্ষার ফলের ভিত্তিতে মামলার চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো হবে না। আদালতে অভিযোগ প্রমাণের ক্ষেত্রে ডিএনএ ফলাফলের পাশাপাশি আসামিদের জবানবন্দি, ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন, ঘটনাস্থলের অন্যান্য আলামত, লুট হওয়া সম্পদ উদ্ধারের তথ্য এবং তদন্তে পাওয়া অন্যান্য প্রমাণও বিবেচনা করা হবে।

চারজনকে সপরিবারে হত্যার ঘটনায় শুরু থেকেই রংপুরে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। গণপতি চক্রবর্তী রংপুর জিলা স্কুলের সাবেক শিক্ষক হওয়ায় শিক্ষক-শিক্ষার্থী, বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন ও সাধারণ মানুষের মধ্যেও এ হত্যাকাণ্ড নিয়ে উদ্বেগ ও ক্ষোভ দেখা দেয়। হত্যার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দোষীদের বিচারের দাবিও ওঠে বিভিন্ন মহল থেকে। নতুন ফরেনসিক তথ্যের ভিত্তিতে তদন্ত এখন আরও এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

হিন্দুস নিউজ

শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬


গণপতি চক্রবর্তী হত্যা মামলায় দুই আসামির ডিএনএ মিলল

প্রকাশের তারিখ : ০৮ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

রংপুর মহানগরীর মাছুয়া পাড়ায় অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীসহ একই পরিবারের চারজনকে হত্যার ঘটনায় তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ ফরেনসিক অগ্রগতি হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে জব্দ করা কামড় দেওয়া খেজুর, শসা, সিগারেট ও খেজুরের বিচির নমুনায় গ্রেপ্তার দুই আসামি সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাসের ডিএনএর সঙ্গে মিল পাওয়া গেছে। বৃহস্পতিবার ৮ অক্টোবর সন্ধ্যায় বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রংপুর সিআইডির পুলিশ সুপার সুমিত চৌধুরী।

রংপুর মহানগরীর ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের মাছুয়া পাড়ায় গণপতি চক্রবর্তীর বাড়ি থেকে গত ২২ আগস্ট রাতে তাঁর পরিবারের চার সদস্যের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহতরা হলেন রংপুর জিলা স্কুলের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তাঁর স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী, মেয়ে আগামী চক্রবর্তী ও ছেলে প্রিয়ম চক্রবর্তী। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দুই দিন যোগাযোগ না হওয়া এবং বাড়ি থেকে দুর্গন্ধ বের হওয়ার পর স্বজনেরা বিষয়টি জানতে পারেন। পরে পুলিশ গিয়ে চারজনের মরদেহ উদ্ধার করে।

ঘটনার পর পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে বিপুলসংখ্যক আলামত সংগ্রহ করে। এর মধ্যে ছিল সিগারেটের অংশ, খেজুর, শসা, ফল কাটার চাকু, ইয়াবা সেবনের সরঞ্জাম, বেসিনের দাগসহ অন্তত ৩৫ ধরনের আলামত। এসব আলামতের একটি অংশ ঢাকার সিআইডির ফরেনসিক পরীক্ষাগারে পাঠানো হয়।

তদন্তে উঠে আসে, হত্যাকাণ্ডের পরও মুগ্ধ দাস ও সিদ্ধার্থ দাস কিছু সময় গণপতি চক্রবর্তীর বাড়িতে অবস্থান করেছিলেন। তারা সেখানে গোসল করেন এবং ঘরের ফ্রিজ থেকে খেজুর ও শসা বের করে খান। পরে বাড়ির বিভিন্ন কক্ষ তছনছ করে স্বর্ণালংকার ও টাকা নিয়ে যাওয়ার অভিযোগও তদন্তে সামনে আসে।

ঘটনাস্থলে পাওয়া কামড় দেওয়া শসা, খেজুর ও খেজুরের বিচি শুরু থেকেই তদন্তকারীদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ আলামত ছিল। পাশাপাশি সেখানে পাওয়া সিগারেটের অংশসহ বিভিন্ন জৈব ও বস্তুগত নমুনাও ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়। পরে গ্রেপ্তার দুই আসামির ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করে এসব আলামতের সঙ্গে তুলনা করা হয়।

সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে ডিএনএ পরীক্ষার নমুনা সংগ্রহের জন্য সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাসকে ঢাকায় নেওয়া হয়। তদন্তকারীরা জানিয়েছিলেন, ফরেনসিক পরীক্ষার মাধ্যমে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে তাদের সংশ্লিষ্টতা বৈজ্ঞানিকভাবে যাচাই করা হবে। পরীক্ষার ফলাফলে এখন ঘটনাস্থলের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ আলামতের সঙ্গে তাদের ডিএনএর মিল পাওয়ার তথ্য সামনে এসেছে।

এই মামলায় গ্রেপ্তারের পর মুগ্ধ দাস ও সিদ্ধার্থ দাস আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন। পুলিশ জানিয়েছে, তাদের জবানবন্দিতে হত্যাকাণ্ড সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। পরে তদন্তকারীরা আসামিদের বক্তব্যের সঙ্গে ঘটনাস্থলের আলামত, ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন এবং অন্যান্য ফরেনসিক তথ্য মিলিয়ে দেখার কাজ শুরু করেন।

তদন্তের প্রাথমিক পর্যায়ে পুলিশ জানিয়েছিল, হত্যাকাণ্ডের আগে গণপতি চক্রবর্তীর বাড়ির ছাদে মুগ্ধ ও সিদ্ধার্থের অবস্থান এবং সেখানে ইয়াবা সেবন নিয়ে বিরোধের সূত্র ধরে হত্যাকাণ্ড ঘটে থাকতে পারে। পরে হত্যার পর বাড়ির ভেতরে তাদের অবস্থান, বিভিন্ন কক্ষ তছনছ এবং স্বর্ণালংকার ও টাকা নিয়ে যাওয়ার তথ্যও তদন্তে যুক্ত হয়।

নতুন এই ডিএনএ মিল তদন্তকে আরও শক্তিশালী করেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। বিশেষ করে ঘটনাস্থলে পাওয়া ও ব্যবহৃত খাদ্যদ্রব্য এবং ধূমপানের আলামতে দুই আসামির ডিএনএ পাওয়া যাওয়ায় হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে তাদের সম্ভাব্য যোগাযোগের একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈজ্ঞানিক সূত্র পাওয়া গেছে।

তবে তদন্তসংশ্লিষ্টরা বলছেন, শুধু ডিএনএ পরীক্ষার ফলের ভিত্তিতে মামলার চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো হবে না। আদালতে অভিযোগ প্রমাণের ক্ষেত্রে ডিএনএ ফলাফলের পাশাপাশি আসামিদের জবানবন্দি, ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন, ঘটনাস্থলের অন্যান্য আলামত, লুট হওয়া সম্পদ উদ্ধারের তথ্য এবং তদন্তে পাওয়া অন্যান্য প্রমাণও বিবেচনা করা হবে।

চারজনকে সপরিবারে হত্যার ঘটনায় শুরু থেকেই রংপুরে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। গণপতি চক্রবর্তী রংপুর জিলা স্কুলের সাবেক শিক্ষক হওয়ায় শিক্ষক-শিক্ষার্থী, বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন ও সাধারণ মানুষের মধ্যেও এ হত্যাকাণ্ড নিয়ে উদ্বেগ ও ক্ষোভ দেখা দেয়। হত্যার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দোষীদের বিচারের দাবিও ওঠে বিভিন্ন মহল থেকে। নতুন ফরেনসিক তথ্যের ভিত্তিতে তদন্ত এখন আরও এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।


হিন্দুস নিউজ

প্রকাশক & সম্পাদক: শুভ চন্দ্র দে
HINDUS NEWS মিডিয়া লিমিটেডের পক্ষে প্রকাশক কর্তৃক ঢাকা থেকে প্রকাশিত

প্রকাশক & সম্পাদক: শুভ চন্দ্র দে,🔴HINDUS NEWS মিডিয়া লিমিটেডের পক্ষে প্রকাশক কর্তৃক ঢাকা থেকে প্রকাশিত।🔴যোগাযোগ: +88 01890890920🔴 ই-মেইল: news@hindus.news 🔴 বিজ্ঞাপন: ads@hindus.news
গণপতি চক্রবর্তী হত্যা মামলায় দুই আসামির ডিএনএ মিলল
0:00 0:00
1.0x