হিন্দুস নিউজ
Topic Ads 1
খয়েরচারা মাতৃমন্দিরে গভীর রাতে ৩ প্রতিমা ভাঙচুর

খয়েরচারা মাতৃমন্দিরে গভীর রাতে ৩ প্রতিমা ভাঙচুর

শারদীয় দুর্গোৎসবের আনন্দ আর প্রাক-প্রস্তুতির আবহ যখন সনাতন ধর্মাবলম্বী মানুষের ঘরে ঘরে, ঠিক তখনই কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে এক অনাকাঙ্ক্ষিত ও ন্যাক্কারজনক জঘন্য ঘটনার শিকার হয়েছে স্থানীয় একটি মন্দির। সর্বজনীন ধর্মীয় উৎসবের ঠিক আগমুহূর্তে সনাতনী সম্প্রদায়ের ধর্মীয় অনুভূতিতে চরম আঘাত হেনে মধ্যরাতে এই প্রতিমা ভাঙচুরের তাণ্ডব চালায় দুষ্কৃতকারীরা।​সংবাদ সূত্রে জানা যায়, গত ৮ অক্টোবর ২০২৬ বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত দুইটার পর কুষ্টিয়া জেলার কুমারখালী পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের ঐতিহ্যবাহী খয়েরচারা মাতৃমন্দিরে এই বর্বরোচিত হামলা চালানো হয়। রাতের গভীর অন্ধকারে অশুভ উদ্দেশ্যে মন্দিরের সীমানায় প্রবেশ করে দুর্বৃত্তরা দুর্গোৎসব উপলক্ষ্যে নির্মিত নির্মাণাধীন ও প্রস্তুতকৃত তিনটি প্রতিমা ব্যাপকভাবে ভাঙচুর ও ক্ষতিগ্রস্ত করে। (News copied from- 'হিন্দুস নিউজ') সনাতনী সম্প্রদায়ের ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান পালনের অধিকার এবং সকল জাতি ও ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের মৌলিক মানবাধিকার লঙ্ঘনের এই ধিক্কারজনক ঘটনায় স্থানীয় হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের মাঝে চরম ক্ষোভ, আতঙ্ক ও অনিশ্চয়তা সৃষ্টি হয়েছে। সর্বজনীন ধর্মীয় সম্প্রীতি বিনষ্টের এমন অপচেষ্টার বিরুদ্ধে অনতিবিলম্বে দোষীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে সর্বস্তরের সনাতনী ও মানবাধিকার সচেতন নাগরিকেরা।

মির্জাপুরে পূজামণ্ডপের ছয়টি প্রতিমা ভাঙচুরের ঘটনায় গ্রেপ্তার ইসমাইল

টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে দুর্গাপূজার আবহ আবহমান সনাতনী সম্প্রদায়ের উৎসবমুখর পরিবেশকে বিষাদে রূপ দিয়ে পূজামণ্ডপের ছয়টি প্রতিমা ভাঙচুরের নজিরবিহীন ঘটনা ঘটেছে। উপজেলার জামুর্কী ইউনিয়নের জামুর্কী পশ্চিমপাড়া আর্য সমিতির পূজামণ্ডপে গত ৩০ সেপ্টেম্বর রাতে ঘটে যাওয়া এই বর্বরোচিত হামলায় চরম আতঙ্ক ও ক্ষোভে ফুঁসে উঠেছেন স্থানীয় সনাতন ধর্মাবলম্বীরা। পরদিন ১ অক্টোবর মণ্ডপের সভাপতি প্রকাশ বাকালী বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে মির্জাপুর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। পরবর্তীতে ঘটনার গভীর তদন্তে নেমে পুলিশ ইসমাইল হোসেন নামে ৩৫ বছর বয়সী এক যুবককে গ্রেপ্তার করে, যে জামুর্কী পশ্চিমপাড়া গ্রামের কবির মিয়ার ছেলে। গত ৩ অক্টোবর টাঙ্গাইল জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয় থেকে দেওয়া এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে তার নিজ বাড়ি থেকে গ্রেপ্তারের তথ্যটি নিশ্চিত করা হয়েছে। স্থানীয়দের মাঝে 'সাইকো ইসমাইল' নামে পরিচিত এই যুবকের গ্রেপ্তার কেবল একটি অপরাধের সমাধান নয়, বরং এর পেছনে লুকিয়ে থাকা গভীর কোনো ষড়যন্ত্রের দিকেই অঙ্গুলি নির্দেশ করছে। (News copied from- 'হিন্দুস নিউজ') কারণ, প্রায় ছয় মাস আগেও একটি মন্দিরের প্রতিমা ভাঙচুরের অভিযোগে এই একই ইসমাইল পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হয়েছিল। সে সময়ে দায়ের হওয়া মামলায় জামিনে বেরিয়ে এসে আবারো একই ধরনের জঘন্য অপরাধ সংগঠিত করায় অপরাধীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির পাশাপাশি তার পেছনের ইন্দনদাতাদের খুঁজে বের করার জোর দাবি উঠেছে। হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের ধর্মীয় অনুভূতিতে বারবার আঘাত হানা এবং তাদের নিরাপদে ধর্মপালনের সংবিধিবদ্ধ ও মৌলিক মানবাধিকার লঙ্ঘনের এই পুনরাবৃত্তি ঘিরে এখন পুরো মির্জাপুর জুড়ে নানা প্রশ্ন, সন্দেহ ও তীব্র সামাজিক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

মির্জাপুরে পূজামণ্ডপের ছয়টি প্রতিমা ভাঙচুরের ঘটনায় গ্রেপ্তার ইসমাইল

পঞ্চগড়ের আটোয়ারীতে প্রতিমা ভাঙচুরের ও পূজার আগেই প্রতিমাকে বিসর্জন দিয়ে দেয় দুর্বৃত্তর

পঞ্চগড়ের আটোয়ারীতে দুর্গাপূজার প্রতিমা তৈরিকে কেন্দ্র করে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি তৈরি হওয়ায় গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছে ‘সংখ্যালঘু অধিকার আন্দোলন’। পূজা শুরুর আগেই এমন ঘটনা ঘটায় স্থানীয় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ও নিরাপত্তাহীনতা বিরাজ করছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটন করে জড়িয়োদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক আইনি পদক্ষেপ এবং সব নাগরিকের ধর্মীয় স্বাধীনতা ও সমান অধিকার নিশ্চিত করার জোর দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে সংখ্যালঘু অধিকার আন্দোলন জানায়, এটি কেবল পঞ্চগড়ের কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং এটি দেশের সামগ্রিক ধর্মীয় স্বাধীনতা ও সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তার প্রশ্ন। বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, এক অঞ্চলের ঘটনাকে "অন্য কোনো এলাকার বিষয় নয়" ভেবে নীরব থাকার সুযোগ নেই, কারণ অন্যের অধিকার রক্ষা করা নিজের অধিকার সুরক্ষারই অংশ। সংগঠনটি কোনো সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে ঘৃণা বা প্রতিশোধ নয়, বরং নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্তের মাধ্যমে সুবিচার, নিরাপত্তা এবং ভবিষ্যতে এমন অপ্রীতিকর ঘটনা রোধে কার্যকর রাষ্ট্রীয় পদক্ষেপ নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে

পঞ্চগড়ের আটোয়ারীতে প্রতিমা ভাঙচুরের ও পূজার আগেই প্রতিমাকে বিসর্জন দিয়ে দেয় দুর্বৃত্তর

কেন্দুয়ায় দুর্গা মন্দির ভাঙচুর

শারদীয় দুর্গোৎসবের ঠিক প্রাক্কালে নেত্রকোনা-৩ আসনের কেন্দুয়া উপজেলার চিরাং ইউনিয়নের কাশিপুর শীলবাড়ি দুর্গা মন্দিরে এক বর্বর ও ন্যাক্কারজনক ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। রাতের আঁধারে করা এই তাণ্ডবে স্থানীয় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মাঝে গভীর উদ্বেগ, আতঙ্ক ও তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। বছরের পর বছর ধরে নিজ ভূমিতে নিজস্ব ধর্মীয় উৎসব উদযাপনে সনাতনীদের যে নিরাপত্তাহীনতার মধ্য দিয়ে যেতে হচ্ছে, এই ঘটনা তারই এক করুণ ও বাস্তব প্রতিফলন। উৎসবের মুখে সার্বজনীন মণ্ডপে এ ধরনের হীন হামলা কেবল একটি সম্প্রদায়ের ওপর আঘাত নয়, বরং মৌলিক মানবাধিকারে জোরপূর্বক হস্তক্ষেপরই নামান্তর। যেকোনো স্বাধীন ও সার্বভৌম সমাজে প্রতিটি নাগরিকের নিজ নিজ ধর্মীয় অনুষ্ঠান শান্তিতে ও নিরাপদে পালন করার মৌলিক অধিকার রয়েছে, যা কোনোভাবেই ছিনিয়ে নেওয়া যায় না।​(News copied from- 'হিন্দুস নিউজ')​এই ন্যক্কারজনক ঘটনার নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্ত নিশ্চিত করে অপরাধীদের অবিলম্বে শনাক্ত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনার জোর দাবি উঠেছে। এলাকার সাংসদ জনাব রফিকুল ইসলাম হিলালী এবং স্থানীয় প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানানো হচ্ছে, কেবল আশ্বাস নয়—প্রকৃত দোষীদের আইনের আওতায় এনে তাদের কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। আগামী দুর্গোৎসবকে কেন্দ্র করে সকল মন্দির ও প্রতিমার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এখন থেকেই সর্বোচ্চ কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা জরুরি। যদি সনাতনীদের নিরাপত্তা প্রদানে ও হামলাকারীদের বিচারে কোনো ধরনের শিথিলতা প্রদর্শন করা হয়, তবে এর জবাবদিহিতা স্থানীয় প্রশাসন ও নেতৃবৃন্দের কেউই এড়াতে পারবেন না। ধর্মীয় সংখ্যালঘু ও সকল জাতির অধিকার রক্ষায় স্থান, কাল ও রাজনৈতিক পরিচয় ভুলে স্থানীয় সর্বস্তরের জনসাধারণকে এই সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে একজোট হয়ে রুখে দাঁড়ানোর আহ্বান জানানো হচ্ছে।

কেন্দুয়ায় দুর্গা মন্দির ভাঙচুর

টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে আর্য্য সমিতি পূজামণ্ডপে প্রতিমা ভাঙচুর

টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার জামুর্কীতে অবস্থিত ঐতিহাসিক আর্য্য সমিতি সর্বজনীন দুর্গোৎসব মণ্ডপে প্রতিমা ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়সহ সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে আর্য্য সমিতি মণ্ডপে প্রতিমা তৈরির কাজ চলছিল। গভীর রাতে একদল দুষ্কৃতকারী মণ্ডপে প্রবেশ করে নির্মাণাধীন প্রতিমাগুলোর বিভিন্ন অংশ ভাঙচুর করে পালিয়ে যায়। সকালে আয়োজকরা মণ্ডপে এসে প্রতিমা ক্ষতিগ্রস্ত অবস্থায় দেখতে পান এবং বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশ ও উপজেলা প্রশাসনকে অবহিত করেন।ঘটনার খবর পেয়ে মির্জাপুর থানা পুলিশ এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত শুরু হয়েছে এবং সিসিটিভি ফুটেজ পর্যবেক্ষণসহ স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জড়িতদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে।মণ্ডপ পরিচালনা কমিটির নেতৃবৃন্দ ও স্থানীয় বাসিন্দারা ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে দ্রুত দোষীদের গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।

টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে আর্য্য সমিতি পূজামণ্ডপে প্রতিমা ভাঙচুর

সেপ্টেম্বর জুড়ে সনাতনীদের অব্যাহত হত্যা, হামলা ও মন্দির ভাঙচুরের পরিসংখ্যান

বাংলাদেশে সনাতনী হিন্দু ও অন্যান্য সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর পরিকল্পিত হয়রানি, নির্যাতন ও নিরাপত্তার চরম সংকট ক্রমেই ঘনীভূত হচ্ছে। অতি সম্প্রতি প্রকাশিত একটি উদ্বেগজনক নথিতে দেখা গেছে, ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর মাসেই দেশের বিভিন্ন প্রান্তে সংখ্যালঘুদের ওপর অন্তত ৫০টি পৃথক নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে। Sanatani Research & IT Ltd.-এর সার্বিক তত্ত্বাবধানে 'SAMIDH' কর্তৃক প্রস্তুতকৃত "Fact Sheet on Minority Persecution"-এ এই শিউরে ওঠার মতো চিত্র উঠে এসেছে। নথিতে প্রদর্শিত তথ্য ও পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, বর্তমানে দেশের হিন্দু ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মৌলিক মানবাধিকার এবং অস্তিত্ব মারাত্মক হুমকির মুখোমুখি।​সেপ্টেম্বর মাসের এই সামগ্রিক নথিতে সবচেয়ে বেদনার বিষয় হলো জীবনহানির ঘটনা। এক মাসের ব্যবধানেই কেবল ধর্মীয় ও জাতিগত পরিচয়ের কারণে ৯ জন নিরীহ মানুষকে হত্যা করা হয়েছে। একই সঙ্গে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রাণকেন্দ্র ও বিশ্বাসের প্রতীক পবিত্র উপাসনালয়গুলোর ওপরও চলেছে নৃশংস তাণ্ডব। এক মাসেই ৮টি মন্দির ভাঙচুর ও অপবিত্র করা হয়েছে, যা সনাতনী আত্মপরিচয়ের ওপর চরম আঘাত। এছাড়া দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সন্ত্রাসী হামলা ঘটেছে ৯টি, চুরি ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে ৯টি এবং শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন ৩ জন। এমনকি প্রকাশ্যে বন্দুক উঁচিয়ে গুলিবর্ষণের ২টি ঘটনা এবং ১টি অপহরণের তথ্য নথিভুক্ত করা হয়েছে।​নিরাপত্তাহীনতা ও অধিকার লঙ্ঘনের এই সার্বিক প্রেক্ষাপটে অর্থনৈতিক ও ধর্মীয় স্বাধীনতার ওপরও চরম আঘাত আনা হচ্ছে। জমি জোরপূর্বক দখলের ২টি এবং চাঁদাবাজির ২টি ঘটনা সরাসরি সংখ্যালঘুদের অর্থনৈতিক ভিত্তি দুর্বল করে দেওয়ার অপচেষ্টাকে নির্দেশ করে। পাশাপাশি ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানার ৩টি এবং ধর্ম অবমাননার ২টি ঘটনা সনাতনীদের মধ্যে সার্বিক আতঙ্ক ও অসন্তোষ সৃষ্টি করেছে। (News copied from- 'হিন্দুস নিউজ') এই সব তথ্য কোনো বিচ্ছিন্ন বা আকস্মিক অপরাধের অংশ নয়, বরং দেশের একাধিক অঞ্চলে ছড়িয়ে থাকা এসব ঘটনার ধরন থেকে স্পষ্ট বোঝা যায় যে, সংখ্যালঘুদের টার্গেট করে ভয়ভীতি প্রদর্শন ও উৎখাতের একটি ধারাবাহিক নকশা ক্রিয়াশীল রয়েছে। দুর্বল আইন প্রয়োগ, রাজনৈতিক ছত্রছায়া, অর্থনৈতিক ভঙ্গুরতা এবং উগ্র সাম্প্রদায়িক মনোভাবই এই সংকটকে দিন দিন আরও গভীর করে তুলছে।​পূর্ববর্তী মাসের তুলনামূলক চিত্র পর্যালোচনা করলেও পরিস্থিতি শিহরণ জাগানিয়া। আগস্ট ও সেপ্টেম্বরের শুরুতে টাঙ্গাইল ও মাদারীপুর সহ বিভিন্ন জেলায় মন্দির ও দেব-দেবী প্রতিমা ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছিল, যা সনাতনী সমাজকে গভীরভাবে ব্যথিত ও আতঙ্কিত করেছে। নথির তথ্যানুযায়ী, কেবল ভৌগোলিক বা বস্তুগত ক্ষতি নয়, বরং এই নিপীড়ন মানবতাবোধ ও সকল জাতির মানবাধিকারের মূল ভিত্তিতে আঘাত হানছে। ফলে অনেকেই নিজেদের ভিটামাটি ছাড়তে বাধ্য হচ্ছেন এবং সামাজিক ও ধর্মীয় স্বাধীনতা মারাত্মকভাবে সংকুচিত হচ্ছে। প্রসেনজিৎ কুমার হালদারের সম্পাদনা, দেবব্রত সরকারের দায়িত্বশীল তদারকি এবং নিরব সরকারের তথ্য বিশ্লেষণে তৈরি এই প্রতিবেদনে স্পষ্ট বলা হয়েছে যে, রাষ্ট্র ও নাগরিক সমাজকে অনতিবিলম্বে এই অরাজকতা প্রতিরোধে এগিয়ে আসতে হবে। সংখ্যালঘুদের সম্পত্তির অধিকার নিশ্চিতকরণ, দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদান এবং জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠার মাধ্যমেই কেবল এই মানবাধিকার সংকট থেকে মুক্তির পথ উন্মোচিত হতে পারে।

সেপ্টেম্বর জুড়ে সনাতনীদের অব্যাহত হত্যা, হামলা ও মন্দির ভাঙচুরের পরিসংখ্যান

৫ লাখ টাকা চাঁদার দাবিতে সনাতনী প্রবাসীর বাড়ীতে বোমাবাজি-হামলা ও প্রাণনাশের হুমকি

রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলার মৌরাট ইউনিয়নের মৌরাট গ্রামের ঋষিপাড়ায় এক সনাতন ধর্মাবলম্বী প্রবাসীর বাড়িতে চাঁদার দাবিতে মধ্যরাতে হামলা, ব্যাপক ভাঙচুর ও বোমাবাজির গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রবীন ও অসহায় সুশীল ঋষির বসতবাড়িতে সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে একদল দুর্বৃত্ত হামলা চালায়। এ সময় বাড়িতে অবস্থানরত নারী ও শিশুদের ভয়ভীতি দেখিয়ে দুর্বৃত্তরা নগদ টাকা, স্বর্ণালংকার ও মূল্যবান বিদেশি লাইট লুট করে নিয়ে যায়। আকস্মিক বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ও ভাঙচুরের ঘটনায় পুরো ঋষিপাড়ার নিরিহ সনাতনী পরিবারের মধ্যে চরম আতঙ্কের সৃষ্টি হয়।​ভুক্তভোগী সুশীল ঋষি জানান, এর আগে প্রায় ১৫ দিন আগেও একইভাবে তার বাড়িতে হামলা চালিয়ে দুর্বৃত্তরা দুই লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেছিল। চাঁদার টাকা না দেওয়ায় আবারও তারা ক্ষিপ্ত হয়ে এই নৃশংস হামলা ও লুটপাট চালায়। সুশীল ঋষির অভিযোগ, একই গ্রামের খিরোদের সঙ্গে তার দীর্ঘদিন ধরে জমি-সংক্রান্ত ও সামাজিক বিরোধ চলে আসছে এবং তার প্রত্যক্ষ ইন্ধনেই বারবার তাদের বাড়িতে এই ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালানো হচ্ছে। (News copied from- 'হিন্দুস নিউজ') প্রবাসীর মেয়ে অর্পণা ঋষি কান্নাজড়িত কণ্ঠে জানান, প্রবাসে থাকা তার দুই ভাইকে ফোন করে দুর্বৃত্তরা পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা চেয়েছে এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে টাকা না দিলে তাদের বৃদ্ধ বাবাকে প্রাণনাশের প্রকা‌শ্য হুমকি দেওয়া হয়েছে।​ঘটনার খবর পেয়ে রাতেই পাংশা মডেল থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। তবে ঘটনার বিষয়ে পাংশা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শেখ মইনূল ইসলাম জানান, পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়েছিল, কিন্তু প্রাথমিক তদন্তে ডাকাতির ঘটনা ঘটেনি বলে মনে হচ্ছে। তিনি বিষয়টিকে জমি-সংক্রান্ত বিরোধ হিসেবে দেখছেন এবং ভুক্তভোগী পরিবারকে লিখিত অভিযোগ দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। অন্যদিকে, পুলিশের এই ধরনের শিথিল ভূমিকায় ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেছেন স্থানীয় সনাতনী সম্প্রদায়ের নেতৃবৃন্দ। বারবার প্রান্তিক ও সংখ্যালঘু পরিবারের ওপর এমন হামলায় এলাকায় গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। মানবাধিকারকর্মী ও স্থানীয় বাসিন্দারা অবিলম্বে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দোষীদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

৫ লাখ টাকা চাঁদার দাবিতে সনাতনী প্রবাসীর বাড়ীতে বোমাবাজি-হামলা ও প্রাণনাশের হুমকি

রামু ট্র্যাজেডির ১৪ বছর: বিচারহীনতার দীর্ঘ ছায়ায় ক্ষুব্ধ ও শঙ্কিত

কক্সবাজারের রামুতে বৌদ্ধ বিহার ও বসতিতে সংঘটিত নারকীয় তাণ্ডবের দীর্ঘ ১৪ বছর অতিবাহিত হলেও বিচার প্রক্রিয়ার কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি না হওয়ায় স্থানীয় ধর্মীয় সংখ্যালঘু বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের মধ্যে গভীর ক্ষোভ, হতাশা ও বিচারহীনতার আতঙ্ক বিরাজ করছে। ২০১২ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর রাতে এক বৌদ্ধ যুবকের বিরুদ্ধে ধর্মীয় অবমাননার মিথ্যা অভিযোগ তুলে রাতের অন্ধকারে রামুর ১২টি দৃষ্টিনন্দন বৌদ্ধ বিহার এবং ৩০টি বসতঘরে নৃশংস হামলা, ব্যাপক লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ চালানো হয়। একই সময়ে উখিয়া ও টেকনাফেও ছড়িয়ে পড়া এই সহিংসতায় আরো সাতটি বৌদ্ধ বিহার ও ১১টি বসতঘর পুড়িয়ে ছারখার করা হয়, যেখানে আরো শতাধিক ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। ক্ষতিগ্রস্ত উপাসনালয় ও ঘরবাড়ি পুনর্নির্মাণ করা হলেও এবং বাহ্যিক সম্প্রীতির আবহ তৈরি হলেও মূল অপরাধীরা এখনো শাস্তি না পাওয়ায় সংক্ষুব্ধ জনগোষ্ঠীর মনের ক্ষত একটুও শুকায়নি।​বাঙালি সনাতনী ও অসাম্প্রদায়িক ধারার সুরক্ষায় নিবেদিত অংশ হিসেবে উল্লেখ্য যে, দেশে যেকোনো ধর্মীয় বা জাতিগত সংখ্যালঘুদের অধিকার ও নিরাপত্তার প্রশ্নটি সর্বদা মৌলিক মানবাধিকারের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। এই সহিংসতার পর পুলিশ এজাহারভুক্ত ৩৭৮ জনসহ অজ্ঞাতনামা সাড়ে ১৫ হাজারেরও বেশি মানুষের বিরুদ্ধে ২০টি মামলা দায়ের করে এবং ৯৩৬ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে। তবে দীর্ঘদিন অতিবাহিত হলেও মাত্র একটি মামলা আপোসে নিষ্পত্তি ছাড়া বাকি মামলাগুলোর বিচারকাজ প্রায় স্থবির হয়ে আছে। (News copied from- 'হিন্দুস নিউজ') স্থানীয় প্রবীণ ও ধর্মীয় প্রতিনিধিরা অভিযোগ তুলেছেন যে, পুলিশের দায়ের করা এসব মামলায় মূল অপরাধীদের বাদ দিয়ে নিরপরাধ বহু মানুষকে জড়ানো হয়েছে এবং সঠিক প্রমাণের অভাব দেখিয়ে কিংবা সাক্ষীদের অনিয়মের অজুহাতে বিচারপ্রক্রিয়া ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। বিচারসংশ্লিষ্টদের একাংশ সাক্ষীর অনুপস্থিতিকে কারণ হিসেবে দেখালেও ভুক্তভোগীদের দাবি, হামলার সময়কার ছবি ও ভিডিওচিত্রগুলোকে ডিজিটাল সাক্ষ্য হিসেবে ব্যবহার করলেই সঠিক বিচার পাওয়া সম্ভব হতো।​ঐতিহাসিক রামু ট্র্যাজেডির ১৪তম বর্ষপূর্তিতে রামু বুড্ডিস্ট সোশ্যাল মুভমেন্ট বুদ্ধ উপাসনা, চিত্র প্রদর্শনী ও প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শনের মতো কর্মসূচির মাধ্যমে দিনটিকে স্মরণ করার পাশাপাশি ঘটনার পুনস্তদন্ত ও সরকারি নিরাপত্তা জোরদারের দাবি জানিয়েছে। স্থানীয় প্রবীণ ধর্মীয় গুরু শীলপ্রিয় মহাথের ও বৌদ্ধ নেতাদের মতে, বিচারহীনতার এই সংস্কৃতি কেবল রাষ্ট্রের জন্য লজ্জাজনক নয়, বরং ভবিষ্যতে অন্যান্য সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর সুরক্ষাকেও প্রশ্নবিদ্ধ করে। যেকোনো অসাম্প্রদায়িক রাষ্ট্রে ধর্মীয় উপাসনালয়ে হামলার প্রকৃত অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা না গেলে সব জাতির মানবাধিকার রক্ষা অধরাই থেকে যাবে, তাই অবিলম্বে রামু ট্র্যাজেডির নিরপেক্ষ ও দ্রুত বিচার সম্পন্ন করাই এখন সময়ের দাবি।

রামু ট্র্যাজেডির ১৪ বছর: বিচারহীনতার দীর্ঘ ছায়ায় ক্ষুব্ধ ও শঙ্কিত

দেবীগঞ্জে দুর্গাপূজার প্রতিমা ভাঙচুর, সনাতনীদের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ

পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ উপজেলার গালান্ডী বাজার এলাকায় আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে তৈরি করা প্রতিমা ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। গতকাল দিবাগত রাতে দুর্বৃত্তরা পূজামণ্ডপে প্রবেশ করে প্রতিমাগুলো ভাঙচুর করে বলে জানা গেছে।ভাঙচুরের ঘটনায় পূজার জন্য প্রস্তুত করা প্রতিমাগুলো ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ ঘটনায় স্থানীয় সনাতনী সম্প্রদায়ের মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। তারা ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার পাশাপাশি দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।ঘটনার পর বিষয়টি প্রশাসনের নজরে আনার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। আসন্ন দুর্গাপূজাকে সামনে রেখে পূজামণ্ডপ ও প্রতিমার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।ইতোমধ্যে পুলিশ ও সিআইডির সদস্যরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। তারা ঘটনাটি তদন্ত করছেন বলে জানা গেছে। তবে কারা এবং কী উদ্দেশ্যে প্রতিমা ভাঙচুর করেছে, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সনাতনীরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি দুর্গাপূজা নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করতে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারের আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

দেবীগঞ্জে দুর্গাপূজার প্রতিমা ভাঙচুর, সনাতনীদের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ

বাগেরহাটে কালীমন্দিরের প্রতিমা ভাঙচুর, মাথা কেটে দিল দুর্বত্তরা

বাগেরহাট সদর উপজেলার খাড়াসম্বল গ্রামের দক্ষিণপাড়া সর্বজনীন শ্রীশ্রী কালী মন্দিরে কালী প্রতিমা ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। প্রতিমার বিভিন্ন অংশ ভাঙচুরের পাশাপাশি মাথাও কেটে ফেলা হয়েছে বলে জানিয়েছেন মন্দির সংশ্লিষ্টরা।সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সাপ্তাহিক পূজার আয়োজনের প্রস্তুতি নিতে স্থানীয়রা মন্দিরে গেলে ভাঙচুর করা অবস্থায় প্রতিমাটি পড়ে থাকতে দেখেন। পরে বিষয়টি জানাজানি হলে মন্দির সংশ্লিষ্টরা ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রতিমাটি ভাঙচুরের বিষয়টি দেখতে পান।খবর পেয়ে সোমবার সন্ধ্যায় বাগেরহাট সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও থানা পুলিশের সদস্যরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তবে মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) বিকেল পর্যন্ত প্রতিমা ভাঙচুরের ঘটনায় জড়িত কাউকে শনাক্ত বা আটক করা সম্ভব হয়নি।খাড়াসম্বল দক্ষিণপাড়া সর্বজনীন শ্রীশ্রী কালী মন্দিরের সাধারণ সম্পাদক সর্বজিৎ হালাদার জানান, প্রতি মঙ্গলবার মন্দিরে কালীপূজা অনুষ্ঠিত হয়। পূজার প্রস্তুতির জন্য সোমবার দুপুরের দিকে তাদের পরিবারের দুই সদস্য মন্দিরে যান। সেখানে গিয়ে তারা দেখতে পান, মা কালীর প্রতিমাটি বিভিন্নভাবে ভাঙচুর করা হয়েছে। এমনকি প্রতিমার মাথাও কেটে ফেলা হয়েছে।তিনি বলেন, খবর পেয়ে দ্রুত মন্দির সংশ্লিষ্টরা সেখানে গিয়ে ভাঙচুর করা অবস্থায় প্রতিমাটি পড়ে থাকতে দেখেন। তবে কারা বা কী কারণে প্রতিমাটি ভাঙচুর করেছে, সে বিষয়ে তারা নিশ্চিত নন।ঘটনার পর স্থানীয় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

বাগেরহাটে কালীমন্দিরের প্রতিমা ভাঙচুর, মাথা কেটে দিল দুর্বত্তরা

রাজবাড়ীতে দুর্গাপূজার আগে প্রতিমা ভাঙচুর

রাজবাড়ীর সদর উপজেলায় দুর্গাপূজার আগে একটি পূজামণ্ডপে দেবী দুর্গা ও সরস্বতীর প্রতিমা ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার বানিবহের বড়বাজার দুর্গামণ্ডপে এ ঘটনা ঘটে। এতে স্থানীয় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) ঘটনার বিষয়ে বড়বাজার দুর্গামণ্ডপের সভাপতি অরুণ কুন্ডুর সঙ্গে কথা হলে তিনি জানান, সোমবার রাত পৌনে ১০টার দিকে মণ্ডপের ভেতর থেকে কোদাল আনতে গেলে প্রতিমা ভাঙচুরের বিষয়টি তাদের নজরে আসে।অরুণ কুন্ডু বলেন, মণ্ডপের মূল ফটকে বাইরে থেকে তালা লাগানোই ছিল। প্রতিমা ভাঙার ধরন দেখে তাদের ধারণা, বাইরে থেকে কেউ লাঠি দিয়ে খোঁচা মেরে প্রতিমার মুখ ভেঙে দিয়েছে। তবে কারা বা কী উদ্দেশ্যে এ ঘটনা ঘটিয়েছে, তা তারা নিশ্চিতভাবে বলতে পারেননি।ঘটনার পর বিষয়টি পুলিশকে জানানো হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে এবং ঘটনার কারণ ও জড়িতদের শনাক্ত করতে তদন্ত শুরু করেছে।স্থানীয়রা জানান, বানিবহের বড়বাজার দুর্গামণ্ডপে প্রায় ১৫০ বছর ধরে দুর্গাপূজা হয়ে আসছে। দীর্ঘদিনের ঐতিহ্যবাহী এই পূজামণ্ডপে পূজার প্রস্তুতির মধ্যে প্রতিমা ভাঙচুরের ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।মণ্ডপের সভাপতি অরুণ কুন্ডু এ ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করে দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করার দাবি জানিয়েছেন।এদিকে প্রতিমা ভাঙচুরের ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন রাজবাড়ী হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান কল্যাণ ফ্রন্টের আহ্বায়ক অশোক সরকার। তিনি বলেন, যারা শান্তিপ্রিয় রাজবাড়ীকে অশান্ত করার চেষ্টা করছে, তাদের দ্রুত খুঁজে বের করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনতে হবে। ভবিষ্যতে যাতে কেউ এ ধরনের ঘটনা ঘটানোর সাহস না পায়, সে জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানান তিনি।

রাজবাড়ীতে দুর্গাপূজার আগে প্রতিমা ভাঙচুর