রাজধানীর ঐতিহ্যবাহী রমনা কালীমন্দিরসহ দেশের একাধিক মন্দিরে চুরির অভিযোগ ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। নারায়ণগঞ্জের দেওভোগ আখড়া এবং নরসিংদীর একটি কালীমন্দিরেও একই ব্যক্তির বিরুদ্ধে চুরির অভিযোগ তুলেছেন কয়েকজন ফেসবুক ব্যবহারকারী। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা এবং অভিযুক্ত ব্যক্তির পরিচয় স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।
সম্প্রতি রমনা কালীমন্দিরে চুরির অভিযোগ সামনে আসার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন মন্তব্য ছড়িয়ে পড়ে। সেখানে কয়েকজন দাবি করেন, অভিযুক্ত ব্যক্তি এর আগেও দেশের বিভিন্ন মন্দির থেকে মূল্যবান সামগ্রী চুরির সঙ্গে জড়িত ছিলেন।
ফেসবুকে লিখন দত্ত নামে একজন মন্তব্য করেন, কয়েক দিন আগে নারায়ণগঞ্জের দেওভোগ আখড়া থেকে চুরির সময় একজনকে আটক করা হয়েছিল। তাঁর মন্তব্যের জবাবে অপু দেবনাথ নামে আরেক ব্যবহারকারী দাবি করেন, নরসিংদীর একটি মন্দির থেকেও চুরির ঘটনা ঘটেছে।
এ ছাড়া মিঠুন চক্রবর্তী নামে একজন ফেসবুক ব্যবহারকারী অভিযোগ করেন, মাধবদীর বিরামপুর কালীমন্দির থেকেও তিন ভরি স্বর্ণালংকার চুরি হয়েছে। তিনি বিষয়টি তদন্ত করে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে আইনের আওতায় আনার জন্য প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।
এসব মন্তব্যে ক্ষোভ প্রকাশ করে অনেকেই মন্দিরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার এবং চুরির অভিযোগগুলোর সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। একই ব্যক্তির বিরুদ্ধে একাধিক মন্দিরে চুরির অভিযোগ ওঠায় ঘটনাগুলোর মধ্যে কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখার আহ্বান জানিয়েছেন তাঁরা।
বিশেষ করে ধর্মীয় উপাসনালয়ে সংরক্ষিত স্বর্ণালংকার, প্রতিমার অলংকার ও অন্যান্য মূল্যবান সামগ্রীর নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সনাতন ধর্মাবলম্বী কয়েকজন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারী।
পাশাপাশি অভিযুক্ত ব্যক্তি আগে কখনো পুলিশের হাতে আটক হয়েছিলেন কি না এবং আটক হয়ে থাকলে পরবর্তী সময়ে কীভাবে মুক্তি পেয়েছিলেন, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে। তবে পুলিশের বিরুদ্ধে কোনো অনিয়ম কিংবা অভিযুক্ত ব্যক্তিকে বিশেষ সুবিধা দেওয়ার অভিযোগের পক্ষে এখন পর্যন্ত যাচাইযোগ্য প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
মন্দিরে চুরির মতো ঘটনা শুধু সম্পদের ক্ষতিই নয়, ধর্মীয় উপাসনালয়ের নিরাপত্তা এবং ভক্তদের অনুভূতির সঙ্গেও জড়িত। তাই প্রতিটি অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা এবং অপরাধের প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি বলে মনে করছেন উদ্বিগ্ন ভক্তরা।
এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত অভিযোগগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশ, মন্দির কর্তৃপক্ষ কিংবা অভিযুক্ত ব্যক্তির বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অভিযোগগুলোর সত্যতা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য ও তদন্তের তথ্য প্রয়োজন।
Hindus News-এর পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের প্রতি আহ্বান, রমনা কালীমন্দির, নারায়ণগঞ্জের দেওভোগ আখড়া এবং নরসিংদীর মন্দিরে চুরির অভিযোগগুলো নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা প্রকাশ করা হোক। একই সঙ্গে দেশের মন্দিরগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হোক।
ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা রক্ষা এবং অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা সবার প্রত্যাশা। তবে তদন্তের আগে কাউকে অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত করা বা আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া থেকে বিরত থাকাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
মতামত