হিন্দুস নিউজ
Topic Ads 1
বরিশালে সনাতনী বৃদ্ধার দোকান দখলে হামলা-লুটপাট, বিচার চেয়ে আদালতের দ্বারে আড়াই দশক

বরিশালে সনাতনী বৃদ্ধার দোকান দখলে হামলা-লুটপাট, বিচার চেয়ে আদালতের দ্বারে আড়াই দশক

বরিশালের ঐতিহ্যবাহী চকবাজারের একটি ছোট্ট দোকান—৮০ বছরের বৃদ্ধা মালতী রাণীর জীবনের শেষ সম্বল। আর এই সম্বলটুকুকে আঁকড়ে ধরে বেঁচে থাকার আকুতি নিয়ে দীর্ঘ ২৫টি বছর ধরে আদালতের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন তিনি। বাংলাদেশের সনাতনী সম্প্রদায়ের প্রান্তিক ও অসহায় মানুষের অধিকার রক্ষা ও মৌলিক বিচার পাওয়ার লড়াই কতটা কঠিন, তার এক করুণ ও নৃশংস বাস্তবতার সাক্ষী হয়ে উঠেছে মালতী রাণীর জীবন। দীর্ঘ আড়াই দশক পেরিয়ে গেলেও আজও তিনি ন্যায়বিচারের অপেক্ষায় প্রহর গুনছেন, যখন মামলাটি বর্তমানে বরিশাল সিনিয়র সিভিল কোর্টে বিচারাধীন রয়েছে।​বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে স্থানীয় রাজনৈতিক ক্ষমতার দাপট ও প্রভাব খাটিয়ে মোঃ জামাল হোসেন নোমান এবং তাঁর ভাই মোঃ হুমায়ুন কবির লিংকু দীর্ঘদিন ধরে এই অসহায় সনাতনী বৃদ্ধা ও তাঁর পরিবারের ওপর নির্যাতন চালিয়ে আসছেন। দখলদারিত্বের এই নির্মম ধারাবাহিকতা থেমে থাকেনি; গত ৬ আগস্ট দেশে তৈরি হওয়া অস্থায়ী অস্থিরতার সুযোগ নিয়ে তারা পুনরায় ওই ছোট্ট দোকানটিতে অতর্কিত হামলা, চরম ভাঙচুর এবং ব্যাপক লুটপাট চালায়। জীবন বাজি রেখে এই অন্যায়ের বাধা দিতে গেলে ৮০ বছরের বৃদ্ধা মালতী রাণী, তাঁর কন্যা ও জামাতাকে শারীরিক নির্যাতন ও বেধড়ক মারধর করা হয়, যা সভ্য সমাজে মানবাধিকারের সরাসরি লঙ্ঘন।​আইনের অলিগলি এবং বিচারপ্রক্রিয়াকে ফাঁকি দিতে অভিযুক্তরা অত্যন্ত ধূর্ততার পরিচয় দিয়েছে। তারা ২০০৪ সালের মূল দেওয়ানি মামলার বিষয়টি সম্পূর্ণ গোপন করে উল্টো অসহায় মালতী রাণীর বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের করে। কেবল জেরার নামে আদালতের ১৯টি কার্যদিবস পার করে দিয়ে বিচারপ্রক্রিয়াকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে স্থবির করে রাখা হয়েছে। রাজনৈতিক ক্ষমতার পটপরিবর্তন হলেও এই প্রভাবশালী চক্রের দাপট ও অত্যাচার বিন্দুমাত্র কমেনি। সমস্ত প্রমাণ ও সংবাদ স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় সিনিয়র নেতাদের সামনে তুলে ধরার পরও রহস্যজনকভাবে কোনো প্রশাসনিক বা সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি, উল্টো স্থগিত থাকা পদ ফিরিয়ে দিয়ে তাদের আরও শক্তিশালী করা হয়েছে। (News copied from- 'হিন্দুস নিউজ') ফলে ন্যায়বিচার পাওয়ার পথ রুদ্ধ হয়ে পড়েছে।​আজ অমানবিক বিচারহীনতা, আমলাতান্ত্রিক দীর্ঘসূত্রতা এবং প্রভাবশালী রাজনৈতিক শক্তির বিরুদ্ধে লড়তে লড়তে আশি ছুঁইছুঁই এই সনাতনী বৃদ্ধা জীবনের শেষ প্রান্তে পৌঁছে মৃত্যুশয্যায় শায়িত। একটি স্বাধীন দেশের বিচারব্যবস্থার এমন চরম শ্লথগতি এবং একজন নিরপরাধ হিন্দু বৃদ্ধার ২৫ বছর ধরে তিল তিল করে ক্ষয়ে যাওয়ার মর্মান্তিক চিত্র বরিশালের সচেতন সমাজ ও সাধারণ মানুষকে গভীর স্তব্ধ ও ক্ষুব্ধ করেছে। বিচার বিভাগ ও প্রশাসনের দিকে আজ সুশীল সমাজের একটাই প্রশ্ন—যে ন্যায়বিচার একজন নাগরিকের মৌলিক অধিকার, তা কি তবে এই অসহায় বৃদ্ধার মৃত্যুর পর আসবে?