পাঁচ বছর আগে শারদীয় দুর্গাপূজার মহাঅষ্টমীর রাতে কুমিল্লার ঘটনার জেরে চাঁদপুরের হাজীগঞ্জের রামপুর শ্রীশ্রী গৌর নিতাই মন্দিরে যে তাণ্ডব চালানো হয়েছিল, তার বিচারিক প্রক্রিয়ায় গভীর হতাশা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। গত বুধবার চাঁদপুর চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক শাহাদাতুল হাসান আল মুরাদ এই স্পর্শকাতর মামলার রায় ঘোষণা করেন। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর ঘোষিত এই রায়ে অভিযুক্ত ৫৩ জনের মধ্যে ৫২ জন আসামিয়েই আদালত খালাস দিয়েছেন। অন্যদিকে রাজন নামের মাত্র এক আসামিকে ১৬৪ ধারার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দির ওপর ভিত্তি করে মাত্র ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। রাষ্ট্রের আইন ও বিচার ব্যবস্থার এমন চিত্র সংখ্যালঘু সনাতনী সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচার প্রাপ্তির ওপর বড় ধরনের প্রশ্নচিহ্ন তুলে দিয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০২১ সালের ১৩ অক্টোবর রাতে ১০০ থেকে ১৫০ জনের একদল দুর্বৃত্ত দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে রামপুর শ্রীশ্রী গৌর নিতাই মন্দিরে নারকীয় হামলা চালায়। হামলাকারীরা মন্দিরের পবিত্র প্রতিমা ভাঙচুর করে এবং স্বর্ণালংকার, পূজার প্রয়োজনীয় সামগ্রীসহ দানবাক্সের নগদ অর্থ লুট করে নিয়ে যায়। (News copied from- 'হিন্দুস নিউজ') শুধু উপাসনালয়ে ভাঙচুর ও লুটপাটেই ক্ষান্ত হয়নি দুর্বৃত্তরা, সেখানে উপস্থিত নিরপরাধ ভক্তদের ওপর চালানো হয় অমানুষিক শারীরিক নির্যাতন। ঘটনার পর মন্দির কমিটির সভাপতি পাপন চন্দ্র সাহা বাদী হয়ে হাজীগঞ্জ থানায় অজ্ঞাত পরিচয়ের ২০০ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন। পরবর্তীতে পুলিশ তদন্ত শেষে ৫৩ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র জমা দিলেও আদালত শেষ পর্যন্ত প্রায় সকল আসামিকে দায়মুক্তি দিলেন। যদিও হাজীগঞ্জ উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি রুহি দাস বণিক এ বিষয়ে আইনি বাধ্যবাধকতায় কোনো সরাসরি প্রতিক্রিয়া দেখাননি, তবে সাধারণ সনাতনী জনমনে এখন একটাই প্রশ্ন—সংখ্যালঘুদের ওপর লাগাতার হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের বিচার কি এভাবেই চিরকাল অসম্পূর্ণ থেকে যাবে?
মতামত